০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
লাতিন আমেরিকায় সস্তা চীনা ইভি ও ই-কমার্স পণ্যের বন্যা, স্থানীয় শিল্প রক্ষায় হিমশিম  চট্টগ্রাম বন্দর অচল: তৃতীয় দিনের শ্রমিক ধর্মঘটে রপ্তানি–আমদানি কার্যক্রমে স্থবিরতা সংখ্যালঘুরাও নাগরিক:তৌহিদ হোসেন জাপান থেকে ব্রাজিল—ভোটের রায়ে টালমাটাল হতে পারে বাজার, নির্বাচনের বছরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস, ধাতুর দামে বড় পতনে অস্থির বিশ্ববাজার রাশিয়া বৈশ্বিক সংঘাত চায় না: মেদভেদেভ বিশ্ববাজারের চাহিদায় চাঙা এশিয়ার কারখানা, রপ্তানিতে ফিরছে গতি ইতিহাস গড়ল গ্র্যামি: স্প্যানিশ ভাষার অ্যালবামে প্রথমবার বর্ষসেরা পুরস্কার জিতলেন ব্যাড বানি হাতিরঝিলে পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ভাড়াটিয়ার, চালক পলাতক টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলবে, ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে না ১৫ ফেব্রুয়ারি

অলস যন্ত্র, বাড়তে থাকা পানি: নলুয়ার হাওর রক্ষায় হারতে বসা লড়াই

  • Sarakhon Report
  • ০২:৪১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 14

 ইউএনবি

নলুয়ার হাওরের বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে সারি সারি খননযন্ত্র ও ডাম্প ট্রাক প্রস্তুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণকাজ থমকে আছে। কারণ একটাই—মাটির সংকট।

স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলোর জন্য এই সংকট ক্রমেই বড় হতাশার কারণ হয়ে উঠেছে।

নলুয়ার হাওর - উইকিপিডিয়া

বিশেষ করে ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর প্রকল্প তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কোনো কোনো প্রকল্পে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে সম্প্রতি, আবার কোনো কোনো কমিটি কয়েক সপ্তাহ আগেই যন্ত্রপাতি এনে কাজ শুরুর অপেক্ষায় আছে।

৯ নম্বর প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রুবেল মিয়া বলেন, মাটির অভাবে আমরা ঠিকভাবে কাজ এগোতে পারছি না। কাজ শুরু করতেই অন্য জায়গা থেকে মাটি কিনতে হচ্ছে।

এই বাঁধগুলো কেবল অবকাঠামো নয়; জগন্নাথপুরের কৃষকদের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অতীতে শালিকা বাঁধে ভাঙন হলে হাওরের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য কৃষকের স্বপ্ন ও পরিশ্রম।

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে দেখার হাওরের বোরো ধান

 

নলুয়ার হাওরের পশ্চিম প্রান্তে এসব প্রকল্পে অনেক আগেই মাটি কাটার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, যন্ত্রপাতি পড়ে আছে, সময় যেন থমকে গেছে, আর এর মধ্যেই দ্রুত এগিয়ে আসছে বন্যার মৌসুম।

৩১ জানুয়ারির সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ৪, ৫, ৬ ও ১০ নম্বর প্রকল্পে পুরোদমে মাটি কাটার কাজ চলছে। ৭ ও ৯ নম্বর প্রকল্পে সদ্য কাজ শুরু হয়েছে। আর ৮ নম্বর প্রকল্পে বাঁধের পাশে যন্ত্রপাতি প্রস্তুত থাকলেও কাজ শুরু হয়নি।

কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ আর অধৈর্যতা দুটোই স্পষ্ট।

হাওরে বোরো চাষ করা কৃষক আতাউর রহমান বলেন, ঢিলা মাটি অনেক আগেই পিআইসিগুলো কেটে নিয়েছে। এখন আর দেরি সহ্য করার সুযোগ নেই। সময়মতো বাঁধ শেষ করতেই হবে।

স্থানীয় আন্দোলনকারীরাও একই দাবিতে অনড়। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জগন্নাথপুর হাওর রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল রক্ষায় সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আমরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই। কৃষকের জীবিকা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।

স্থানীয়দের মতে, নলুয়ার হাওরে সামনের কয়েকটি সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বাঁধগুলোর সফলতা নির্ধারণ করবে আসন্ন বন্যা মৌসুমে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান রক্ষা পাবে, নাকি আবারও পানির নিচে তলিয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাতিন আমেরিকায় সস্তা চীনা ইভি ও ই-কমার্স পণ্যের বন্যা, স্থানীয় শিল্প রক্ষায় হিমশিম

অলস যন্ত্র, বাড়তে থাকা পানি: নলুয়ার হাওর রক্ষায় হারতে বসা লড়াই

০২:৪১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 ইউএনবি

নলুয়ার হাওরের বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে সারি সারি খননযন্ত্র ও ডাম্প ট্রাক প্রস্তুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণকাজ থমকে আছে। কারণ একটাই—মাটির সংকট।

স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলোর জন্য এই সংকট ক্রমেই বড় হতাশার কারণ হয়ে উঠেছে।

নলুয়ার হাওর - উইকিপিডিয়া

বিশেষ করে ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর প্রকল্প তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কোনো কোনো প্রকল্পে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে সম্প্রতি, আবার কোনো কোনো কমিটি কয়েক সপ্তাহ আগেই যন্ত্রপাতি এনে কাজ শুরুর অপেক্ষায় আছে।

৯ নম্বর প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রুবেল মিয়া বলেন, মাটির অভাবে আমরা ঠিকভাবে কাজ এগোতে পারছি না। কাজ শুরু করতেই অন্য জায়গা থেকে মাটি কিনতে হচ্ছে।

এই বাঁধগুলো কেবল অবকাঠামো নয়; জগন্নাথপুরের কৃষকদের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অতীতে শালিকা বাঁধে ভাঙন হলে হাওরের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য কৃষকের স্বপ্ন ও পরিশ্রম।

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে দেখার হাওরের বোরো ধান

 

নলুয়ার হাওরের পশ্চিম প্রান্তে এসব প্রকল্পে অনেক আগেই মাটি কাটার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, যন্ত্রপাতি পড়ে আছে, সময় যেন থমকে গেছে, আর এর মধ্যেই দ্রুত এগিয়ে আসছে বন্যার মৌসুম।

৩১ জানুয়ারির সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ৪, ৫, ৬ ও ১০ নম্বর প্রকল্পে পুরোদমে মাটি কাটার কাজ চলছে। ৭ ও ৯ নম্বর প্রকল্পে সদ্য কাজ শুরু হয়েছে। আর ৮ নম্বর প্রকল্পে বাঁধের পাশে যন্ত্রপাতি প্রস্তুত থাকলেও কাজ শুরু হয়নি।

কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ আর অধৈর্যতা দুটোই স্পষ্ট।

হাওরে বোরো চাষ করা কৃষক আতাউর রহমান বলেন, ঢিলা মাটি অনেক আগেই পিআইসিগুলো কেটে নিয়েছে। এখন আর দেরি সহ্য করার সুযোগ নেই। সময়মতো বাঁধ শেষ করতেই হবে।

স্থানীয় আন্দোলনকারীরাও একই দাবিতে অনড়। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জগন্নাথপুর হাওর রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল রক্ষায় সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আমরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই। কৃষকের জীবিকা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।

স্থানীয়দের মতে, নলুয়ার হাওরে সামনের কয়েকটি সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বাঁধগুলোর সফলতা নির্ধারণ করবে আসন্ন বন্যা মৌসুমে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান রক্ষা পাবে, নাকি আবারও পানির নিচে তলিয়ে যাবে।