রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন কার্যকর নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি সত্যিকার অর্থেই শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। তবে ট্রাম্প যে রাশিয়ার উপকূলের কাছে মার্কিন পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের দাবি করেছিলেন, তার কোনো প্রমাণ মস্কো এখনো পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মস্কোর উপকণ্ঠে নিজ বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেদভেদেভ বলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্ব অনেকের কাছে বিশৃঙ্খল মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কৌশল। তার মতে, ট্রাম্পের আবেগী ও খোলামেলা আচরণই তাকে কার্যকর করে তুলেছে এবং এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ সাম্প্রতিক সময়ে আরও ফলপ্রসূ হয়েছে।

শান্তির আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
মেদভেদেভের ভাষায়, ট্রাম্প ইতিহাসে একজন শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে স্মরণীয় হতে চান এবং সেই লক্ষ্যেই তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা সামনে রেখে এই সপ্তাহে আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা নির্ধারিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ট্রাম্পকে নির্বাচিত করেছে এবং রাশিয়া সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করে। মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে চাপ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প যে সাহসিকতার সঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন, সেটিকে তিনি উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন।

সাবমেরিন বিতর্ক ও রাশিয়ার অবস্থান
গত বছর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মেদভেদেভের কিছু মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন রাশিয়ার কাছাকাছি মোতায়েন করেছে। এ বিষয়ে মেদভেদেভ ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, তারা এখনো সেই সাবমেরিনের কোনো খোঁজ পাননি। তার মতে, ট্রাম্পের ব্যবসায়ী মানসিকতা থেকেই এমন বক্তব্য আসে, যা কৌশলগত বার্তা দেওয়ার একটি অংশ।
ইউক্রেন যুদ্ধ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে মেদভেদেভ বলেন, রাশিয়া শিগগিরই সামরিক বিজয়ের দিকে এগোচ্ছে বলে তারা বিশ্বাস করে। তবে তার মতে, বিজয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো ভবিষ্যতে নতুন কোনো সংঘাত এড়ানো। যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে এখনই ভাবা জরুরি, যাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।

মেদভেদেভ স্মরণ করিয়ে দেন, বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে রাখলেও পুরো দোনবাস অঞ্চল এখনো সম্পূর্ণভাবে দখলে আনতে পারেনি। তবুও তিনি আশাবাদী যে, শেষ পর্যন্ত সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তির পথেই এগোতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















