টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা নতুন করে দুই দেশের ক্রিকেট রাজনীতিকে সামনে এনে দিয়েছে। পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ইস্যুতে সংহতি জানিয়ে ভারত ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিতর্ক বাড়ছে। এ অবস্থায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে দীর্ঘদিন ধরে ‘চাপ প্রয়োগের’ অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তানের সাবেক বোর্ড প্রধান নাজাম সেঠি। তবে এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার।
পাকিস্তানের অভিযোগের জবাবে গাভাস্কারের অবস্থান
এক সাক্ষাৎকারে গাভাস্কার বলেন, বাস্তবে ভারতই বরাবর প্রথমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতে ভারত পাকিস্তানের শিল্পী, গায়ক ও তারকাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, কিন্তু একই ধরনের প্রতিদান খুব কমই দেখা গেছে। তাঁর মতে, পাকিস্তান প্রায়ই ভারতের আমন্ত্রণের প্রত্যাশা করে, অথচ নিজেদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয় না। এমনকি পাকিস্তান সুপার লিগে ধারাভাষ্য দেওয়ার জন্যও তাঁকে কখনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানান তিনি।

আইপিএলের উদাহরণ টেনে পাল্টা যুক্তি
গাভাস্কার স্মরণ করিয়ে দেন, দুই দেশের সম্পর্ক ভালো থাকাকালে আইপিএলের শুরুর আসরেই পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা অংশ নিয়েছিলেন এবং ধারাভাষ্য দলেও পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব ছিল। তাঁর বক্তব্য, অতীতে ভারত বহুবার এগিয়ে এসেছে, তাই ‘চাপ প্রয়োগ’ তত্ত্ব বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
‘চাপ’ শব্দটি কেবল অজুহাত
ভারত বা বোর্ডের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের অভিযোগকে তিনি সহজ অজুহাত হিসেবে উল্লেখ করেন। গাভাস্কারের ভাষায়, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সব সিদ্ধান্ত স্পষ্ট থাকে। যেমন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ক্ষেত্রে ভারত পাকিস্তানে না গিয়ে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ খেলবে—এ তথ্য আগেই জানা ছিল। ফলে এখানে চাপের প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, সত্যিই যদি কেউ চাপের শিকার হয়, তবে তার সেরা জবাব হলো দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা।
শেষ মুহূর্তে ম্যাচ বয়কটের সমালোচনা
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে পাকিস্তানের সরে দাঁড়ানোকে ভুল দৃষ্টান্ত বলেও মন্তব্য করেন গাভাস্কার। তাঁর মতে, এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা কঠোর ব্যবস্থা নিতেও পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















