০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
খাবারের নিশ্চয়তা থেকে শান্তির রাজনীতি: যুদ্ধের আড়ালে মানুষের আসল প্রয়োজন কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র

মালয়েশিয়ায় থাইপুসাম উৎসবের রঙিন উচ্ছ্বাস, বাটু গুহায় লাখো ভক্তের সমাগম

কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠে ঐতিহাসিক বাটু গুহা প্রাঙ্গণ রবিবার রঙ, শব্দ আর ভক্তির ঢেউয়ে ভরে ওঠে। থাইপুসাম উৎসব ঘিরে লাখো হিন্দু ভক্তের উপস্থিতিতে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নানা রঙের সাজ, ঢাকঢোলের তালে তালে ধর্মীয় জপ আর লোকগানের ধ্বনিতে আলোকিত হয়ে ওঠে এই ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান।

বহুসাংস্কৃতিক মালয়েশিয়ায় থাইপুসামের গুরুত্ব

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। সেই বহুত্ববাদী সমাজে থাইপুসাম আলাদা মর্যাদায় পালিত হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই দিনেই দেবী পার্বতী তাঁর পুত্র দেবতা মুরুগনকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ঐশ্বরিক বর্শা প্রদান করেছিলেন। সেই স্মরণে দুধের পাত্র নিবেদন থেকে শুরু করে নানা ত্যাগ ও ব্রতের মাধ্যমে ভক্তরা পালন করেন উৎসব।

বাটু গুহা ঘিরে শতাব্দীপ্রাচীন আয়োজন

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে থাইপুসামের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাটু গুহা। এখানে থাকা বিশাল দেবতা মুরুগনের মূর্তি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বলে পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুরো উৎসবজুড়ে প্রায় পঁচিশ লক্ষ দর্শনার্থীর আগমন প্রত্যাশিত। মন্দিরে পৌঁছাতে রঙিন সাজে সজ্জিত দুই শত বাহাত্তরটি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি।

Image

কাভাদি আর ত্যাগের দৃশ্য

অনেক ভক্ত খালি পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠেন দুধের পাত্র বা ভারী কাভাদি বহন করে। ধাতব কাঠামোর এই কাভাদিতে তীক্ষ্ণ শলাকা শরীরে প্রবেশ করিয়ে বহন করেন কেউ কেউ, যা ওজনে একশ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। ঢাকের তালে তালে শরীর দোলাতে দোলাতে এগিয়ে চলেন তাঁরা, চারপাশে ভেসে আসে ধর্মীয় স্লোগান আর ভক্তিগীতি। ত্যাগ আর ভক্তির এই দৃশ্য থাইপুসামকে করে তোলে আরও গভীর ও আবেগময়।

এশিয়াজুড়ে থাইপুসামের বিস্তার

শুধু মালয়েশিয়াই নয়, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় তামিল হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে থাইপুসাম পালিত হয়। তবে বাটু গুহার এই আয়োজন তার ব্যাপ্তি, রং আর মানুষের অংশগ্রহণের জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খাবারের নিশ্চয়তা থেকে শান্তির রাজনীতি: যুদ্ধের আড়ালে মানুষের আসল প্রয়োজন

মালয়েশিয়ায় থাইপুসাম উৎসবের রঙিন উচ্ছ্বাস, বাটু গুহায় লাখো ভক্তের সমাগম

০৯:২৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠে ঐতিহাসিক বাটু গুহা প্রাঙ্গণ রবিবার রঙ, শব্দ আর ভক্তির ঢেউয়ে ভরে ওঠে। থাইপুসাম উৎসব ঘিরে লাখো হিন্দু ভক্তের উপস্থিতিতে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নানা রঙের সাজ, ঢাকঢোলের তালে তালে ধর্মীয় জপ আর লোকগানের ধ্বনিতে আলোকিত হয়ে ওঠে এই ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান।

বহুসাংস্কৃতিক মালয়েশিয়ায় থাইপুসামের গুরুত্ব

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। সেই বহুত্ববাদী সমাজে থাইপুসাম আলাদা মর্যাদায় পালিত হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই দিনেই দেবী পার্বতী তাঁর পুত্র দেবতা মুরুগনকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ঐশ্বরিক বর্শা প্রদান করেছিলেন। সেই স্মরণে দুধের পাত্র নিবেদন থেকে শুরু করে নানা ত্যাগ ও ব্রতের মাধ্যমে ভক্তরা পালন করেন উৎসব।

বাটু গুহা ঘিরে শতাব্দীপ্রাচীন আয়োজন

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে থাইপুসামের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাটু গুহা। এখানে থাকা বিশাল দেবতা মুরুগনের মূর্তি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বলে পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুরো উৎসবজুড়ে প্রায় পঁচিশ লক্ষ দর্শনার্থীর আগমন প্রত্যাশিত। মন্দিরে পৌঁছাতে রঙিন সাজে সজ্জিত দুই শত বাহাত্তরটি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি।

Image

কাভাদি আর ত্যাগের দৃশ্য

অনেক ভক্ত খালি পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠেন দুধের পাত্র বা ভারী কাভাদি বহন করে। ধাতব কাঠামোর এই কাভাদিতে তীক্ষ্ণ শলাকা শরীরে প্রবেশ করিয়ে বহন করেন কেউ কেউ, যা ওজনে একশ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। ঢাকের তালে তালে শরীর দোলাতে দোলাতে এগিয়ে চলেন তাঁরা, চারপাশে ভেসে আসে ধর্মীয় স্লোগান আর ভক্তিগীতি। ত্যাগ আর ভক্তির এই দৃশ্য থাইপুসামকে করে তোলে আরও গভীর ও আবেগময়।

এশিয়াজুড়ে থাইপুসামের বিস্তার

শুধু মালয়েশিয়াই নয়, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় তামিল হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে থাইপুসাম পালিত হয়। তবে বাটু গুহার এই আয়োজন তার ব্যাপ্তি, রং আর মানুষের অংশগ্রহণের জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।