০২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা? বিশ্বকাপের উন্মাদনায় এক হচ্ছে বিশ্ব, ফুটবলের ভাষায় গড়ে উঠছে সম্মান ও সহমর্মিতা সৃজনশীলতা চাই, কিন্তু কতটা সহনশীল আমরা? সিঙ্গাপুরে শিল্পচর্চা নিয়ে নতুন বিতর্ক জাপানের নগর উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, ব্যয় বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটে থমকে যাচ্ছে একের পর এক পরিকল্পনা এশিয়াজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, ছয় আঞ্চলিক সংস্থার চুক্তি ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি চুক্তি: স্বস্তির বার্তা পেলেও বেশি সুবিধায় থাকতে পারে ইরান সিঙ্গাপুরে চাকরির বাজারে চাপ বাড়ছে, ছাঁটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে; ডিগ্রিধারীদের উদ্বেগ বেশি ভারতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে বাড়ল অতিরিক্ত কর, অপরিবর্তিত পেট্রোল ‘আংটি আছে তো আসুন, না থাকলে একাই আসুন’—টেলর-ট্রাভিসের বিয়ের নিয়মে চাঞ্চল্য ঘুমের সমস্যায় স্বস্তি দিচ্ছে ভারী কম্বল, বাড়ছে জনপ্রিয়তা

অলস যন্ত্র, বাড়তে থাকা পানি: নলুয়ার হাওর রক্ষায় হারতে বসা লড়াই

  • Sarakhon Report
  • ০২:৪১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 62

 ইউএনবি

নলুয়ার হাওরের বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে সারি সারি খননযন্ত্র ও ডাম্প ট্রাক প্রস্তুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণকাজ থমকে আছে। কারণ একটাই—মাটির সংকট।

স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলোর জন্য এই সংকট ক্রমেই বড় হতাশার কারণ হয়ে উঠেছে।

নলুয়ার হাওর - উইকিপিডিয়া

বিশেষ করে ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর প্রকল্প তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কোনো কোনো প্রকল্পে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে সম্প্রতি, আবার কোনো কোনো কমিটি কয়েক সপ্তাহ আগেই যন্ত্রপাতি এনে কাজ শুরুর অপেক্ষায় আছে।

৯ নম্বর প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রুবেল মিয়া বলেন, মাটির অভাবে আমরা ঠিকভাবে কাজ এগোতে পারছি না। কাজ শুরু করতেই অন্য জায়গা থেকে মাটি কিনতে হচ্ছে।

এই বাঁধগুলো কেবল অবকাঠামো নয়; জগন্নাথপুরের কৃষকদের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অতীতে শালিকা বাঁধে ভাঙন হলে হাওরের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য কৃষকের স্বপ্ন ও পরিশ্রম।

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে দেখার হাওরের বোরো ধান

 

নলুয়ার হাওরের পশ্চিম প্রান্তে এসব প্রকল্পে অনেক আগেই মাটি কাটার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, যন্ত্রপাতি পড়ে আছে, সময় যেন থমকে গেছে, আর এর মধ্যেই দ্রুত এগিয়ে আসছে বন্যার মৌসুম।

৩১ জানুয়ারির সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ৪, ৫, ৬ ও ১০ নম্বর প্রকল্পে পুরোদমে মাটি কাটার কাজ চলছে। ৭ ও ৯ নম্বর প্রকল্পে সদ্য কাজ শুরু হয়েছে। আর ৮ নম্বর প্রকল্পে বাঁধের পাশে যন্ত্রপাতি প্রস্তুত থাকলেও কাজ শুরু হয়নি।

কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ আর অধৈর্যতা দুটোই স্পষ্ট।

হাওরে বোরো চাষ করা কৃষক আতাউর রহমান বলেন, ঢিলা মাটি অনেক আগেই পিআইসিগুলো কেটে নিয়েছে। এখন আর দেরি সহ্য করার সুযোগ নেই। সময়মতো বাঁধ শেষ করতেই হবে।

স্থানীয় আন্দোলনকারীরাও একই দাবিতে অনড়। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জগন্নাথপুর হাওর রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল রক্ষায় সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আমরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই। কৃষকের জীবিকা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।

স্থানীয়দের মতে, নলুয়ার হাওরে সামনের কয়েকটি সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বাঁধগুলোর সফলতা নির্ধারণ করবে আসন্ন বন্যা মৌসুমে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান রক্ষা পাবে, নাকি আবারও পানির নিচে তলিয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা?

অলস যন্ত্র, বাড়তে থাকা পানি: নলুয়ার হাওর রক্ষায় হারতে বসা লড়াই

০২:৪১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 ইউএনবি

নলুয়ার হাওরের বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে সারি সারি খননযন্ত্র ও ডাম্প ট্রাক প্রস্তুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণকাজ থমকে আছে। কারণ একটাই—মাটির সংকট।

স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলোর জন্য এই সংকট ক্রমেই বড় হতাশার কারণ হয়ে উঠেছে।

নলুয়ার হাওর - উইকিপিডিয়া

বিশেষ করে ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর প্রকল্প তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কোনো কোনো প্রকল্পে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে সম্প্রতি, আবার কোনো কোনো কমিটি কয়েক সপ্তাহ আগেই যন্ত্রপাতি এনে কাজ শুরুর অপেক্ষায় আছে।

৯ নম্বর প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রুবেল মিয়া বলেন, মাটির অভাবে আমরা ঠিকভাবে কাজ এগোতে পারছি না। কাজ শুরু করতেই অন্য জায়গা থেকে মাটি কিনতে হচ্ছে।

এই বাঁধগুলো কেবল অবকাঠামো নয়; জগন্নাথপুরের কৃষকদের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অতীতে শালিকা বাঁধে ভাঙন হলে হাওরের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য কৃষকের স্বপ্ন ও পরিশ্রম।

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে দেখার হাওরের বোরো ধান

 

নলুয়ার হাওরের পশ্চিম প্রান্তে এসব প্রকল্পে অনেক আগেই মাটি কাটার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, যন্ত্রপাতি পড়ে আছে, সময় যেন থমকে গেছে, আর এর মধ্যেই দ্রুত এগিয়ে আসছে বন্যার মৌসুম।

৩১ জানুয়ারির সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ৪, ৫, ৬ ও ১০ নম্বর প্রকল্পে পুরোদমে মাটি কাটার কাজ চলছে। ৭ ও ৯ নম্বর প্রকল্পে সদ্য কাজ শুরু হয়েছে। আর ৮ নম্বর প্রকল্পে বাঁধের পাশে যন্ত্রপাতি প্রস্তুত থাকলেও কাজ শুরু হয়নি।

কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ আর অধৈর্যতা দুটোই স্পষ্ট।

হাওরে বোরো চাষ করা কৃষক আতাউর রহমান বলেন, ঢিলা মাটি অনেক আগেই পিআইসিগুলো কেটে নিয়েছে। এখন আর দেরি সহ্য করার সুযোগ নেই। সময়মতো বাঁধ শেষ করতেই হবে।

স্থানীয় আন্দোলনকারীরাও একই দাবিতে অনড়। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জগন্নাথপুর হাওর রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল রক্ষায় সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আমরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই। কৃষকের জীবিকা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।

স্থানীয়দের মতে, নলুয়ার হাওরে সামনের কয়েকটি সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বাঁধগুলোর সফলতা নির্ধারণ করবে আসন্ন বন্যা মৌসুমে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান রক্ষা পাবে, নাকি আবারও পানির নিচে তলিয়ে যাবে।