চট্টগ্রাম বন্দরে টানা তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিক ধর্মঘট চলায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পণ্য খালাস, কনটেইনার ওঠানামা ও পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি–আমদানিনির্ভর ব্যবসা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও গভীর হবে।
বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা
ধর্মঘটের কারণে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ বিভিন্ন জেটিতে কাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে। জাহাজ জট তৈরি হয়েছে, কনটেইনার পরিবহন আটকে পড়েছে, ফলে বন্দরের ভেতর ও বাইরের সড়কপথে যানজট ও পণ্য পরিবহনে বিলম্ব দেখা দিচ্ছে। রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক উভয় পক্ষই সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, ধর্মঘট দীর্ঘ হলে রপ্তানি আদেশ বাতিল বা বিলম্বিত হতে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হলে উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক পদক্ষেপ
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালালেও এখনো ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















