১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
রুপিয়ার দুর্বলতা শুধু মুদ্রাবাজারের সংকট নয়, মধ্যবিত্তের ভঙ্গুর ভবিষ্যতেরও প্রতিচ্ছবি বৈদেশিক ঋণের চাপে বাংলাদেশ চরাচর মহানন্দা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ পুলিশের গাজীপুরে ২০ কিলোমিটার যানজট, ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি ঈদযাত্রায় বাড়তে পারে হামের সংক্রমণ, সতর্ক করলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ‘দ্য জাপানিজ ওয়ে অব প্যারেন্টিং’ বইয়ে জাপানি মাতৃত্বের অদৃশ্য শ্রম ও আধুনিক পরিবারের নতুন প্রশ্ন স্টার ওয়ার্সের বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন, ডিজনির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নিখোঁজ বৃদ্ধদের অদৃশ্য ট্র্যাজেডি: বার্ধক্য, ডিমেনশিয়া ও সমাজের ব্যর্থতা ই-কমার্স আইনে রাইড-হেইলিং অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক ইন্দোনেশিয়ায়

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ইতিহাস, এবার কি চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম এক বছরে কার্লোস আলকারাসের

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মেলবোর্ন পার্কে রোববার রাতে যা ঘটল, তা টেনিস ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচকে ফাইনালে হারিয়ে স্পেনের কার্লোস আলকারাস হয়ে উঠলেন সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়, যিনি চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন। বয়স মাত্র বাইশ। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন স্পেনেরই কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল, তবে তখন তাঁর বয়স ছিল চব্বিশ।

মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় উপস্থিত ছিলেন নাদাল নিজেই। নিজের দেশের উত্তরসূরির এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সহজ হাসি আর শান্ত ভঙ্গির আড়ালে আলকারাস যে কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এই জয় আবারও তা প্রমাণ করল।

রেকর্ডের পথে নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা
এই জয়ের মাধ্যমে আলকারাস শুধু অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতলেন না, নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন একাধিক রেকর্ডে। এর আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ওপেন জিতে সবচেয়ে কম বয়সে বড় শিরোপা জয়ের নজির গড়েছিলেন। পরে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ডও তাঁর দখলে যায়। ফরাসি ওপেনে জয়ের মাধ্যমে মাটি, ঘাস ও হার্ড কোর্ট—তিন ধরনের কোর্টেই গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের কীর্তি গড়ে ফেলেন তিনি সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে।

শৈশবের নায়ক ও নিজের পথচলা
নাদাল ও জোকোভিচকে গভীর শ্রদ্ধা করেন আলকারাস। তবে শৈশবে তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন রজার ফেদেরার। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ফেদেরারের খেলা যেন শিল্পকর্মের মতো, যেখানে সৌন্দর্য আর দক্ষতা একসঙ্গে মিশে থাকে। সাহসী শট, কৌশলের বৈচিত্র্য আর মাঠে নান্দনিক উপস্থিতি—এই গুণগুলোই আজ আলকারাসের খেলাতেও স্পষ্ট।

Image

হাল না ছাড়ার মানসিকতা
চলতি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই সেমিফাইনালে জার্মানির আলেক্সান্ডার জভেরেভের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর মানসিক দৃঢ়তা চোখে পড়ে। পঞ্চম সেটে পিছিয়ে পড়েও, শরীরে টান ধরার মধ্যেই লড়াই চালিয়ে যান তিনি। ম্যাচ শেষে বলেন, হাল ছেড়ে দেওয়ার অনুভূতিটা তিনি ঘৃণা করেন। পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হার মানতে না চাওয়ার মানসিকতাই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে।

চারটি শিরোপা এক বছরে, তবে তাড়াহুড়ো নয়
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এক বছরে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের পথে হাঁটবেন কি না আলকারাস। তবে তিনি নিজে কোনো চাপ নিতে রাজি নন। তাঁর কথায়, এক সময়ে একটাই লক্ষ্য। আপাতত নজর ফরাসি ওপেনের দিকে, যেখানে তাঁর স্মৃতি বরাবরই সুখকর। নিজেকে অযথা চাপের মধ্যে না রেখে ধীরে ধীরে এগোতেই চান তিনি।

নতুন মৌসুম, নতুন লক্ষ্য
প্রাক্‌-মৌসুমে দীর্ঘদিনের কোচের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিক দোলাচল পেরিয়ে এই মৌসুম শুরু করেছেন আলকারাস। সামনে তাঁর লক্ষ্য কয়েকটি বড় মাস্টার্স শিরোপা, মৌসুম শেষের ফাইনাল টুর্নামেন্ট এবং দেশের হয়ে ডেভিস কাপ জয়। স্পেনের জন্য বিশেষ কিছু করার তাগিদই তাঁকে তাড়িত করছে।

জয়ের স্মৃতিতে শরীরজুড়ে গল্প
বড় শিরোপা জয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে আলকারাস বরাবরই শরীরে উল্কি আঁকেন। উইম্বলডনের জন্য স্ট্রবেরি, ফরাসি ওপেনের জন্য আইফেল টাওয়ার, যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের জন্য বিশেষ তারিখ—সবই তাঁর শরীরে গল্প হয়ে আছে। মেলবোর্নের এই জয়ের স্মারক হিসেবে এবার যোগ হতে চলেছে ক্যাঙারুর ছবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রুপিয়ার দুর্বলতা শুধু মুদ্রাবাজারের সংকট নয়, মধ্যবিত্তের ভঙ্গুর ভবিষ্যতেরও প্রতিচ্ছবি

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ইতিহাস, এবার কি চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম এক বছরে কার্লোস আলকারাসের

০৮:৫১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মেলবোর্ন পার্কে রোববার রাতে যা ঘটল, তা টেনিস ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচকে ফাইনালে হারিয়ে স্পেনের কার্লোস আলকারাস হয়ে উঠলেন সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়, যিনি চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন। বয়স মাত্র বাইশ। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন স্পেনেরই কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল, তবে তখন তাঁর বয়স ছিল চব্বিশ।

মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় উপস্থিত ছিলেন নাদাল নিজেই। নিজের দেশের উত্তরসূরির এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সহজ হাসি আর শান্ত ভঙ্গির আড়ালে আলকারাস যে কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এই জয় আবারও তা প্রমাণ করল।

রেকর্ডের পথে নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা
এই জয়ের মাধ্যমে আলকারাস শুধু অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতলেন না, নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন একাধিক রেকর্ডে। এর আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ওপেন জিতে সবচেয়ে কম বয়সে বড় শিরোপা জয়ের নজির গড়েছিলেন। পরে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ডও তাঁর দখলে যায়। ফরাসি ওপেনে জয়ের মাধ্যমে মাটি, ঘাস ও হার্ড কোর্ট—তিন ধরনের কোর্টেই গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের কীর্তি গড়ে ফেলেন তিনি সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে।

শৈশবের নায়ক ও নিজের পথচলা
নাদাল ও জোকোভিচকে গভীর শ্রদ্ধা করেন আলকারাস। তবে শৈশবে তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন রজার ফেদেরার। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ফেদেরারের খেলা যেন শিল্পকর্মের মতো, যেখানে সৌন্দর্য আর দক্ষতা একসঙ্গে মিশে থাকে। সাহসী শট, কৌশলের বৈচিত্র্য আর মাঠে নান্দনিক উপস্থিতি—এই গুণগুলোই আজ আলকারাসের খেলাতেও স্পষ্ট।

Image

হাল না ছাড়ার মানসিকতা
চলতি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই সেমিফাইনালে জার্মানির আলেক্সান্ডার জভেরেভের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর মানসিক দৃঢ়তা চোখে পড়ে। পঞ্চম সেটে পিছিয়ে পড়েও, শরীরে টান ধরার মধ্যেই লড়াই চালিয়ে যান তিনি। ম্যাচ শেষে বলেন, হাল ছেড়ে দেওয়ার অনুভূতিটা তিনি ঘৃণা করেন। পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হার মানতে না চাওয়ার মানসিকতাই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে।

চারটি শিরোপা এক বছরে, তবে তাড়াহুড়ো নয়
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এক বছরে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের পথে হাঁটবেন কি না আলকারাস। তবে তিনি নিজে কোনো চাপ নিতে রাজি নন। তাঁর কথায়, এক সময়ে একটাই লক্ষ্য। আপাতত নজর ফরাসি ওপেনের দিকে, যেখানে তাঁর স্মৃতি বরাবরই সুখকর। নিজেকে অযথা চাপের মধ্যে না রেখে ধীরে ধীরে এগোতেই চান তিনি।

নতুন মৌসুম, নতুন লক্ষ্য
প্রাক্‌-মৌসুমে দীর্ঘদিনের কোচের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিক দোলাচল পেরিয়ে এই মৌসুম শুরু করেছেন আলকারাস। সামনে তাঁর লক্ষ্য কয়েকটি বড় মাস্টার্স শিরোপা, মৌসুম শেষের ফাইনাল টুর্নামেন্ট এবং দেশের হয়ে ডেভিস কাপ জয়। স্পেনের জন্য বিশেষ কিছু করার তাগিদই তাঁকে তাড়িত করছে।

জয়ের স্মৃতিতে শরীরজুড়ে গল্প
বড় শিরোপা জয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে আলকারাস বরাবরই শরীরে উল্কি আঁকেন। উইম্বলডনের জন্য স্ট্রবেরি, ফরাসি ওপেনের জন্য আইফেল টাওয়ার, যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের জন্য বিশেষ তারিখ—সবই তাঁর শরীরে গল্প হয়ে আছে। মেলবোর্নের এই জয়ের স্মারক হিসেবে এবার যোগ হতে চলেছে ক্যাঙারুর ছবি।