১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
অস্বীকারে বাস্তবতা বদলায় না: চীনের উত্থান ও বদলে যাওয়া বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক ঢাল: গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের শক্তিরও থাকতে হবে জবাবদিহি মধ্যপ্রাচ্যের নতুন দাবার ছক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায়, অর্জনের ভিত্তিতে এগোবে নতুন সহযোগিতা কুমিল্লায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, ইউএনওর আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৬৭ মেরি গ্রের লড়াই: পরিসংখ্যান ও আইনের সমন্বয়ে কীভাবে বদলানো যায় মানবাধিকার রক্ষার লড়াই সৃজনশীলতার সংকটে শিক্ষা: ভবিষ্যতের জন্য কি এখনও উপযোগী আমাদের স্কুল? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ভূরাজনীতি: ‘বিনামূল্যের’ প্রযুক্তির আড়ালে কী লুকিয়ে আছে? মোদির পদত্যাগের ভাইরাল চিঠি সঠিক নয়, স্পষ্ট করল ভারতের সরকার

মানব সৃজনশীলতাকে কখনোই প্রতিস্থাপন করতে পারবে না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্পষ্ট বার্তা সৌদি মিডিয়া প্রধানের

মানুষের সৃজনশীলতা ছাড়া সাংবাদিকতা ও গল্প বলা সম্ভব নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যত উন্নতই হোক, মানুষের সেই মৌলিক সৃজনশীল ভূমিকা কখনোই মুছে যাবে না। এমনই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন সৌদি রিসার্চ অ্যান্ড মিডিয়া গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোমানা আর আলরাশিদ।

সৌদি আরবের শুরা দ্বীপে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকতার মূল শক্তি গল্প বলার ক্ষমতায়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, তথ্য যাচাই, সত্য আর বিভ্রান্তির পার্থক্য নির্ধারণ—এই কাজগুলো মানুষের বিচারবোধ ও সৃজনশীলতার ওপর নির্ভরশীল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়ক হতে পারে, কিন্তু গল্প বলার দায়িত্ব মানুষের কাছেই থাকবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ

সম্মেলনের আলোচনায় আলরাশিদ জানান, সৌদি রিসার্চ অ্যান্ড মিডিয়া গ্রুপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এমনভাবে গ্রহণ করেছে যা পুরো কার্যপ্রণালীকে রূপান্তরিত করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এখন বিভিন্ন ভাষায় কনটেন্ট অনুবাদ, তথ্য যাচাই, ভিডিও ও লেখা রূপান্তর, নথি বিশ্লেষণ এবং প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ সহজ হয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তিই ভবিষ্যৎ, তবে নিয়ন্ত্রণ ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে মানুষের হাতে।

AI will never replace human creativity, says SRMG CEO | Arab News

ভবিষ্যতের সাংবাদিক কেমন হবে

ভবিষ্যতের সাংবাদিক শুধু লেখক নন, বরং তথ্য ও প্রযুক্তি বোঝেন এমন একজন পেশাজীবী। আলরাশিদের ভাষায়, আগামী দিনের সাংবাদিক হবেন সাংবাদিক ও প্রকৌশলীর সমন্বয়। তথ্য বিশ্লেষণ, উপাত্ত বোঝা এবং পাঠক বা দর্শকের চাহিদা অনুধাবন করা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। অতীতে গণমাধ্যম যেখানে জরিপ ও দর্শকসংখ্যার ওপর নির্ভর করত, এখন সেখানে বিস্তারিত উপাত্ত বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আরব গণমাধ্যমের বৈশ্বিক সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে জটিল বিষয়গুলো বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে আরব গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাগরিক সাংবাদিকতার যুগে সেই ভূমিকা আরও বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এখন নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকদের তৈরি কনটেন্ট দ্রুত বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন ভাষায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

সীমানা ছাড়িয়ে আরব গণমাধ্যম

আলরাশিদ বলেন, আরব গণমাধ্যমের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে নিজস্ব অঞ্চলের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে পৌঁছানোর। বহুভাষিক কনটেন্ট ও ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন পাঠক ও দর্শকের কাছে পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি। স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, শক্ত কৌশল ও দলগত সমন্বয় থাকলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

বিজ্ঞাপন বাজার ও নতুন কৌশল

টেলিভিশন ও ছাপা মাধ্যমে নির্ভরশীল বিজ্ঞাপন মডেল দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন বিজ্ঞাপন আয়ের বড় অংশ দখল করে আছে। আলরাশিদের মতে, এই পরিবর্তনই নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। সংবাদভিত্তিক কনটেন্টের পাশাপাশি খেলাধুলা, জীবনধারা ও সংগীতভিত্তিক নতুন প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে।

গল্প বলাই ভবিষ্যৎ

আলরাশিদ মনে করেন, গণমাধ্যম শিল্পে পরিবর্তন এখন স্থায়ী বাস্তবতা। ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে গল্প বলার ক্ষমতা, উদ্ভাবন এবং পাঠক-দর্শকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরির ওপর। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে কত দ্রুত মানিয়ে নেওয়া যায়, সেটিই নির্ধারণ করবে গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্বীকারে বাস্তবতা বদলায় না: চীনের উত্থান ও বদলে যাওয়া বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ

মানব সৃজনশীলতাকে কখনোই প্রতিস্থাপন করতে পারবে না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্পষ্ট বার্তা সৌদি মিডিয়া প্রধানের

০১:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মানুষের সৃজনশীলতা ছাড়া সাংবাদিকতা ও গল্প বলা সম্ভব নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যত উন্নতই হোক, মানুষের সেই মৌলিক সৃজনশীল ভূমিকা কখনোই মুছে যাবে না। এমনই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন সৌদি রিসার্চ অ্যান্ড মিডিয়া গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোমানা আর আলরাশিদ।

সৌদি আরবের শুরা দ্বীপে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকতার মূল শক্তি গল্প বলার ক্ষমতায়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, তথ্য যাচাই, সত্য আর বিভ্রান্তির পার্থক্য নির্ধারণ—এই কাজগুলো মানুষের বিচারবোধ ও সৃজনশীলতার ওপর নির্ভরশীল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়ক হতে পারে, কিন্তু গল্প বলার দায়িত্ব মানুষের কাছেই থাকবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ

সম্মেলনের আলোচনায় আলরাশিদ জানান, সৌদি রিসার্চ অ্যান্ড মিডিয়া গ্রুপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এমনভাবে গ্রহণ করেছে যা পুরো কার্যপ্রণালীকে রূপান্তরিত করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এখন বিভিন্ন ভাষায় কনটেন্ট অনুবাদ, তথ্য যাচাই, ভিডিও ও লেখা রূপান্তর, নথি বিশ্লেষণ এবং প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ সহজ হয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তিই ভবিষ্যৎ, তবে নিয়ন্ত্রণ ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে মানুষের হাতে।

AI will never replace human creativity, says SRMG CEO | Arab News

ভবিষ্যতের সাংবাদিক কেমন হবে

ভবিষ্যতের সাংবাদিক শুধু লেখক নন, বরং তথ্য ও প্রযুক্তি বোঝেন এমন একজন পেশাজীবী। আলরাশিদের ভাষায়, আগামী দিনের সাংবাদিক হবেন সাংবাদিক ও প্রকৌশলীর সমন্বয়। তথ্য বিশ্লেষণ, উপাত্ত বোঝা এবং পাঠক বা দর্শকের চাহিদা অনুধাবন করা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। অতীতে গণমাধ্যম যেখানে জরিপ ও দর্শকসংখ্যার ওপর নির্ভর করত, এখন সেখানে বিস্তারিত উপাত্ত বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আরব গণমাধ্যমের বৈশ্বিক সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে জটিল বিষয়গুলো বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে আরব গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাগরিক সাংবাদিকতার যুগে সেই ভূমিকা আরও বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এখন নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকদের তৈরি কনটেন্ট দ্রুত বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন ভাষায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

সীমানা ছাড়িয়ে আরব গণমাধ্যম

আলরাশিদ বলেন, আরব গণমাধ্যমের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে নিজস্ব অঞ্চলের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে পৌঁছানোর। বহুভাষিক কনটেন্ট ও ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন পাঠক ও দর্শকের কাছে পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি। স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, শক্ত কৌশল ও দলগত সমন্বয় থাকলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

বিজ্ঞাপন বাজার ও নতুন কৌশল

টেলিভিশন ও ছাপা মাধ্যমে নির্ভরশীল বিজ্ঞাপন মডেল দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন বিজ্ঞাপন আয়ের বড় অংশ দখল করে আছে। আলরাশিদের মতে, এই পরিবর্তনই নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। সংবাদভিত্তিক কনটেন্টের পাশাপাশি খেলাধুলা, জীবনধারা ও সংগীতভিত্তিক নতুন প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে।

গল্প বলাই ভবিষ্যৎ

আলরাশিদ মনে করেন, গণমাধ্যম শিল্পে পরিবর্তন এখন স্থায়ী বাস্তবতা। ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে গল্প বলার ক্ষমতা, উদ্ভাবন এবং পাঠক-দর্শকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরির ওপর। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে কত দ্রুত মানিয়ে নেওয়া যায়, সেটিই নির্ধারণ করবে গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ।