০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মহাশূন্যে জীবনের ইঙ্গিত: গ্যালাক্সির কেন্দ্রে সালফারযুক্ত বিশাল অণুর সন্ধান দুর্বল ইয়েন, নড়বড়ে ডলার: মুদ্রার দোলাচলে আসল সংকেত কী চীনের ক্ষমতার কেন্দ্রে শুদ্ধি অভিযান বিশ্ব রাজনীতির নতুন অস্থির সংকেত বিশ্বচাপের যুগে কানাডার কঠিন পরীক্ষায়, মার্ক কার্নির সামনে টিকে থাকার রাজনীতি সংখ্যালঘু ও মব সহিংসতা: জানুয়ারি ২০২৬-এ আতঙ্ক, ভাঙচুর আর বিচারহীনতার ছায়া জানুয়ারিতে হেফাজতে ও কারাগারে ১৯ প্রাণহানি খসড়া মিডিয়া অধ্যাদেশকে ‘স্বাধীন গণমাধ্যমের উপহাস’ বলে আখ্যা দিল টিআইবি বিশ্বকাপ অনিশ্চয়তায় জার্সি উন্মোচন স্থগিত করল পিসিবি কোটা বাতিলের দাবিতে গাজীপুরে রেললাইন ও সড়ক অবরোধ করলেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা নির্বাচনের ফল ঘোষণায় ১২ ঘণ্টার বেশি দেরি মানেই অসৎ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত: মির্জা আব্বাস

মহাশূন্যে জীবনের ইঙ্গিত: গ্যালাক্সির কেন্দ্রে সালফারযুক্ত বিশাল অণুর সন্ধান

মহাশূন্যে জীবনের উৎস খোঁজার পথে বিজ্ঞানীরা পেলেন এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। নক্ষত্রের মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রথমবারের মতো সালফারযুক্ত সবচেয়ে বড় জৈব অণুর খোঁজ মিলেছে, যা জীবনের রাসায়নিক বিকাশ বোঝার ক্ষেত্রে হারিয়ে যাওয়া একটি যোগসূত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকেরা। সারাক্ষণ রিপোর্ট

সালফার ও জীবনের সম্পর্ক
মহাবিশ্বে সালফার একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌল। পৃথিবীর জীবজগতে অ্যামিনো অ্যাসিড, প্রোটিন ও এনজাইম গঠনে এর ভূমিকা অপরিসীম। এতদিন উল্কাপিণ্ড ও ধূমকেতুতে সালফারযুক্ত অণু পাওয়া গেলেও নক্ষত্রের মধ্যবর্তী শূন্যতায় বড় আকারের এমন অণু প্রায় অনুপস্থিত ছিল। এই ঘাটতিই বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছিল।

নতুন আবিষ্কারের তাৎপর্য
নতুন শনাক্ত অণুটিতে তেরোটি পরমাণু রয়েছে, যা মহাশূন্যে পাওয়া সালফারযুক্ত অণুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। এর আগে পাওয়া অণুগুলো ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট। এই আবিষ্কার দেখাচ্ছে, মহাশূন্যের কঠোর পরিবেশেও জটিল জৈব অণু টিকে থাকতে পারে এবং ধীরে ধীরে আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

Image

কোথায় মিলল অণুটি
গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছাকাছি একটি শীতল ও ঘন ধূলি গ্যাসের মেঘে এই অণুর সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ধরনের মেঘকে বলা হয় নক্ষত্রের আঁতুড়ঘর। এখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন নক্ষত্র ও ভবিষ্যৎ গ্রহব্যবস্থা। গবেষকদের ধারণা, এই মেঘে থাকা রাসায়নিক উপাদানই একসময় গ্রহে পৌঁছে জীবনের বীজ বপন করতে পারে।

কীভাবে শনাক্ত হলো
গবেষকেরা প্রথমে পরীক্ষাগারে অণুটির কৃত্রিম সংস্করণ তৈরি করেন এবং তার নির্দিষ্ট বেতার সংকেত শনাক্ত করেন। এরপর শক্তিশালী বেতার দূরবীক্ষণের তথ্যের সঙ্গে সেই সংকেত মিলিয়ে নিশ্চিত হন যে একই অণু মহাশূন্যের ওই মেঘে উপস্থিত।

Image

জীবনের উৎস নিয়ে নতুন আশা
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাচীন পৃথিবীতে ধূমকেতু ও উল্কাপিণ্ডের আঘাতে এমন জটিল অণু এসে পৌঁছাতে পারে, যা জীবনের প্রাথমিক রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। মহাশূন্যের গভীরে এ ধরনের অণুর উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয়, জীবনের প্রয়োজনীয় উপাদান হয়তো গ্যালাক্সি জুড়েই ছড়িয়ে আছে।

ভিনগ্রহে জীবনের সম্ভাবনা
এই আবিষ্কার শুধু পৃথিবীর অতীত নয়, ভিনগ্রহে জীবনের সম্ভাবনাকেও আরও বাস্তব করে তুলছে। গ্যালাক্সির দূর প্রান্তেও যদি এমন জৈব অণু তৈরি হতে পারে, তবে অনুরূপ প্রক্রিয়ায় অন্য কোথাও জীবনের সূচনা হওয়াও অসম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মহাশূন্যে জীবনের ইঙ্গিত: গ্যালাক্সির কেন্দ্রে সালফারযুক্ত বিশাল অণুর সন্ধান

মহাশূন্যে জীবনের ইঙ্গিত: গ্যালাক্সির কেন্দ্রে সালফারযুক্ত বিশাল অণুর সন্ধান

০১:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহাশূন্যে জীবনের উৎস খোঁজার পথে বিজ্ঞানীরা পেলেন এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। নক্ষত্রের মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রথমবারের মতো সালফারযুক্ত সবচেয়ে বড় জৈব অণুর খোঁজ মিলেছে, যা জীবনের রাসায়নিক বিকাশ বোঝার ক্ষেত্রে হারিয়ে যাওয়া একটি যোগসূত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকেরা। সারাক্ষণ রিপোর্ট

সালফার ও জীবনের সম্পর্ক
মহাবিশ্বে সালফার একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌল। পৃথিবীর জীবজগতে অ্যামিনো অ্যাসিড, প্রোটিন ও এনজাইম গঠনে এর ভূমিকা অপরিসীম। এতদিন উল্কাপিণ্ড ও ধূমকেতুতে সালফারযুক্ত অণু পাওয়া গেলেও নক্ষত্রের মধ্যবর্তী শূন্যতায় বড় আকারের এমন অণু প্রায় অনুপস্থিত ছিল। এই ঘাটতিই বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছিল।

নতুন আবিষ্কারের তাৎপর্য
নতুন শনাক্ত অণুটিতে তেরোটি পরমাণু রয়েছে, যা মহাশূন্যে পাওয়া সালফারযুক্ত অণুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। এর আগে পাওয়া অণুগুলো ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট। এই আবিষ্কার দেখাচ্ছে, মহাশূন্যের কঠোর পরিবেশেও জটিল জৈব অণু টিকে থাকতে পারে এবং ধীরে ধীরে আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

Image

কোথায় মিলল অণুটি
গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছাকাছি একটি শীতল ও ঘন ধূলি গ্যাসের মেঘে এই অণুর সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ধরনের মেঘকে বলা হয় নক্ষত্রের আঁতুড়ঘর। এখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন নক্ষত্র ও ভবিষ্যৎ গ্রহব্যবস্থা। গবেষকদের ধারণা, এই মেঘে থাকা রাসায়নিক উপাদানই একসময় গ্রহে পৌঁছে জীবনের বীজ বপন করতে পারে।

কীভাবে শনাক্ত হলো
গবেষকেরা প্রথমে পরীক্ষাগারে অণুটির কৃত্রিম সংস্করণ তৈরি করেন এবং তার নির্দিষ্ট বেতার সংকেত শনাক্ত করেন। এরপর শক্তিশালী বেতার দূরবীক্ষণের তথ্যের সঙ্গে সেই সংকেত মিলিয়ে নিশ্চিত হন যে একই অণু মহাশূন্যের ওই মেঘে উপস্থিত।

Image

জীবনের উৎস নিয়ে নতুন আশা
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাচীন পৃথিবীতে ধূমকেতু ও উল্কাপিণ্ডের আঘাতে এমন জটিল অণু এসে পৌঁছাতে পারে, যা জীবনের প্রাথমিক রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। মহাশূন্যের গভীরে এ ধরনের অণুর উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয়, জীবনের প্রয়োজনীয় উপাদান হয়তো গ্যালাক্সি জুড়েই ছড়িয়ে আছে।

ভিনগ্রহে জীবনের সম্ভাবনা
এই আবিষ্কার শুধু পৃথিবীর অতীত নয়, ভিনগ্রহে জীবনের সম্ভাবনাকেও আরও বাস্তব করে তুলছে। গ্যালাক্সির দূর প্রান্তেও যদি এমন জৈব অণু তৈরি হতে পারে, তবে অনুরূপ প্রক্রিয়ায় অন্য কোথাও জীবনের সূচনা হওয়াও অসম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।