মেক্সিকো থেকে কিউবার দিকে তেলের প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বীপ রাষ্ট্রটি নতুন করে গভীর জ্বালানি সঙ্কটে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কিউবার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সহায়তাকারীদের একটি ছিল মেক্সিকো। কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেই সহায়তা নেমে এসেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়।
মার্কিন নির্বাহী আদেশ ও মেক্সিকোর পিছু হটা
চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এই আদেশের আওতায় কিউবায় তেল রপ্তানি করে এমন যেকোনো দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে নীরব আলোচনার পর মেক্সিকো কিউবায় তেল পাঠানো স্থগিত করে। মেক্সিকোর সর্বশেষ চালান জানুয়ারির শুরুতেই কিউবায় পৌঁছেছিল, এরপর আর বড় কোনো সরবরাহ হয়নি।
ভেনেজুয়েলার সরবরাহ বন্ধ, সঙ্কট আরও ঘনীভূত
কিউবার আরেক প্রধান জ্বালানি উৎস ছিল ভেনেজুয়েলা। কিন্তু জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে দেশটির শাসক নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর সেখান থেকেও তেল পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কিউবার দৈনিক যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণের বাস্তব কোনো বিকল্প আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ ও অর্থনীতিতে সরাসরি আঘাত
কিউবা প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল প্রয়োজন, তার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। দেশটির নিজস্ব উৎপাদন প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম। মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলা থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি যন্ত্র, পরিবহন ব্যবস্থা সবকিছুই মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পুরো ব্যবস্থায় অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে।
মেক্সিকোর অবস্থান ও মানবিক যুক্তি
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম প্রকাশ্যে কিউবাকে তেল পাঠানো পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দেননি। তাঁর ভাষ্য, এই সহায়তা মানবিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির চুক্তির ভিত্তিতেই নেওয়া সিদ্ধান্ত। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত কিউবায় তেল পাঠানোর বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি।
দীর্ঘদিনের অবরোধ ও নতুন চাপ
১৯৬২ সাল থেকে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ চলমান। কিউবার কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো কার্যত সমুদ্র অবরোধের মতো। কিউবার কূটনীতিকদের অভিযোগ, বিপ্লবের পর এতটা তীব্র চাপ আগে কখনো দেখা যায়নি। এই অবস্থায় রাশিয়া বা আলজেরিয়ার মতো দেশগুলো থেকে মাঝে মধ্যে তেল এলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও এই ইস্যুতে চাপে রয়েছে। মাদকচক্র দমনের অজুহাতে মার্কিন সামরিক অভিযানের আশঙ্কা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি সঙ্কট, কূটনৈতিক চাপ আর অর্থনৈতিক অবরোধের ত্রিমুখী চাপে কিউবা দ্রুতই এক কঠিন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 








