বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় এলে বিদেশে পাচার হওয়া দেশের অর্থ ফিরিয়ে আনা হবে এবং তা রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। সোমবার কক্সবাজারের গোরাখাটা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার অঙ্গীকার
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এই অর্থ দেশের বার্ষিক বাজেটের চার গুণেরও বেশি। তিনি বলেন, এই টাকা জনগণের সম্পদ, যা চোর-ডাকাত ও লুটেরারা বিদেশে পাচার করেছে। জনগণের এই অর্থ ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রের তহবিলে জমা দেওয়া হবে। ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হলে আর কোনো অন্যায়ের সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান
জামায়াত আমির বলেন, দুর্নীতি, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে জামায়াতকে ভোট দিতে হবে। তার ভাষায়, এই আন্দোলন কোনো দলের একক জয়ের জন্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ের জন্য। তিনি বলেন, যদি একটি দল, পরিবার কিংবা গোষ্ঠী ক্ষমতায় জয়ী হয়, তাহলে দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এমন বিজয় তারা চান না।
যুব সমাজ ও কর্মসংস্থানের কথা
যুব সমাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তরুণরা ভাতা নয়, কাজ চায়। কর্মসংস্থানই তাদের প্রধান দাবি। তিনি মনে করেন, দেশের উন্নয়নের জন্য তরুণদের কাজের সুযোগ তৈরি করাই সবচেয়ে জরুরি।
মহেশখালী-কুতুবদিয়া উন্নয়নের পরিকল্পনা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াকে ঘিরে বড় উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে উঠলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর বা হংকংকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা
বর্তমান নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি ও লুটেরাদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়। এমন নেতৃত্বের মাধ্যমে তরুণদের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়। চরিত্রবান, সৎ, দেশপ্রেমিক ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ মানুষের হাতেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বঞ্চিত অঞ্চল ও নারীর নেতৃত্ব
জামায়াত আমির জানান, দেশের সবচেয়ে অবহেলিত এলাকাগুলোকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে নারীদের নেতৃত্বকেও জামায়াতে ইসলামী সমর্থন করে। মহেশখালীকে একটি স্মার্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান, যেখানে ধর্ম বা দল নির্বিশেষে যোগ্যতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
সমাবেশে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলো
এই সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নিজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















