চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করতে মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার এই ঘোষণা আসে, যখন টানা তিন দিন ধরে দফায় দফায় কর্মবিরতির কারণে বন্দরের কার্যক্রম আংশিকভাবে অচল হয়ে রয়েছে।
এনসিটি ইজারা নিয়ে অবস্থান
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, এনসিটি একটি স্বনির্ভর ও লাভজনক টার্মিনাল, যা বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত। শ্রমিকদের অভিযোগ, এমন একটি টার্মিনালের কার্যক্রম বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
বন্দরের কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি পরিচালনা করে। চলমান কর্মবিরতির ফলে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হলে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হবে এবং জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শ্রমিকদের দাবি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
প্রতিবাদের জেরে অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে পাঙ্গাঁও ও কমলাপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোতে বদলি করা হয়েছে বলে শ্রমিকদের দাবি। এর মধ্যেই বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে নোটিশ জারি করেছে। তবে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই শনিবার থেকে শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যাপক সংহতি ও বিক্ষোভ
শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় কালো পতাকা মিছিল করেছে। তারা এনসিটি ইজারা সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত বন্দর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি করেছে।
বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আশঙ্কা
মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া ২৪ ঘণ্টার পূর্ণ কর্মবিরতিকে ঘিরে বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত বন্দরের কার্যক্রমকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে এবং সামগ্রিক বাণিজ্য ও লজিস্টিক ব্যবস্থায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















