যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিপুল পরিমাণ নতুন নথি প্রকাশ করার পর বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত এসব নথিতে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসায় নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই তালিকায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি–এর নাম উঠে আসায় দেশেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

প্রকাশিত নথিতে অন্তর্ভুক্ত একটি ইমেইলে আইসিডিডিআরবিকে বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দীর্ঘমেয়াদি প্রোবায়োটিক গবেষণায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। নথি অনুযায়ী, ইমেইলটির বিষয় ছিল আন্ত্রিক জীবাণুবিদ্যা ও আইসিডিডিআরবি। এটি পাঠানো হয়েছিল দুই হাজার চৌদ্দ সালের সতেরো এপ্রিল, এপস্টেইনের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর পক্ষ থেকে।

ইমেইলে প্রস্তাব করা হয়, আইসিডিডিআরবিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বে একটি গবেষণা উদ্যোগ গড়ে তোলা যেতে পারে। সেখানে তুলনামূলক কম বিনিয়োগে ভবিষ্যতে উৎপাদিত যেকোনো প্রোবায়োটিক বা সংশ্লিষ্ট পণ্যের মুনাফা থেকে নির্দিষ্ট অংশ লাভ পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি দাতব্য মর্যাদাপ্রাপ্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের করছাড় কাঠামোর আওতায় বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিও ইমেইলে তুলে ধরা হয়।

নথিতে অন্তর্ভুক্ত আরেকটি ইমেইল থেকে জানা যায়, দুই হাজার দশ সালের চার জানুয়ারি এপস্টেইনের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী বাংলাদেশ ও ভারতে সফর করেছিলেন। তবে ওই সফরের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কার্যক্রম সম্পর্কে প্রকাশিত কাগজপত্রে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট এসব নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে যেভাবে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক পরিসরে নানা প্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগের বিষয় সামনে আসছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিডিডিআরবির নাম উঠে আসা নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো অনিয়ম বা অপরাধের অভিযোগের কথা নথিতে উল্লেখ নেই। তবুও বিষয়টি ঘিরে কৌতূহল ও অনুসন্ধান যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















