দুপুরে একটু চোখ বুজে নেওয়া অনেকের কাছেই অলসতার প্রতীক। অথচ আধুনিক ঘুমবিজ্ঞানের ভাষ্য বলছে, সঠিক সময়ে ও সঠিক মেয়াদে নেওয়া দুপুরের ঘুম শরীর ও মনের জন্য হতে পারে বড় উপকারের। ইতিহাসে বহু প্রভাবশালী মানুষ দিনের কাজের ফাঁকে এই অভ্যাসকে গুরুত্ব দিয়েছেন। আজ বিজ্ঞানও সেই অভ্যাসের পক্ষে শক্ত প্রমাণ হাজির করছে।
দুপুরের ঘুমে কী লাভ
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প সময়ের দুপুরের ঘুম মানুষের মন ভালো রাখে, মনোযোগ বাড়ায় এবং স্মৃতিশক্তি শানিত করে। নিয়মিতভাবে অল্প সময় ঘুমালে হৃদ্রোগে মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বয়সের সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ক্ষয়ও ধীর হতে পারে, ফলে কর্মক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকে।
সময় আর মেয়াদ কেন গুরুত্বপূর্ণ
ঘুম বিশেষজ্ঞরা একমত যে দুপুরের ঘুম দীর্ঘ হলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। দশ থেকে ত্রিশ মিনিটের মধ্যে ঘুম সবচেয়ে উপকারী। এর বেশি সময় ঘুমালে গভীর ঘুমের স্তরে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে, ফলে জেগে ওঠার পর মাথা ভারী লাগে এবং রাতের ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটে। নিয়মিতভাবে এক ঘণ্টার বেশি দুপুরের ঘুম ডায়াবেটিস ও হৃদ্সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলেও গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে।

মানবদেহের স্বাভাবিক ছন্দ ও দুপুরের ঝিমুনি
মানুষের দেহঘড়িতে দুপুরের পর স্বাভাবিকভাবেই একবার শক্তি কমে আসে। এ সময় মনোযোগে ভাটা পড়ে, যাকে অনেকেই খাবারের পরের অলসতা বলে চেনেন। গবেষণা বলছে, এই সময়ে অল্প ঘুম রাতের ঘুম নষ্ট না করেই শরীরকে নতুন করে চাঙা করতে পারে। তবে রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।
কফি না ঘুম—কোনটা ভালো
দুপুরের ঝিমুনি কাটাতে অনেকেই কফির আশ্রয় নেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প সময়ের ঘুম সতর্কতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে কফির চেয়েও কার্যকর হতে পারে। এমনকি খারাপ রাতের ঘুমের নেতিবাচক প্রভাবও দুপুরের এই ছোট্ট ঘুম কিছুটা পুষিয়ে দিতে সক্ষম।
সংযমই আসল কথা
দুপুরের ঘুম অলসতা নয়, বরং সঠিকভাবে নিলে তা হতে পারে সুস্থ জীবনের এক কার্যকর হাতিয়ার। তবে সময় মেপে ঘুমানোই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটু অ্যালার্ম সেট করে নেওয়াই হতে পারে সচেতনতার প্রথম ধাপ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















