মহাকাশ পর্যটনের আলোচিত অধ্যায় আপাতত থামাচ্ছে ব্লু অরিজিন। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের উপ-কক্ষপথে যাত্রীবাহী রকেট নিউ শেপার্ডের সব ফ্লাইট অন্তত দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি আরও দ্রুত ও জোরদার করা।
মহাকাশ পর্যটনে বিরতি কেন
দুই হাজার একুশ সাল থেকে নিউ শেপার্ড রকেটের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল ধনী পর্যটক, তারকা ও বিশেষ অতিথিদের। তবে শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে ব্লু অরিজিন জানায়, মানব চন্দ্র অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতে সব সম্পদ নতুনভাবে কেন্দ্রীভূত করতেই এই সিদ্ধান্ত। সংস্থার লক্ষ্য, ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ও টেকসই মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

নাসার চন্দ্র পরিকল্পনায় প্রতিযোগিতা
চাঁদে মানুষ নামানোর নাসার উদ্যোগ আর্টেমিস কর্মসূচির জন্য ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্স উভয়ই চুক্তিবদ্ধ। আর্টেমিস থ্রি নামে পরিচিত অভিযানে প্রথমবারের মতো অ্যাপোলো যুগের পর আবার চাঁদের মাটিতে মানুষের পা পড়ার কথা। তবে সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকায় বিকল্প প্রস্তুতি নিয়েও ভাবছে নাসা।
চীনের আগে চাঁদে ফেরার চাপ
মার্কিন নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ স্পষ্টভাবে বলছে, চীনের আগে চাঁদে ফেরাই এখন অগ্রাধিকার। চীন দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে প্রথমবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে নাসার ওপর চাপ বাড়ছে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার।
আর্টেমিস অভিযানের বর্তমান চিত্র
আর্টেমিস কর্মসূচির প্রথম মানবসহ অভিযানটি কেবল চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে, অবতরণ নয়। সেই অভিযান শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা। তবে চূড়ান্ত অবতরণ মিশনে কোন সংস্থার যান ব্যবহৃত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
নিউ শেপার্ডের যাত্রা ও যাত্রী
দুই হাজার একুশ সালে প্রথম মানবসহ উড্ডয়নের পর নিউ শেপার্ড মোট আটানব্বই জনকে কারমান রেখার ওপারে নিয়ে গেছে। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন ব্লু অরিজিনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, অভিনেতা উইলিয়াম শ্যাটনার এবং সংগীতশিল্পী কেটি পেরি। ভবিষ্যতের টিকিটধারীরা এখন অনিশ্চয়তায়, কারণ ফ্লাইট কবে আবার শুরু হবে তা স্পষ্ট নয়।
চাঁদের লক্ষ্যই এখন মুখ্য
ব্লু অরিজিনের ভাষায়, নিউ শেপার্ডের বিরতি আসলে দেশের চন্দ্র লক্ষ্য পূরণের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। মহাকাশ পর্যটনের রোমাঞ্চ আপাতত থেমে থাকলেও, চাঁদের পথে দৌড় যে আরও তীব্র হচ্ছে, সেটাই স্পষ্ট।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 








