ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, যার ফলে ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক কমে শেষ পর্যন্ত ১৮ শতাংশে নেমে আসছে। আগে এই হার ছিল ৫০ শতাংশ, যার মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনার কারণে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা মূলক শুল্ক যুক্ত ছিল। নতুন এই সমঝোতাকে দুই দেশের অংশীদারিত্বের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুল্ক কমানোয় স্বস্তি
চুক্তির ফলে দুই দেশই একে অপরের পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনছে, আর ভারত ও শিল্পপণ্য, খাদ্য ও কৃষি পণ্যে শুল্ক হ্রাস বা প্রত্যাহারের পথে এগোচ্ছে। এর ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ওষুধ, রত্ন ও উড়োজাহাজ যন্ত্রাংশে সুবিধা
চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় ওষুধ, রত্ন, হীরা ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা সরঞ্জাম, কৃষি পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজারে প্রবেশ সহজ করার উদ্যোগ
ভারত যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের বাজারে প্রবেশে যে নিয়ন্ত্রক জটিলতা রয়েছে তা পর্যালোচনা করবে। আমদানি লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা, পরিমাণগত সীমাবদ্ধতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গ্রহণযোগ্য কি না তা ছয় মাসের মধ্যে মূল্যায়নের কথাও বলা হয়েছে। খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের অশুল্ক বাধা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
পাঁচ বছরে বিপুল ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি

চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ, ধাতু, কয়লা এবং প্রযুক্তিপণ্য মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই পদক্ষেপ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতা
ডিজিটাল বাণিজ্যকে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে। বৈষম্যমূলক বা জটিল নীতিগত বাধা কমাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি তথ্যকেন্দ্রের জন্য উন্নত গ্রাফিক্স প্রসেসর সহ প্রযুক্তিপণ্যের বাণিজ্য বাড়ানো এবং যৌথ প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ খোলা
শুল্ক কাঠামোতে পরিবর্তন এলে দুই দেশই প্রতিশ্রুতি সংশোধনের সুযোগ রাখবে। একই সঙ্গে বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও আলোচনা চলবে, যাতে বিদ্যমান শুল্ক আরও কমানো বা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















