০৮:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
নীরব বিপ্লবের আঘাত: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি নারীদের মধ্যবিত্ত কর্মজীবনের ভিত্তি নাড়িয়ে দেবে? হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ

মালয়েশিয়ায় থাইপুসাম উৎসবের রঙিন উচ্ছ্বাস, বাটু গুহায় লাখো ভক্তের সমাগম

কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠে ঐতিহাসিক বাটু গুহা প্রাঙ্গণ রবিবার রঙ, শব্দ আর ভক্তির ঢেউয়ে ভরে ওঠে। থাইপুসাম উৎসব ঘিরে লাখো হিন্দু ভক্তের উপস্থিতিতে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নানা রঙের সাজ, ঢাকঢোলের তালে তালে ধর্মীয় জপ আর লোকগানের ধ্বনিতে আলোকিত হয়ে ওঠে এই ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান।

বহুসাংস্কৃতিক মালয়েশিয়ায় থাইপুসামের গুরুত্ব

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। সেই বহুত্ববাদী সমাজে থাইপুসাম আলাদা মর্যাদায় পালিত হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই দিনেই দেবী পার্বতী তাঁর পুত্র দেবতা মুরুগনকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ঐশ্বরিক বর্শা প্রদান করেছিলেন। সেই স্মরণে দুধের পাত্র নিবেদন থেকে শুরু করে নানা ত্যাগ ও ব্রতের মাধ্যমে ভক্তরা পালন করেন উৎসব।

বাটু গুহা ঘিরে শতাব্দীপ্রাচীন আয়োজন

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে থাইপুসামের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাটু গুহা। এখানে থাকা বিশাল দেবতা মুরুগনের মূর্তি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বলে পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুরো উৎসবজুড়ে প্রায় পঁচিশ লক্ষ দর্শনার্থীর আগমন প্রত্যাশিত। মন্দিরে পৌঁছাতে রঙিন সাজে সজ্জিত দুই শত বাহাত্তরটি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি।

Image

কাভাদি আর ত্যাগের দৃশ্য

অনেক ভক্ত খালি পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠেন দুধের পাত্র বা ভারী কাভাদি বহন করে। ধাতব কাঠামোর এই কাভাদিতে তীক্ষ্ণ শলাকা শরীরে প্রবেশ করিয়ে বহন করেন কেউ কেউ, যা ওজনে একশ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। ঢাকের তালে তালে শরীর দোলাতে দোলাতে এগিয়ে চলেন তাঁরা, চারপাশে ভেসে আসে ধর্মীয় স্লোগান আর ভক্তিগীতি। ত্যাগ আর ভক্তির এই দৃশ্য থাইপুসামকে করে তোলে আরও গভীর ও আবেগময়।

এশিয়াজুড়ে থাইপুসামের বিস্তার

শুধু মালয়েশিয়াই নয়, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় তামিল হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে থাইপুসাম পালিত হয়। তবে বাটু গুহার এই আয়োজন তার ব্যাপ্তি, রং আর মানুষের অংশগ্রহণের জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নীরব বিপ্লবের আঘাত: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি নারীদের মধ্যবিত্ত কর্মজীবনের ভিত্তি নাড়িয়ে দেবে?

মালয়েশিয়ায় থাইপুসাম উৎসবের রঙিন উচ্ছ্বাস, বাটু গুহায় লাখো ভক্তের সমাগম

০৯:২৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠে ঐতিহাসিক বাটু গুহা প্রাঙ্গণ রবিবার রঙ, শব্দ আর ভক্তির ঢেউয়ে ভরে ওঠে। থাইপুসাম উৎসব ঘিরে লাখো হিন্দু ভক্তের উপস্থিতিতে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নানা রঙের সাজ, ঢাকঢোলের তালে তালে ধর্মীয় জপ আর লোকগানের ধ্বনিতে আলোকিত হয়ে ওঠে এই ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান।

বহুসাংস্কৃতিক মালয়েশিয়ায় থাইপুসামের গুরুত্ব

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। সেই বহুত্ববাদী সমাজে থাইপুসাম আলাদা মর্যাদায় পালিত হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই দিনেই দেবী পার্বতী তাঁর পুত্র দেবতা মুরুগনকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ঐশ্বরিক বর্শা প্রদান করেছিলেন। সেই স্মরণে দুধের পাত্র নিবেদন থেকে শুরু করে নানা ত্যাগ ও ব্রতের মাধ্যমে ভক্তরা পালন করেন উৎসব।

বাটু গুহা ঘিরে শতাব্দীপ্রাচীন আয়োজন

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে থাইপুসামের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাটু গুহা। এখানে থাকা বিশাল দেবতা মুরুগনের মূর্তি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বলে পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুরো উৎসবজুড়ে প্রায় পঁচিশ লক্ষ দর্শনার্থীর আগমন প্রত্যাশিত। মন্দিরে পৌঁছাতে রঙিন সাজে সজ্জিত দুই শত বাহাত্তরটি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি।

Image

কাভাদি আর ত্যাগের দৃশ্য

অনেক ভক্ত খালি পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠেন দুধের পাত্র বা ভারী কাভাদি বহন করে। ধাতব কাঠামোর এই কাভাদিতে তীক্ষ্ণ শলাকা শরীরে প্রবেশ করিয়ে বহন করেন কেউ কেউ, যা ওজনে একশ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। ঢাকের তালে তালে শরীর দোলাতে দোলাতে এগিয়ে চলেন তাঁরা, চারপাশে ভেসে আসে ধর্মীয় স্লোগান আর ভক্তিগীতি। ত্যাগ আর ভক্তির এই দৃশ্য থাইপুসামকে করে তোলে আরও গভীর ও আবেগময়।

এশিয়াজুড়ে থাইপুসামের বিস্তার

শুধু মালয়েশিয়াই নয়, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় তামিল হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে থাইপুসাম পালিত হয়। তবে বাটু গুহার এই আয়োজন তার ব্যাপ্তি, রং আর মানুষের অংশগ্রহণের জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।