রংপুরের পীরগঞ্জে আরেকটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। শুক্রবার ভোরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। পীরগঞ্জ পেট্রোল পাম্পের সামনে ভোর সাড়ে পাঁচটায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান গাজীপুরের রহিমা আখতার মুন্নি (৩৫)। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের আবদুল রাজ্জাক হাওলাদার (৫৫) এবং তার ছেলে আরাফাত সানি সানভি (২২)। মহাসড়কে আরেকবার প্রমাণিত হলো, অসতর্ক গতি কীভাবে পরিবারে শোকের ছায়া নামিয়ে আনে।

পরপর দুই সংঘর্ষে বিপর্যয়
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে একটি ট্রাক সামনের আরেকটি ট্রাকের পেছনে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা দেয়। এতে প্রথম ট্রাকের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে দ্রুত গতিতে ছুটে আসা হানিফ পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকে ধাক্কা মারে। এই দ্বিতীয় সংঘর্ষেই ঘটে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। বাসযাত্রী রহিমা আখতার মুন্নি ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত আবদুল রাজ্জাক হাওলাদারকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং তার ছেলে আরাফাত সানি সানভিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
উদ্ধার অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। খবর পেয়ে বড়দরগাহ হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রতিটি ঘটনাই মনে করিয়ে দেয়, সড়ক নিরাপত্তায় কঠোর পদক্ষেপ কতটা জরুরি। তিনটি পরিবার এখন অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















