০৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রাশিয়া বৈশ্বিক সংঘাত চায় না: মেদভেদেভ বিশ্ববাজারের চাহিদায় চাঙা এশিয়ার কারখানা, রপ্তানিতে ফিরছে গতি ইতিহাস গড়ল গ্র্যামি: স্প্যানিশ ভাষার অ্যালবামে প্রথমবার বর্ষসেরা পুরস্কার জিতলেন ব্যাড বানি হাতিরঝিলে পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ভাড়াটিয়ার, চালক পলাতক টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলবে, ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে না ১৫ ফেব্রুয়ারি চন্দ্র নববর্ষে এআই দখলে ৪৩১ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ঘোষণা আলিবাবার, চ্যাটবট প্রতিযোগিতা তুঙ্গে বাংলাদেশে ধর্ষণ মামলায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি, সবচেয়ে ঝুঁকিতে কিশোরী মেয়েরা এক ধাক্কায় সোনার দাম কমল ভরিতে ছয় হাজার পাঁচশো নব্বই টাকা সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সোমবার বিদ্যুৎ থাকবে না অলস যন্ত্র, বাড়তে থাকা পানি: নলুয়ার হাওর রক্ষায় হারতে বসা লড়াই

ভারতের ডিজিটাল লেনদেন বিপ্লব: গতির বাইরে মানুষের জীবনে অর্থপ্রদানের নতুন দিগন্ত

বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ধারণা যখন এখনো মূলত ব্যাংক থেকে ব্যাংকে দ্রুত লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, ঠিক তখনই ভারত এই ব্যবস্থাকে নতুনভাবে কল্পনা করে। ভারতের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দেয়, দ্রুত অর্থপ্রদান শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল পেমেন্টের চিন্তাভাবনাকে বদলে দিয়েছে।

ডিজিটাল যাত্রার শুরু এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন
উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে মোবাইল ফোনভিত্তিক তাৎক্ষণিক লেনদেন আগে থেকেই পরিচিত ছিল। এসব ব্যবস্থায় সীমিত ব্যাংক সুবিধার মধ্যেও পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ডিজিটাল লেনদেনে যুক্ত হতে পেরেছিল। তবে সেসব ব্যবস্থার বেশিরভাগই নির্দিষ্ট সেবাদাতা-কেন্দ্রিক ছিল এবং একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ভারত এখানে ভিন্ন পথ বেছে নেয়। দ্রুত অর্থপ্রদান কে উন্মুক্ত ও পারস্পরিক সংযুক্ত অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তুলে তা সরাসরি মানুষের জন্য কার্যকর করে তোলে।

সবার জন্য দ্রুত অর্থপ্রদান
ইউপিআই প্রমাণ করে দেয় যে দ্রুত লেনদেন শুধু বড় অঙ্কের বা নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়। রাস্তার দোকান থেকে শুরু করে অনলাইন কেনাকাটা, এমনকি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এই ব্যবস্থা ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে। নগদ এর মতোই তাৎক্ষণিক ও সহজ হলেও এতে নগদের ঝুঁকি নেই। একই জায়গায় উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই, ভাঙতি টাকার ঝামেলা নেই এবং অর্থ হারানো বা চুরির আশঙ্কা ও থাকে না।

এই বিস্তার সম্ভব হয়েছে ব্যাংক ও অ-ব্যাংক প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি উন্মুক্ত কাঠামো তৈরি করার কারণে। এতে নতুন সেবাদাতারা একই অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে উদ্ভাবনী সেবা দিতে পেরেছে এবং দ্রুত ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীর আস্থা অর্জন করেছে।

পরিসংখ্যানে অভূতপূর্ব সাফল্য
অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই এই ব্যবস্থার লেনদেনের পরিমাণ বিশ্বজুড়ে নজির গড়েছে। এককভাবে ইউপিআই যে পরিমাণ লেনদেন পরিচালনা করছে, তা অনেক বৈশ্বিক কার্ড নেটওয়ার্কের মোট লেনদেনের কাছাকাছি। বর্তমানে দেশের মোট ডিজিটাল লেনদেনের বড় অংশই এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হচ্ছে। কোটি কোটি ব্যবহারকারী এবং লক্ষ লক্ষ ব্যবসায়ী এর সঙ্গে যুক্ত, যা একে সত্যিকার অর্থে জাতীয় পর্যায়ের সেবায় পরিণত করেছে।

প্রযুক্তির চেয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা
ভারতের এই সাফল্যের মূল শক্তি প্রযুক্তির জটিলতা নয়, বরং মানুষের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া। সহজ পরিচিতি, স্পষ্ট ব্যবহারপদ্ধতি, কিউআর কোড এবং ব্যবসায়ীদের সহজে যুক্ত করার উদ্যোগ ডিজিটাল লেনদেনকে সাংস্কৃতিক অভ্যাসে পরিণত করেছে। মানুষ এটি গ্রহণ করেছে কারণ এটি দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব সমস্যার সমাধান করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দোকান ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি পরিশোধের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাবার, জ্বালানি এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় এই লেনদেনের অংশ এখন সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি নতুন নতুন সুবিধা যুক্ত হওয়ায় ইউপিআই একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল আর্থিক প্ল্যাটফর্মে রূপ নিচ্ছে।

পরবর্তী অধ্যায়ের পথে ভারত
লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও সামনে আসছে। ব্যবস্থাটিকে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক রাখা, প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ব্যবহারকারীর স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এখন বড় লক্ষ্য। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ঋণ সুবিধা এবং মূল্য সংযোজিত সেবার সুযোগ তৈরির পথ খুলছে।

বিশ্ব এখন ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে। ভিত্তি মজবুত, প্রভাব বৈশ্বিক, আর এই ডিজিটাল রূপান্তরের গল্প এখনও চলমান।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়া বৈশ্বিক সংঘাত চায় না: মেদভেদেভ

ভারতের ডিজিটাল লেনদেন বিপ্লব: গতির বাইরে মানুষের জীবনে অর্থপ্রদানের নতুন দিগন্ত

০১:৩৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ধারণা যখন এখনো মূলত ব্যাংক থেকে ব্যাংকে দ্রুত লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, ঠিক তখনই ভারত এই ব্যবস্থাকে নতুনভাবে কল্পনা করে। ভারতের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দেয়, দ্রুত অর্থপ্রদান শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল পেমেন্টের চিন্তাভাবনাকে বদলে দিয়েছে।

ডিজিটাল যাত্রার শুরু এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন
উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে মোবাইল ফোনভিত্তিক তাৎক্ষণিক লেনদেন আগে থেকেই পরিচিত ছিল। এসব ব্যবস্থায় সীমিত ব্যাংক সুবিধার মধ্যেও পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ডিজিটাল লেনদেনে যুক্ত হতে পেরেছিল। তবে সেসব ব্যবস্থার বেশিরভাগই নির্দিষ্ট সেবাদাতা-কেন্দ্রিক ছিল এবং একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ভারত এখানে ভিন্ন পথ বেছে নেয়। দ্রুত অর্থপ্রদান কে উন্মুক্ত ও পারস্পরিক সংযুক্ত অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তুলে তা সরাসরি মানুষের জন্য কার্যকর করে তোলে।

সবার জন্য দ্রুত অর্থপ্রদান
ইউপিআই প্রমাণ করে দেয় যে দ্রুত লেনদেন শুধু বড় অঙ্কের বা নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়। রাস্তার দোকান থেকে শুরু করে অনলাইন কেনাকাটা, এমনকি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এই ব্যবস্থা ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে। নগদ এর মতোই তাৎক্ষণিক ও সহজ হলেও এতে নগদের ঝুঁকি নেই। একই জায়গায় উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই, ভাঙতি টাকার ঝামেলা নেই এবং অর্থ হারানো বা চুরির আশঙ্কা ও থাকে না।

এই বিস্তার সম্ভব হয়েছে ব্যাংক ও অ-ব্যাংক প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি উন্মুক্ত কাঠামো তৈরি করার কারণে। এতে নতুন সেবাদাতারা একই অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে উদ্ভাবনী সেবা দিতে পেরেছে এবং দ্রুত ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীর আস্থা অর্জন করেছে।

পরিসংখ্যানে অভূতপূর্ব সাফল্য
অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই এই ব্যবস্থার লেনদেনের পরিমাণ বিশ্বজুড়ে নজির গড়েছে। এককভাবে ইউপিআই যে পরিমাণ লেনদেন পরিচালনা করছে, তা অনেক বৈশ্বিক কার্ড নেটওয়ার্কের মোট লেনদেনের কাছাকাছি। বর্তমানে দেশের মোট ডিজিটাল লেনদেনের বড় অংশই এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হচ্ছে। কোটি কোটি ব্যবহারকারী এবং লক্ষ লক্ষ ব্যবসায়ী এর সঙ্গে যুক্ত, যা একে সত্যিকার অর্থে জাতীয় পর্যায়ের সেবায় পরিণত করেছে।

প্রযুক্তির চেয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা
ভারতের এই সাফল্যের মূল শক্তি প্রযুক্তির জটিলতা নয়, বরং মানুষের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া। সহজ পরিচিতি, স্পষ্ট ব্যবহারপদ্ধতি, কিউআর কোড এবং ব্যবসায়ীদের সহজে যুক্ত করার উদ্যোগ ডিজিটাল লেনদেনকে সাংস্কৃতিক অভ্যাসে পরিণত করেছে। মানুষ এটি গ্রহণ করেছে কারণ এটি দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব সমস্যার সমাধান করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দোকান ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি পরিশোধের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাবার, জ্বালানি এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় এই লেনদেনের অংশ এখন সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি নতুন নতুন সুবিধা যুক্ত হওয়ায় ইউপিআই একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল আর্থিক প্ল্যাটফর্মে রূপ নিচ্ছে।

পরবর্তী অধ্যায়ের পথে ভারত
লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও সামনে আসছে। ব্যবস্থাটিকে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক রাখা, প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ব্যবহারকারীর স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এখন বড় লক্ষ্য। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ঋণ সুবিধা এবং মূল্য সংযোজিত সেবার সুযোগ তৈরির পথ খুলছে।

বিশ্ব এখন ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে। ভিত্তি মজবুত, প্রভাব বৈশ্বিক, আর এই ডিজিটাল রূপান্তরের গল্প এখনও চলমান।