১২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আসছে অরেঞ্জ বন্ড ও সুকুক

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি এবং ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জ রোববার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশে অরেঞ্জ বন্ড ও সুকুকসহ অরেঞ্জ মূলধনী উপকরণ চালু ও প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ও চুক্তির লক্ষ্য

ঢাকার ডিএসই বোর্ডরুমে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং আইআইএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক দুররিন শাহনাজ সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

চুক্তির আওতায় ডিএসই একটি স্বতন্ত্র থিম্যাটিক বা টেকসই অর্থায়ন বিভাগে অরেঞ্জ বন্ড ও সুকুক তালিকাভুক্ত করার সম্ভাবনা যাচাই করবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিতে হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো অরেঞ্জ উপকরণকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিশ্বাসযোগ্য থিমভিত্তিক ঋণপত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

অরেঞ্জ আন্দোলন ও বৈশ্বিক লক্ষ্য

অরেঞ্জ রঙ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৫, অর্থাৎ লিঙ্গসমতা অর্জনের প্রতীক। অরেঞ্জ মুভমেন্টের লক্ষ্য হলো লিঙ্গসমতা ও জলবায়ু কার্যক্রমকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে বিশ্বব্যাপী ১০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা।

এই প্রেক্ষাপটে অরেঞ্জ বন্ড ও সুকুক এমন আর্থিক উপকরণ, যা সামাজিক ও পরিবেশগত ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আর্থিক রিটার্নও নিশ্চিত করতে চায়।

ডিএসইর অবস্থান

নুজহাত আনোয়ার বলেন, জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন প্রবাহিত করতে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি জানান, এই সহযোগিতা ডিএসইর বাজার সম্প্রসারণ এবং এমন টেকসই আর্থিক উপকরণকে সমর্থনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যা পরিমাপযোগ্য সামাজিক ও পরিবেশগত সুফল বয়ে আনবে।

আইআইএক্সের দৃষ্টিভঙ্গি

অধ্যাপক দুররিন শাহনাজ বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের আর্থিক বাজারকে পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় এখন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিএসইর সঙ্গে যৌথভাবে অরেঞ্জ মূলধন বাজার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে লিঙ্গসমতা ও জলবায়ু উদ্যোগকে শক্তিশালী করা যাবে। পাশাপাশি দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় আস্থা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।

যৌথ উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আইআইএক্সের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও জেন্ডারভিত্তিক বিনিয়োগ দক্ষতা এবং ডিএসইর পুঁজিবাজার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ভূমিকা একত্রিত হবে।

সমঝোতা স্মারকে যৌথ প্রচার, বাজার উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে কর্মশালা, বিনিয়োগকারী সম্পৃক্ততা কর্মসূচি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে নীতিগত সংলাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সব কার্যক্রমই দেশের প্রচলিত নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে পরিচালিত হবে।

আইআইএক্সের বৈশ্বিক কার্যক্রম

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আইআইএক্স বর্তমানে ৬০টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ করেছে, যার মাধ্যমে ১৮৫ মিলিয়নের বেশি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলেছে এবং তাদের প্রভাবভিত্তিক অর্থায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৯ লাখ মেট্রিক টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আসছে অরেঞ্জ বন্ড ও সুকুক

০৮:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি এবং ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জ রোববার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশে অরেঞ্জ বন্ড ও সুকুকসহ অরেঞ্জ মূলধনী উপকরণ চালু ও প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ও চুক্তির লক্ষ্য

ঢাকার ডিএসই বোর্ডরুমে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং আইআইএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক দুররিন শাহনাজ সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

চুক্তির আওতায় ডিএসই একটি স্বতন্ত্র থিম্যাটিক বা টেকসই অর্থায়ন বিভাগে অরেঞ্জ বন্ড ও সুকুক তালিকাভুক্ত করার সম্ভাবনা যাচাই করবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিতে হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো অরেঞ্জ উপকরণকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিশ্বাসযোগ্য থিমভিত্তিক ঋণপত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

অরেঞ্জ আন্দোলন ও বৈশ্বিক লক্ষ্য

অরেঞ্জ রঙ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৫, অর্থাৎ লিঙ্গসমতা অর্জনের প্রতীক। অরেঞ্জ মুভমেন্টের লক্ষ্য হলো লিঙ্গসমতা ও জলবায়ু কার্যক্রমকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে বিশ্বব্যাপী ১০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা।

এই প্রেক্ষাপটে অরেঞ্জ বন্ড ও সুকুক এমন আর্থিক উপকরণ, যা সামাজিক ও পরিবেশগত ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আর্থিক রিটার্নও নিশ্চিত করতে চায়।

ডিএসইর অবস্থান

নুজহাত আনোয়ার বলেন, জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন প্রবাহিত করতে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি জানান, এই সহযোগিতা ডিএসইর বাজার সম্প্রসারণ এবং এমন টেকসই আর্থিক উপকরণকে সমর্থনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যা পরিমাপযোগ্য সামাজিক ও পরিবেশগত সুফল বয়ে আনবে।

আইআইএক্সের দৃষ্টিভঙ্গি

অধ্যাপক দুররিন শাহনাজ বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের আর্থিক বাজারকে পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় এখন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিএসইর সঙ্গে যৌথভাবে অরেঞ্জ মূলধন বাজার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে লিঙ্গসমতা ও জলবায়ু উদ্যোগকে শক্তিশালী করা যাবে। পাশাপাশি দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় আস্থা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।

যৌথ উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আইআইএক্সের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও জেন্ডারভিত্তিক বিনিয়োগ দক্ষতা এবং ডিএসইর পুঁজিবাজার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ভূমিকা একত্রিত হবে।

সমঝোতা স্মারকে যৌথ প্রচার, বাজার উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে কর্মশালা, বিনিয়োগকারী সম্পৃক্ততা কর্মসূচি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে নীতিগত সংলাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সব কার্যক্রমই দেশের প্রচলিত নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে পরিচালিত হবে।

আইআইএক্সের বৈশ্বিক কার্যক্রম

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আইআইএক্স বর্তমানে ৬০টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ করেছে, যার মাধ্যমে ১৮৫ মিলিয়নের বেশি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলেছে এবং তাদের প্রভাবভিত্তিক অর্থায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৯ লাখ মেট্রিক টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।