০২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
নওগাঁয় জামায়াতের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পাঁচ হিন্দু যুবকের যোগদান লন্ডনের অভিজাত মহলে ইমরানের প্রভাব, এপস্টেইন নথিতে জাতিসংঘ কর্মকর্তার বিস্ময়কর ইঙ্গিত সহযোগিতার শক্তিতে উন্নয়ন: যৌথ অর্থায়ন কেন এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি কৌশল আইসিসির জরুরি বৈঠক, ভারত ম্যাচ বয়কটের জেরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ওপর ঝুলছে নিষেধাজ্ঞার খড়গ পাকিস্তানে কোয়েটাসহ ১২ শহরে হামলা, দুই দিনে ১০৮ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কৌশল কেন এখন রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার বরফের রাজনীতির নতুন যুদ্ধ: আর্কটিক কেন বিশ্বশক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে ফেব্রুয়ারিতে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, কোথাও তাপমাত্রা নামতে পারে আট ডিগ্রিতে কুখ্যাত এপস্টেইন নথিতে বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি, বিশ্বজুড়ে নতুন প্রশ্ন বিদ্রোহীদের নিয়ে শেষ মুহূর্তে কী ভাবছে বিএনপি

গরমে বিদ্যুৎ–গ্যাসে দ্বিমুখী চাপ, বাড়ছে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

দেশে জ্বালানি সংকট নতুন নয়। তবে সামনে সেচ মৌসুম, রমজান ও তীব্র গরম একসঙ্গে আসায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে চাপ আরও বাড়তে চলেছে। তাপমাত্রা যত বাড়বে, বিদ্যুতের চাহিদাও তত বাড়বে। অথচ জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চলতি গরম মৌসুমে বিদ্যুৎ লোডশেডিং ও গ্যাস ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত

বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা প্রায় আটাশ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু জ্বালানি না থাকায় এই সক্ষমতার বড় অংশই অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে দিনে সর্বোচ্চ উৎপাদন সতেরো হাজার মেগাওয়াটেরও কম। গরম যত বাড়ছে, চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের এই ব্যবধান তত স্পষ্ট হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের একক ক্রেতা হিসেবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে বড় অঙ্কের দেনায় পড়েছে। এই দেনা সামাল দিতে সরকার থেকে বিপুল ভর্তুকির প্রয়োজন হলেও পুরো অর্থ পাওয়া অনিশ্চিত বলেই জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

আর্থিক চাপে বিদ্যুৎ খাত, গরমে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

গ্যাস ঘাটতিতে বাড়ছে চাপ

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতাও বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গ্যাস দরকার হলেও বাস্তবে তা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গ্যাস অনুসন্ধানে তেমন অগ্রগতি না থাকায় দেশীয় উৎপাদন বছর বছর কমছে। এর পাশাপাশি ডলার সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় আমদানিকৃত এলএনজি বাড়ানোও সহজ নয়।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুতের জন্য গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে গেলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও সার কারখানায় টান পড়বে। তাই চাহিদার পুরোটা পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

কয়লা ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রেও সীমাবদ্ধতা

গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও অর্থ সংকটে ভুগছে। এসব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো গেলে লোডশেডিং অনেকটাই কমানো যেত। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ ও জ্বালানি না থাকায় সেই সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে গরম যত তীব্র হবে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটও তত বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভর্তুকির পরও বাড়ছে লোকসান

বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়লেও বিক্রির দাম না বাড়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লোকসান বেড়েই চলেছে। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাসের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে উৎপাদন ব্যয়ে। সরকার ভর্তুকি দিলেও লোকসান ঠেকানো যাচ্ছে না। এতে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় জামায়াতের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পাঁচ হিন্দু যুবকের যোগদান

গরমে বিদ্যুৎ–গ্যাসে দ্বিমুখী চাপ, বাড়ছে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

১২:০৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশে জ্বালানি সংকট নতুন নয়। তবে সামনে সেচ মৌসুম, রমজান ও তীব্র গরম একসঙ্গে আসায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে চাপ আরও বাড়তে চলেছে। তাপমাত্রা যত বাড়বে, বিদ্যুতের চাহিদাও তত বাড়বে। অথচ জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চলতি গরম মৌসুমে বিদ্যুৎ লোডশেডিং ও গ্যাস ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত

বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা প্রায় আটাশ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু জ্বালানি না থাকায় এই সক্ষমতার বড় অংশই অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে দিনে সর্বোচ্চ উৎপাদন সতেরো হাজার মেগাওয়াটেরও কম। গরম যত বাড়ছে, চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের এই ব্যবধান তত স্পষ্ট হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের একক ক্রেতা হিসেবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে বড় অঙ্কের দেনায় পড়েছে। এই দেনা সামাল দিতে সরকার থেকে বিপুল ভর্তুকির প্রয়োজন হলেও পুরো অর্থ পাওয়া অনিশ্চিত বলেই জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

আর্থিক চাপে বিদ্যুৎ খাত, গরমে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

গ্যাস ঘাটতিতে বাড়ছে চাপ

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতাও বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গ্যাস দরকার হলেও বাস্তবে তা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গ্যাস অনুসন্ধানে তেমন অগ্রগতি না থাকায় দেশীয় উৎপাদন বছর বছর কমছে। এর পাশাপাশি ডলার সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় আমদানিকৃত এলএনজি বাড়ানোও সহজ নয়।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুতের জন্য গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে গেলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও সার কারখানায় টান পড়বে। তাই চাহিদার পুরোটা পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

কয়লা ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রেও সীমাবদ্ধতা

গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও অর্থ সংকটে ভুগছে। এসব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো গেলে লোডশেডিং অনেকটাই কমানো যেত। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ ও জ্বালানি না থাকায় সেই সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে গরম যত তীব্র হবে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটও তত বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভর্তুকির পরও বাড়ছে লোকসান

বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়লেও বিক্রির দাম না বাড়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লোকসান বেড়েই চলেছে। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাসের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে উৎপাদন ব্যয়ে। সরকার ভর্তুকি দিলেও লোকসান ঠেকানো যাচ্ছে না। এতে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।