ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটের প্রস্তুতি ঘিরে নতুন করে আপত্তি ও অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিএনপি। ভোটের কাজে ষোল হাজার বিএনসিসি সদস্য যুক্ত করার সিদ্ধান্তে আপত্তির পাশাপাশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ, মহানগর এলাকায় ভোটার স্থানান্তর এবং প্রচারণায় ধর্মীয় আবেগ ব্যবহারের বিষয়েও কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে দলটি।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে এসব বিষয় তুলে ধরে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনসিসির ক্যাডেটরা শিক্ষার্থী। সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ত করা সমীচীন নয়। এতে ছাত্রসমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে।

বিএনসিসি নিয়ে আপত্তির যুক্তি
নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো বিএনসিসিকে নির্বাচনী কাজে যুক্ত করার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি চূড়ান্ত না হলেও দল হিসেবে তারা কমিশনকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তরুণ শিক্ষার্থীদের এ ধরনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত না রাখাই ভালো। তিনি বলেন, একবার এই নজির তৈরি হলে পরবর্তী সময়ে স্কাউট বা গার্লস গাইডদের যুক্ত করার দাবিও উঠতে পারে। আইন অনুযায়ী যাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে, নির্বাচনের কাজে তাদেরই রাখা উচিত। এ বিষয়ে কমিশন তাদের বক্তব্যের যৌক্তিকতা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।
পর্যবেক্ষক ও ভোটার স্থানান্তর নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়েও আপত্তি তোলে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, এবার দেশি একাশিটি সংস্থার মাধ্যমে পঞ্চান্ন হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এর মধ্যে অনেক সংস্থাই পরিচিত নয়। পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা আছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। অতিরিক্ত পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে যেন নির্বাচনী কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত এক থেকে দেড় বছরে ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার স্থানান্তর হয়েছে। কিছু এলাকায় হঠাৎ করেই বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যা স্বাভাবিক নয়। কমিশন বলেছে সংখ্যা খুব বেশি নয়, তবে বিএনপি সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। ভোটার আইডি ও মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বর সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতরাই হয়তো ভুয়া ভোটার বা ভোটার স্থানান্তরের পেছনে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আচরণবিধি ও ধর্মীয় আবেগের অভিযোগ
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কিছু এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার নামে শান্তি কমিটি গঠনের আলোচনা শোনা যাচ্ছে। নজরুল ইসলাম খান বলেন, শান্তি কমিটি শব্দটি তাদের কাছে অপ্রিয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি। পাশাপাশি ভোটগ্রহণের আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার বিধান কার্যকরে জোর দাবি জানানো হয়। তিনি বলেন, প্রচার বন্ধ হওয়ার পর যারা ওই এলাকার ভোটার নন, তাদের সেখানে থাকার কোনো যুক্তি নেই।
এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগে আঘাত দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয়ে কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপি।
ইসির সঙ্গে জামায়াত নারী নেত্রীদের বৈঠক
একই দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াতের নারী শাখার চার প্রতিনিধি। বৈঠকে তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় নারীদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। জামায়াতের নারী বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, নারীরা সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে চায়। নারীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















