ইউএনবি
নলুয়ার হাওরের বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে সারি সারি খননযন্ত্র ও ডাম্প ট্রাক প্রস্তুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণকাজ থমকে আছে। কারণ একটাই—মাটির সংকট।
স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলোর জন্য এই সংকট ক্রমেই বড় হতাশার কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর প্রকল্প তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কোনো কোনো প্রকল্পে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে সম্প্রতি, আবার কোনো কোনো কমিটি কয়েক সপ্তাহ আগেই যন্ত্রপাতি এনে কাজ শুরুর অপেক্ষায় আছে।
৯ নম্বর প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রুবেল মিয়া বলেন, মাটির অভাবে আমরা ঠিকভাবে কাজ এগোতে পারছি না। কাজ শুরু করতেই অন্য জায়গা থেকে মাটি কিনতে হচ্ছে।
এই বাঁধগুলো কেবল অবকাঠামো নয়; জগন্নাথপুরের কৃষকদের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অতীতে শালিকা বাঁধে ভাঙন হলে হাওরের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য কৃষকের স্বপ্ন ও পরিশ্রম।

নলুয়ার হাওরের পশ্চিম প্রান্তে এসব প্রকল্পে অনেক আগেই মাটি কাটার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, যন্ত্রপাতি পড়ে আছে, সময় যেন থমকে গেছে, আর এর মধ্যেই দ্রুত এগিয়ে আসছে বন্যার মৌসুম।
৩১ জানুয়ারির সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ৪, ৫, ৬ ও ১০ নম্বর প্রকল্পে পুরোদমে মাটি কাটার কাজ চলছে। ৭ ও ৯ নম্বর প্রকল্পে সদ্য কাজ শুরু হয়েছে। আর ৮ নম্বর প্রকল্পে বাঁধের পাশে যন্ত্রপাতি প্রস্তুত থাকলেও কাজ শুরু হয়নি।
কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ আর অধৈর্যতা দুটোই স্পষ্ট।
হাওরে বোরো চাষ করা কৃষক আতাউর রহমান বলেন, ঢিলা মাটি অনেক আগেই পিআইসিগুলো কেটে নিয়েছে। এখন আর দেরি সহ্য করার সুযোগ নেই। সময়মতো বাঁধ শেষ করতেই হবে।
স্থানীয় আন্দোলনকারীরাও একই দাবিতে অনড়। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জগন্নাথপুর হাওর রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল রক্ষায় সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আমরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই। কৃষকের জীবিকা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।
স্থানীয়দের মতে, নলুয়ার হাওরে সামনের কয়েকটি সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বাঁধগুলোর সফলতা নির্ধারণ করবে আসন্ন বন্যা মৌসুমে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান রক্ষা পাবে, নাকি আবারও পানির নিচে তলিয়ে যাবে।
Sarakhon Report 



















