০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুই শিশুকে ঘিরে তোলপাড় গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের আন্দোলন স্থগিত, ঈদের আগেই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস এপ্রিলে মব ভায়োলেন্সে ২২ নিহত, রাজনৈতিক সংঘাতে আরও ৬: এইচআরএসএস প্রতিবেদন ৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

মাত্র ১১ বাজারে আটকে বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ পোশাক রফতানি, বাড়ছে বড় ঝুঁকি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সাফল্যের আড়ালে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে এক গভীর ঝুঁকির চিত্র। বিশ্বের মাত্র ১১টি দেশের ওপর ভর করে চলছে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ পোশাক রফতানি। সাম্প্রতিক রফতানি পরিসংখ্যান বলছে, এই সীমিত বাজারনির্ভরতা ভবিষ্যতে বড় ধাক্কার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

২০২৫ ক্যালেন্ডার বছরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানি আয় দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৩১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে মাত্র ১১টি দেশ থেকে। অর্থাৎ মোট রফতানির প্রায় চার ভাগের তিন ভাগই নির্ভর করছে হাতে গোনা কয়েকটি বাজারের ওপর।

এই তালিকায় সবচেয়ে বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র। এক দেশেই গেছে ৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক। এরপর রয়েছে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন ও ফ্রান্স। ইউরোপের কয়েকটি দেশ মিলিয়ে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির বড় অংশ আটকে আছে এই অঞ্চলে। জাপান ছাড়া বাকি প্রায় সব বাজারই পুরোনো ও পরিচিত, নতুন বাজারের অংশগ্রহণ এখনও নগণ্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পোশাক রফতানির অন্যতম প্রধান গন্তব্য হলেও সেখানে সম্প্রতি চাপ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ইইউতে রফতানি কমেছে, একই সঙ্গে নিটওয়্যার ও ওভেন—দুই ধরনের পোশাকের রফতানিতেই দেখা গেছে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। বাড়তি উৎপাদন ব্যয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর আগ্রাসী প্রণোদনা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাড়লেও এর পেছনে রয়েছে আগাম চালানের প্রভাব। শুল্ক বাড়ার আশঙ্কায় বছরের শুরুতেই বেশি পণ্য পাঠানো হয়, ফলে বছরের শেষ দিকে রফতানির গতি আবার শ্লথ হয়ে পড়ে। একই সময়ে মার্কিন বাজারে সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমেছে, ইউনিট দামও নেমেছে, যা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এত অল্প কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাংলাদেশের পোশাক খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। কোনো একটি বাজারে শুল্ক বৃদ্ধি, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে পুরো খাতেই বড় ধাক্কা লাগতে পারে। নতুন ও নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারে প্রবেশ, পণ্য বৈচিত্র্য এবং নীতিগত সহায়তা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা, টেকসই উৎপাদনের চাপ এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এক সংবেদনশীল সময় পার করছে। এই অবস্থায় বাজার বহুমুখীকরণ ছাড়া টেকসই রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম

মাত্র ১১ বাজারে আটকে বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ পোশাক রফতানি, বাড়ছে বড় ঝুঁকি

০৯:২৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সাফল্যের আড়ালে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে এক গভীর ঝুঁকির চিত্র। বিশ্বের মাত্র ১১টি দেশের ওপর ভর করে চলছে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ পোশাক রফতানি। সাম্প্রতিক রফতানি পরিসংখ্যান বলছে, এই সীমিত বাজারনির্ভরতা ভবিষ্যতে বড় ধাক্কার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

২০২৫ ক্যালেন্ডার বছরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানি আয় দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৩১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে মাত্র ১১টি দেশ থেকে। অর্থাৎ মোট রফতানির প্রায় চার ভাগের তিন ভাগই নির্ভর করছে হাতে গোনা কয়েকটি বাজারের ওপর।

এই তালিকায় সবচেয়ে বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র। এক দেশেই গেছে ৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক। এরপর রয়েছে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন ও ফ্রান্স। ইউরোপের কয়েকটি দেশ মিলিয়ে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির বড় অংশ আটকে আছে এই অঞ্চলে। জাপান ছাড়া বাকি প্রায় সব বাজারই পুরোনো ও পরিচিত, নতুন বাজারের অংশগ্রহণ এখনও নগণ্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পোশাক রফতানির অন্যতম প্রধান গন্তব্য হলেও সেখানে সম্প্রতি চাপ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ইইউতে রফতানি কমেছে, একই সঙ্গে নিটওয়্যার ও ওভেন—দুই ধরনের পোশাকের রফতানিতেই দেখা গেছে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। বাড়তি উৎপাদন ব্যয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর আগ্রাসী প্রণোদনা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাড়লেও এর পেছনে রয়েছে আগাম চালানের প্রভাব। শুল্ক বাড়ার আশঙ্কায় বছরের শুরুতেই বেশি পণ্য পাঠানো হয়, ফলে বছরের শেষ দিকে রফতানির গতি আবার শ্লথ হয়ে পড়ে। একই সময়ে মার্কিন বাজারে সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমেছে, ইউনিট দামও নেমেছে, যা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এত অল্প কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাংলাদেশের পোশাক খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। কোনো একটি বাজারে শুল্ক বৃদ্ধি, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে পুরো খাতেই বড় ধাক্কা লাগতে পারে। নতুন ও নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারে প্রবেশ, পণ্য বৈচিত্র্য এবং নীতিগত সহায়তা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা, টেকসই উৎপাদনের চাপ এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এক সংবেদনশীল সময় পার করছে। এই অবস্থায় বাজার বহুমুখীকরণ ছাড়া টেকসই রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।