০২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হলে দুর্নীতি বাড়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা ইরান-আমেরিকা সংঘাতের শেষ অধ্যায় চান ট্রাম্প, অনিশ্চয়তার মুখে মধ্যপ্রাচ্য দ্য ইকোনমিস্ট -এর প্রতিবেদন: নব্বই ও দুই হাজার দশকে বিএনপি তিনবার ক্ষমতায় এলেও শাসনকাল খুব উজ্জ্বল ছিল না সীমান্তের গুলিতে আহত শিশু আফনানের মৃত্যু, টেকনাফজুড়ে শোক ও উদ্বেগ মালয়েশিয়ায় পৃথক অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৭৭ অবৈধ অভিবাসী আটক, কঠোর অবস্থানে কর্তৃপক্ষ জামায়াতের জনসভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে আলোচনা, ব্যাখ্যায় এবি পার্টি নেতা কমার একদিন পরই আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ছুঁল দুই লাখ বাষট্টি হাজার শি চিনপিংয়ের শুদ্ধি অভিযান নিয়ন্ত্রণের অবসান, শুরু পারমাণবিক বিশৃঙ্খলার যুগ

নরওয়েতে এপস্টিন কেলেঙ্কারির ছায়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্তের মুখে ইউরোপজুড়ে চাপ বাড়ছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে নতুন নথি প্রকাশের পর ইউরোপের একাধিক দেশে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত শুরুর প্রস্তুতি চলছে। প্রকাশিত নথিতে ইউরোপের রাজনীতিক, রাজপরিবারের সদস্য এবং প্রভাবশালী ধনীদের সঙ্গে এপস্টিনের বিস্তৃত যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে, যা নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ইউরোপজুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

নতুন তথ্য সামনে আসার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত করা হয়েছিল। ব্রিটিশ রাজপরিবারের এক সদস্যকে আগেই উপাধি ও আবাসন ছাড়তে হয়েছে এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে সাক্ষ্য দেওয়ার চাপ বাড়ছে। স্লোভাকিয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন ইমেইল ফাঁসের জেরে। ফ্রান্সেও সাবেক এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি উঠেছে। ফলে কেলেঙ্কারিটি ধীরে ধীরে ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক অস্বস্তির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

Norway to probe Epstein revelations as scandal reverberates round Europe

নরওয়েতে নজর রাজপরিবার ও কূটনীতিকদের ওপর

শান্তি নোবেল পুরস্কারের দেশ নরওয়েতেই প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে তীব্র দেখা যাচ্ছে। ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী থরবিয়র্ন ইয়াগল্যান্ড, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোরগে ব্রেন্ডে, জর্ডান ও ইরাকে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোনা জুল এবং তার স্বামী তেরিয়ে রোদ-লারসেন—সবার নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রাসাদ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ক্রাউন প্রিন্সেস রাজা ও রানির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নথিতে দেখা গেছে, শিশু যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও এপস্টিনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

দুর্নীতি তদন্ত ও কূটনৈতিক জটিলতা

ইয়াগল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির সন্দেহে তদন্ত শুরু করেছে নরওয়ের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন সংস্থা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কূটনৈতিক দায়মুক্তি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানও অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান চালিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে মোনা জুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলাকালে। রোদ-লারসেনের আইনজীবী বলেছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই এবং তিনি সহযোগিতায় প্রস্তুত, যদিও অসুস্থতার কারণে কথা বলা ও লেখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

Chronic lung disease: Crown Princess Mette-Marit faces long stay in hospital | blue News

রাজ পরিবারের বাড়তি চাপ

ক্রাউন প্রিন্সেস দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের রোগে ভুগছেন, ফলে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো তার পক্ষে কঠিন বলে জানিয়েছে প্রাসাদ। একই সময়ে তার আগের সম্পর্কের সন্তান মারিয়ুস ধর্ষণ ও গার্হস্থ্য সহিংসতার মামলায় বিচারের মুখোমুখি হওয়ায় নরওয়ের রাজপরিবার অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে।

রাজনৈতিক তদন্তের পথে নরওয়ে

নরওয়ের সংসদের বেশিরভাগ দল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ে স্বাধীন তদন্তে সমর্থন দিচ্ছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় তদারকির মাধ্যমেই তদন্ত চান। সব মিলিয়ে এপস্টিন-সংযোগ ঘিরে নরওয়ে এখন ইউরোপীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হলে দুর্নীতি বাড়ে

নরওয়েতে এপস্টিন কেলেঙ্কারির ছায়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্তের মুখে ইউরোপজুড়ে চাপ বাড়ছে

১২:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে নতুন নথি প্রকাশের পর ইউরোপের একাধিক দেশে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত শুরুর প্রস্তুতি চলছে। প্রকাশিত নথিতে ইউরোপের রাজনীতিক, রাজপরিবারের সদস্য এবং প্রভাবশালী ধনীদের সঙ্গে এপস্টিনের বিস্তৃত যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে, যা নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ইউরোপজুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

নতুন তথ্য সামনে আসার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত করা হয়েছিল। ব্রিটিশ রাজপরিবারের এক সদস্যকে আগেই উপাধি ও আবাসন ছাড়তে হয়েছে এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে সাক্ষ্য দেওয়ার চাপ বাড়ছে। স্লোভাকিয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন ইমেইল ফাঁসের জেরে। ফ্রান্সেও সাবেক এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি উঠেছে। ফলে কেলেঙ্কারিটি ধীরে ধীরে ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক অস্বস্তির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

Norway to probe Epstein revelations as scandal reverberates round Europe

নরওয়েতে নজর রাজপরিবার ও কূটনীতিকদের ওপর

শান্তি নোবেল পুরস্কারের দেশ নরওয়েতেই প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে তীব্র দেখা যাচ্ছে। ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী থরবিয়র্ন ইয়াগল্যান্ড, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোরগে ব্রেন্ডে, জর্ডান ও ইরাকে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোনা জুল এবং তার স্বামী তেরিয়ে রোদ-লারসেন—সবার নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রাসাদ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ক্রাউন প্রিন্সেস রাজা ও রানির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নথিতে দেখা গেছে, শিশু যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও এপস্টিনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

দুর্নীতি তদন্ত ও কূটনৈতিক জটিলতা

ইয়াগল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির সন্দেহে তদন্ত শুরু করেছে নরওয়ের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন সংস্থা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কূটনৈতিক দায়মুক্তি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানও অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান চালিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে মোনা জুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলাকালে। রোদ-লারসেনের আইনজীবী বলেছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই এবং তিনি সহযোগিতায় প্রস্তুত, যদিও অসুস্থতার কারণে কথা বলা ও লেখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

Chronic lung disease: Crown Princess Mette-Marit faces long stay in hospital | blue News

রাজ পরিবারের বাড়তি চাপ

ক্রাউন প্রিন্সেস দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের রোগে ভুগছেন, ফলে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো তার পক্ষে কঠিন বলে জানিয়েছে প্রাসাদ। একই সময়ে তার আগের সম্পর্কের সন্তান মারিয়ুস ধর্ষণ ও গার্হস্থ্য সহিংসতার মামলায় বিচারের মুখোমুখি হওয়ায় নরওয়ের রাজপরিবার অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে।

রাজনৈতিক তদন্তের পথে নরওয়ে

নরওয়ের সংসদের বেশিরভাগ দল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ে স্বাধীন তদন্তে সমর্থন দিচ্ছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় তদারকির মাধ্যমেই তদন্ত চান। সব মিলিয়ে এপস্টিন-সংযোগ ঘিরে নরওয়ে এখন ইউরোপীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।