১০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
জেপিমরগান প্রধানের সতর্কবার্তা: ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আনতে পারে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা, প্রাণহানির খবর নেই তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তা, কূটনৈতিক বার্তা ও উত্তেজনার টানাপোড়েন হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা চরমে, হামলার হুমকিতে পাল্টা জবাবের সতর্কতা ইরানের বেক্সিমকো ফার্মা নির্মিত শিশু হাসপাতালের নতুন বহির্বিভাগ চালু মার্চে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় ১৯.৭৮ শতাংশ কমেছে ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে মার্কিন নীতি: বিশ্বকে সতর্কবার্তা তেল আবিবে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, লেবাননে নিহত শিশুদের ছবি নিয়ে প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে জ্বালানি পাস ব্যবস্থা এই মাসেই চালু হচ্ছে, কিউআর কোডে নজরদারি

গরমে বিদ্যুৎ–গ্যাসে দ্বিমুখী চাপ, বাড়ছে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

দেশে জ্বালানি সংকট নতুন নয়। তবে সামনে সেচ মৌসুম, রমজান ও তীব্র গরম একসঙ্গে আসায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে চাপ আরও বাড়তে চলেছে। তাপমাত্রা যত বাড়বে, বিদ্যুতের চাহিদাও তত বাড়বে। অথচ জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চলতি গরম মৌসুমে বিদ্যুৎ লোডশেডিং ও গ্যাস ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত

বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা প্রায় আটাশ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু জ্বালানি না থাকায় এই সক্ষমতার বড় অংশই অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে দিনে সর্বোচ্চ উৎপাদন সতেরো হাজার মেগাওয়াটেরও কম। গরম যত বাড়ছে, চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের এই ব্যবধান তত স্পষ্ট হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের একক ক্রেতা হিসেবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে বড় অঙ্কের দেনায় পড়েছে। এই দেনা সামাল দিতে সরকার থেকে বিপুল ভর্তুকির প্রয়োজন হলেও পুরো অর্থ পাওয়া অনিশ্চিত বলেই জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

আর্থিক চাপে বিদ্যুৎ খাত, গরমে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

গ্যাস ঘাটতিতে বাড়ছে চাপ

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতাও বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গ্যাস দরকার হলেও বাস্তবে তা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গ্যাস অনুসন্ধানে তেমন অগ্রগতি না থাকায় দেশীয় উৎপাদন বছর বছর কমছে। এর পাশাপাশি ডলার সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় আমদানিকৃত এলএনজি বাড়ানোও সহজ নয়।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুতের জন্য গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে গেলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও সার কারখানায় টান পড়বে। তাই চাহিদার পুরোটা পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

কয়লা ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রেও সীমাবদ্ধতা

গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও অর্থ সংকটে ভুগছে। এসব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো গেলে লোডশেডিং অনেকটাই কমানো যেত। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ ও জ্বালানি না থাকায় সেই সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে গরম যত তীব্র হবে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটও তত বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভর্তুকির পরও বাড়ছে লোকসান

বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়লেও বিক্রির দাম না বাড়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লোকসান বেড়েই চলেছে। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাসের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে উৎপাদন ব্যয়ে। সরকার ভর্তুকি দিলেও লোকসান ঠেকানো যাচ্ছে না। এতে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেপিমরগান প্রধানের সতর্কবার্তা: ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আনতে পারে

গরমে বিদ্যুৎ–গ্যাসে দ্বিমুখী চাপ, বাড়ছে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

১২:০৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশে জ্বালানি সংকট নতুন নয়। তবে সামনে সেচ মৌসুম, রমজান ও তীব্র গরম একসঙ্গে আসায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে চাপ আরও বাড়তে চলেছে। তাপমাত্রা যত বাড়বে, বিদ্যুতের চাহিদাও তত বাড়বে। অথচ জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চলতি গরম মৌসুমে বিদ্যুৎ লোডশেডিং ও গ্যাস ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত

বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা প্রায় আটাশ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু জ্বালানি না থাকায় এই সক্ষমতার বড় অংশই অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে দিনে সর্বোচ্চ উৎপাদন সতেরো হাজার মেগাওয়াটেরও কম। গরম যত বাড়ছে, চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের এই ব্যবধান তত স্পষ্ট হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের একক ক্রেতা হিসেবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে বড় অঙ্কের দেনায় পড়েছে। এই দেনা সামাল দিতে সরকার থেকে বিপুল ভর্তুকির প্রয়োজন হলেও পুরো অর্থ পাওয়া অনিশ্চিত বলেই জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

আর্থিক চাপে বিদ্যুৎ খাত, গরমে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

গ্যাস ঘাটতিতে বাড়ছে চাপ

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতাও বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গ্যাস দরকার হলেও বাস্তবে তা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গ্যাস অনুসন্ধানে তেমন অগ্রগতি না থাকায় দেশীয় উৎপাদন বছর বছর কমছে। এর পাশাপাশি ডলার সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় আমদানিকৃত এলএনজি বাড়ানোও সহজ নয়।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুতের জন্য গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে গেলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও সার কারখানায় টান পড়বে। তাই চাহিদার পুরোটা পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

কয়লা ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রেও সীমাবদ্ধতা

গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও অর্থ সংকটে ভুগছে। এসব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো গেলে লোডশেডিং অনেকটাই কমানো যেত। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ ও জ্বালানি না থাকায় সেই সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে গরম যত তীব্র হবে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটও তত বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভর্তুকির পরও বাড়ছে লোকসান

বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়লেও বিক্রির দাম না বাড়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লোকসান বেড়েই চলেছে। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাসের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে উৎপাদন ব্যয়ে। সরকার ভর্তুকি দিলেও লোকসান ঠেকানো যাচ্ছে না। এতে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।