০৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ঢাকা–১১ আসনে প্রার্থিতা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ, কায়ুমের যোগ্যতা প্রশ্নে রিট ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে আইসিসির জরুরি বৈঠক, নিষেধাজ্ঞার মুখে পিসিবি লাতিন আমেরিকায় সস্তা চীনা ইভি ও ই-কমার্স পণ্যের বন্যা, স্থানীয় শিল্প রক্ষায় হিমশিম  চট্টগ্রাম বন্দর অচল: তৃতীয় দিনের শ্রমিক ধর্মঘটে রপ্তানি–আমদানি কার্যক্রমে স্থবিরতা সংখ্যালঘুরাও নাগরিক:তৌহিদ হোসেন জাপান থেকে ব্রাজিল—ভোটের রায়ে টালমাটাল হতে পারে বাজার, নির্বাচনের বছরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস, ধাতুর দামে বড় পতনে অস্থির বিশ্ববাজার রাশিয়া বৈশ্বিক সংঘাত চায় না: মেদভেদেভ বিশ্ববাজারের চাহিদায় চাঙা এশিয়ার কারখানা, রপ্তানিতে ফিরছে গতি ইতিহাস গড়ল গ্র্যামি: স্প্যানিশ ভাষার অ্যালবামে প্রথমবার বর্ষসেরা পুরস্কার জিতলেন ব্যাড বানি

বাংলাদেশে ধর্ষণ মামলায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি, সবচেয়ে ঝুঁকিতে কিশোরী মেয়েরা

  • Sarakhon Report
  • ০২:৫১:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 14

ইউএনবি

বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের বড় অংশই কিশোরী মেয়েরা।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮৬ জন নারী ও কিশোরী। এর আগের বছর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫১৬। এক বছরে এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ।

এই ৭৮৬ জনের মধ্যে ৫৪৩ জনই কিশোরী, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত এসব তথ্য যৌন সহিংসতার ভয়াবহ বৃদ্ধি, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে সহিংসতার চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

সংস্থাটি কিশোরী বলতে এক বছর বয়স থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের বোঝায়।

Bangladesh sees sharp rise in rape cases, with girls most at risk

সর্বব্যাপী সহিংসতা

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপকমিটি ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে সারা দেশে ২ হাজার ৮০৮ জন নারী ও কিশোরী বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

এর মধ্যে ১ হাজার ৫৭১ জন নারী এবং ১ হাজার ২৩৪ জন কিশোরী। অধিকারকর্মীদের মতে, এই পরিসংখ্যান জননিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটকে তুলে ধরে।

যৌন সহিংসতা ছিল এসব ঘটনার একটি বড় অংশ। ২০২৫ সালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭৯ জন। এর মধ্যে ১০৪ জন কিশোরী এবং ৭৫ জন নারী।

এ ছাড়া ধর্ষণচেষ্টার ১৮৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন সাতজন ভুক্তভোগী। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৬৯ জন, যার মধ্যে ১১২ জনই কিশোরী।

Bangladesh grapples with shocking surge in sexual violence

যৌন সহিংসতার বাইরেও নির্যাতন

প্রতিবেদনে অন্যান্য ধরনের সহিংসতার ঘটনাও উঠে এসেছে। ধর্ষণ-সংক্রান্ত নয়—এমন কারণে ৭৩৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৩২ জন নারী এবং ১০৭ জন কিশোরী। এ ছাড়া ২৩০টি মৃত্যুকে রহস্যজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন অন্তত ১৯৬ জন। অন্যান্য অপরাধের মধ্যে রয়েছে যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতা (৫২টি), অ্যাসিড হামলা (৯টি) এবং দগ্ধ হওয়ার ঘটনা (৩৪টি)। মানব পাচারের শিকার হয়েছেন ৫৫ জন, যার মধ্যে ২৪ জন কিশোরী। সাইবার সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ১৯টি।

২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনা

২০২৪ সালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ৫১৬ জন ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছিল, যার মধ্যে ৩৬৭ জনই ছিলেন কিশোরী। ওই বছর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ১৪২ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ২৩ জনকে এবং ছয়জন আত্মহত্যা করেন। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ছিল ৯৪টি।

২০২৪ সালে গণমাধ্যমে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে মোট ২ হাজার ৫২৫টি সহিংসতার ঘটনা প্রকাশিত হয়। ওই বছর নিহত হন ৫২৮ জন, যার মধ্যে ৪৫১ জন নারী এবং ৭৭ জন কিশোরী।

घर के बाहर से उठा ले गया चाचा, कमरे में बंद कर किया रेप; हैरान कर देगी 7  साल की मासूम से दरिंदगी की कहानी | Damoh 7 year old rape uncle

সমর্থনমূলক অন্যান্য তথ্য

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পৃথক পরিসংখ্যানও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যকে সমর্থন করে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭৪৯টি, যা ২০২৪ সালের ৬৩৫টির তুলনায় বেশি। এর মধ্যে একক অপরাধীর দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণ ছিল ৫৬৯টি এবং সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ছিল ১৮০টি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ধর্ষণের পর অন্তত ৩৬ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে। সাতজন আত্মহত্যা করেছেন এবং ধর্ষণচেষ্টার পর ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া ওই বছর স্বামীর হাতে নিহত হয়েছেন ২১৭ জন নারী, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতে ৬৩ জন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হাতে ৫১ জন নারী। পারিবারিক সহিংসতার কারণে আত্মহত্যা করেছেন অন্তত ১৬৮ জন নারী।

২০২৪ সালে আইন ও সালিশ কেন্দ্র ৪০১ জন নারী ও ২৩৪ জন কিশোরীকে ধর্ষণ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল। সে বছর ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ছিল ৩৪টি এবং আত্মহত্যার ঘটনা ছিল সাতটি। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ছিল ১০৯টি, যার একটি ঘটনায় ভুক্তভোগীকে হত্যা করা হয়।

Assam gang-rape: Teen asked aunt what rape is 2 days before she was gang- raped - India Today

অধিকার নিয়ে উদ্বেগ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে পুলিশি তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম এই সহিংসতা বৃদ্ধির পেছনে রক্ষণশীল ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর চাপকে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, এসব গোষ্ঠীর কার্যক্রম ও বক্তব্য ক্রমেই নারীদের চলাচল, মতপ্রকাশ ও জনজীবনে অংশগ্রহণকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

২০২৫ সালের মে মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের লিঙ্গসমতা বৃদ্ধির উদ্যোগের বিরুদ্ধে কয়েকটি গোষ্ঠী বিক্ষোভ করে এবং সেগুলোকে ইসলামবিরোধী বলে দাবি করে। এর পর থেকে নারী ও কিশোরীরা ক্রমবর্ধমান মৌখিক, শারীরিক ও ডিজিটাল সহিংসতার মুখে পড়ছেন, যা ভয় ও নীরবতার পরিবেশ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন ফওজিয়া মোসলেম।

Italy: 13-Year-Old Girl Raped by 7 Egyptian Migrants

সংস্কারের আহ্বান

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদনে জাতীয় নারী সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডার প্রতি জোরালো সমর্থন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নারী ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সনদ যেমন নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

অধিকারকর্মীদের মতে, কাঠামোগত সংস্কার, জবাবদিহি এবং সামাজিক পরিবর্তন ছাড়া ২০২৫ সালে যে মাত্রার সহিংসতা দেখা গেছে, তা ব্যতিক্রম না থেকে স্থায়ী বাস্তবতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা–১১ আসনে প্রার্থিতা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ, কায়ুমের যোগ্যতা প্রশ্নে রিট

বাংলাদেশে ধর্ষণ মামলায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি, সবচেয়ে ঝুঁকিতে কিশোরী মেয়েরা

০২:৫১:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউএনবি

বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের বড় অংশই কিশোরী মেয়েরা।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮৬ জন নারী ও কিশোরী। এর আগের বছর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫১৬। এক বছরে এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ।

এই ৭৮৬ জনের মধ্যে ৫৪৩ জনই কিশোরী, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত এসব তথ্য যৌন সহিংসতার ভয়াবহ বৃদ্ধি, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে সহিংসতার চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

সংস্থাটি কিশোরী বলতে এক বছর বয়স থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের বোঝায়।

Bangladesh sees sharp rise in rape cases, with girls most at risk

সর্বব্যাপী সহিংসতা

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপকমিটি ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে সারা দেশে ২ হাজার ৮০৮ জন নারী ও কিশোরী বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

এর মধ্যে ১ হাজার ৫৭১ জন নারী এবং ১ হাজার ২৩৪ জন কিশোরী। অধিকারকর্মীদের মতে, এই পরিসংখ্যান জননিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটকে তুলে ধরে।

যৌন সহিংসতা ছিল এসব ঘটনার একটি বড় অংশ। ২০২৫ সালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭৯ জন। এর মধ্যে ১০৪ জন কিশোরী এবং ৭৫ জন নারী।

এ ছাড়া ধর্ষণচেষ্টার ১৮৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন সাতজন ভুক্তভোগী। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৬৯ জন, যার মধ্যে ১১২ জনই কিশোরী।

Bangladesh grapples with shocking surge in sexual violence

যৌন সহিংসতার বাইরেও নির্যাতন

প্রতিবেদনে অন্যান্য ধরনের সহিংসতার ঘটনাও উঠে এসেছে। ধর্ষণ-সংক্রান্ত নয়—এমন কারণে ৭৩৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৩২ জন নারী এবং ১০৭ জন কিশোরী। এ ছাড়া ২৩০টি মৃত্যুকে রহস্যজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন অন্তত ১৯৬ জন। অন্যান্য অপরাধের মধ্যে রয়েছে যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতা (৫২টি), অ্যাসিড হামলা (৯টি) এবং দগ্ধ হওয়ার ঘটনা (৩৪টি)। মানব পাচারের শিকার হয়েছেন ৫৫ জন, যার মধ্যে ২৪ জন কিশোরী। সাইবার সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ১৯টি।

২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনা

২০২৪ সালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ৫১৬ জন ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছিল, যার মধ্যে ৩৬৭ জনই ছিলেন কিশোরী। ওই বছর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ১৪২ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ২৩ জনকে এবং ছয়জন আত্মহত্যা করেন। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ছিল ৯৪টি।

২০২৪ সালে গণমাধ্যমে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে মোট ২ হাজার ৫২৫টি সহিংসতার ঘটনা প্রকাশিত হয়। ওই বছর নিহত হন ৫২৮ জন, যার মধ্যে ৪৫১ জন নারী এবং ৭৭ জন কিশোরী।

घर के बाहर से उठा ले गया चाचा, कमरे में बंद कर किया रेप; हैरान कर देगी 7  साल की मासूम से दरिंदगी की कहानी | Damoh 7 year old rape uncle

সমর্থনমূলক অন্যান্য তথ্য

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পৃথক পরিসংখ্যানও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যকে সমর্থন করে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭৪৯টি, যা ২০২৪ সালের ৬৩৫টির তুলনায় বেশি। এর মধ্যে একক অপরাধীর দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণ ছিল ৫৬৯টি এবং সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ছিল ১৮০টি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ধর্ষণের পর অন্তত ৩৬ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে। সাতজন আত্মহত্যা করেছেন এবং ধর্ষণচেষ্টার পর ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া ওই বছর স্বামীর হাতে নিহত হয়েছেন ২১৭ জন নারী, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতে ৬৩ জন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হাতে ৫১ জন নারী। পারিবারিক সহিংসতার কারণে আত্মহত্যা করেছেন অন্তত ১৬৮ জন নারী।

২০২৪ সালে আইন ও সালিশ কেন্দ্র ৪০১ জন নারী ও ২৩৪ জন কিশোরীকে ধর্ষণ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল। সে বছর ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ছিল ৩৪টি এবং আত্মহত্যার ঘটনা ছিল সাতটি। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ছিল ১০৯টি, যার একটি ঘটনায় ভুক্তভোগীকে হত্যা করা হয়।

Assam gang-rape: Teen asked aunt what rape is 2 days before she was gang- raped - India Today

অধিকার নিয়ে উদ্বেগ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে পুলিশি তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম এই সহিংসতা বৃদ্ধির পেছনে রক্ষণশীল ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর চাপকে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, এসব গোষ্ঠীর কার্যক্রম ও বক্তব্য ক্রমেই নারীদের চলাচল, মতপ্রকাশ ও জনজীবনে অংশগ্রহণকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

২০২৫ সালের মে মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের লিঙ্গসমতা বৃদ্ধির উদ্যোগের বিরুদ্ধে কয়েকটি গোষ্ঠী বিক্ষোভ করে এবং সেগুলোকে ইসলামবিরোধী বলে দাবি করে। এর পর থেকে নারী ও কিশোরীরা ক্রমবর্ধমান মৌখিক, শারীরিক ও ডিজিটাল সহিংসতার মুখে পড়ছেন, যা ভয় ও নীরবতার পরিবেশ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন ফওজিয়া মোসলেম।

Italy: 13-Year-Old Girl Raped by 7 Egyptian Migrants

সংস্কারের আহ্বান

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদনে জাতীয় নারী সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডার প্রতি জোরালো সমর্থন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নারী ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সনদ যেমন নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

অধিকারকর্মীদের মতে, কাঠামোগত সংস্কার, জবাবদিহি এবং সামাজিক পরিবর্তন ছাড়া ২০২৫ সালে যে মাত্রার সহিংসতা দেখা গেছে, তা ব্যতিক্রম না থেকে স্থায়ী বাস্তবতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।