সংখ্যালঘুরা এই দেশেরই নাগরিক এবং তাঁদের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন হলে রাষ্ট্রকে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। রোববার নির্বাচন প্রতিবেদন বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এখানে কোনো দ্বিধা বা শৈথিল্যের সুযোগ নেই। একই দিনে এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনেও তিনি এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

সংখ্যালঘু ইস্যুতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব
তৌহিদ হোসেন বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ধরনের ঘটনায় সরকার কীভাবে এবং কত দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে সামনে আনা দরকার। তাঁর ভাষায়, নির্যাতনের খবর আলোচনায় এলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়, যা বাস্তব চিত্রকে অসম্পূর্ণ করে তোলে।
গণমাধ্যম উপস্থাপনা ও বাস্তবতার ফারাক
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মনে করেন, একটি ঘটনার সংবাদ পরিবেশনার ধরনই ঠিক করে দেয় সেটি সমাজ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে কতটা গুরুত্ব পাবে। একই ঘটনা ভিন্ন ভঙ্গিতে উপস্থাপিত হলে প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন হয়। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের বাছাই করা মনোভাব রাতারাতি বদলানো কঠিন হলেও দায়িত্বশীল উপস্থাপনা জরুরি, যাতে বাস্তবতা ও রাষ্ট্রের পদক্ষেপ দুটোই সমানভাবে প্রতিফলিত হয়।

প্রতিবেশী দেশ ও বৈশ্বিক বাস্তবতা
সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গুরুতর ঘটনা ঘটে। কিন্তু সেসব ঘটনা সব সময় বৈশ্বিক আলোচনায় আসে না। কেন একই মানদণ্ডে সব ঘটনা বিচার করা হয় না—এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ কারণেই গণমাধ্যমের সংবেদনশীলতা ও ভারসাম্য আরও বেশি প্রয়োজন।
নির্বাচন ও সহিংসতা নিয়ে আশাবাদ
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভোটার উপস্থিতি পঞ্চান্ন শতাংশের বেশি হবে, যা এক হাজার নয়শ একানব্বই সালের নির্বাচনের চেয়েও বেশি হতে পারে। তিনি স্বীকার করেন, নির্বাচনের সময় বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ঘটতে পারে। তবে সরকার এসব ঘটনা কমিয়ে আনতে সক্রিয় থাকবে এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পটভূমি
কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতি বাংলাদেশের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও গণমাধ্যম উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এই দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন এবং নির্বাচন প্রতিবেদন নিয়ে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















