০২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আফ্রিকায় মার্কিন সহায়তা—কম উদার,বেশি শর্তসাপেক্ষ বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হলে দুর্নীতি বাড়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা ইরান-আমেরিকা সংঘাতের শেষ অধ্যায় চান ট্রাম্প, অনিশ্চয়তার মুখে মধ্যপ্রাচ্য দ্য ইকোনমিস্ট -এর প্রতিবেদন: নব্বই ও দুই হাজার দশকে বিএনপি তিনবার ক্ষমতায় এলেও শাসনকাল খুব উজ্জ্বল ছিল না সীমান্তের গুলিতে আহত শিশু আফনানের মৃত্যু, টেকনাফজুড়ে শোক ও উদ্বেগ মালয়েশিয়ায় পৃথক অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৭৭ অবৈধ অভিবাসী আটক, কঠোর অবস্থানে কর্তৃপক্ষ জামায়াতের জনসভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে আলোচনা, ব্যাখ্যায় এবি পার্টি নেতা কমার একদিন পরই আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ছুঁল দুই লাখ বাষট্টি হাজার শি চিনপিংয়ের শুদ্ধি অভিযান

গ্রিনল্যান্ড ঘিরে হুমকি আর শুল্কের ঝাঁজে ন্যাটোর ভাঙন কি শুরু

ওয়াশিংটন থেকে আসা সাম্প্রতিক ভাষ্য আর আচরণে বিশ্ব রাজনীতিতে যে অস্বস্তি ছড়িয়েছে, তাকে অনেক কূটনীতিক আর মিত্র দেশ আর ক্ষমতার পালাবদল বলে দেখছেন না। তাদের চোখে এটি একটি গভীর ছিন্নতা। ডাভোসে জানুয়ারির বক্তৃতা থেকে শুরু করে গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত পর্যন্ত ধারাবাহিক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, সেখানে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ই প্রশ্ন উঠছে।

গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ধোঁয়াশা

গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ন্ত্রণে কতদূর যেতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র—এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জানুয়ারির এক সংবাদ সম্মেলনে কেবল ইঙ্গিতই দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিন পরে বলেছিলেন শক্তি প্রয়োগ করবেন না, কিন্তু ততক্ষণে সন্দেহ গভীর হয়ে গেছে। ডেনমার্ক ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোটের ছাতার নিচে। ফলে সেখানে সামরিক পদক্ষেপ মানেই এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে মিত্র দেশগুলোকে এক সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিতে হবে। এই দ্বিধাই জোটের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।

ন্যাটোর অস্তিত্ব সংকটে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে স্থিতি আর সমৃদ্ধি এনেছিল, সেটি আজ দ্বিমুখী চাপে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি, অন্যদিকে সেই যুক্তিতেই জোট ভেঙে পড়ার আশঙ্কা। অনেক বিশ্লেষকের মতে, জোট ভেঙে পড়লে তা রাশিয়া কিংবা চীনের মতো শক্তিগুলোকেই সাহস জোগাবে।

মিত্রদের পাল্টা প্রস্তুতি

এই উত্তেজনায় ব্রিটেন উত্তেজনা কমাতে প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। জার্মানি সম্ভাব্য শুল্কের জবাবে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার কথা ভাবছে। ফ্রান্স জরুরি বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও তাতে সাড়া মেলেনি। ইউরোপের কয়েকটি দেশ যৌথ সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর বাণিজ্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথাও আলোচনায় এসেছে।

ডাভোসে শক্তির রাজনীতির বিরোধিতা

ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনের মঞ্চে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরোঁ স্পষ্ট ভাষায় শক্তির আইন প্রত্যাখ্যানের কথা বলেন। তার বক্তব্যে ছিল সম্মানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান, যা সরাসরি ওয়াশিংটনের বর্তমান সুরের বিপরীতে দাঁড়ায়।

ওয়াশিংটনের আগুনে ঘি

এই সময়েই নতুন শুল্ক, মিত্রদের ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ব্যঙ্গচিত্র ছড়ানো—সব মিলিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ন্যাটোর কিছু কার্যক্রমে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনার খবর ও বেরিয়েছে। এমনকি নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়া নিয়ে ও তির্যক মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

ভয় থেকে আবার আতঙ্ক

একসময় সার্বভৌম দেশ দখলের কথা শুনে বিশ্ব কেবল ভ্রু কুঁচকাত। এখন সেই আলাপ ফের আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। কানাডার প্রতিরক্ষা মহল পর্যন্ত মানচিত্র খুলে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করছে। দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে সতর্কতাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আফ্রিকায় মার্কিন সহায়তা—কম উদার,বেশি শর্তসাপেক্ষ

গ্রিনল্যান্ড ঘিরে হুমকি আর শুল্কের ঝাঁজে ন্যাটোর ভাঙন কি শুরু

০১:১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ওয়াশিংটন থেকে আসা সাম্প্রতিক ভাষ্য আর আচরণে বিশ্ব রাজনীতিতে যে অস্বস্তি ছড়িয়েছে, তাকে অনেক কূটনীতিক আর মিত্র দেশ আর ক্ষমতার পালাবদল বলে দেখছেন না। তাদের চোখে এটি একটি গভীর ছিন্নতা। ডাভোসে জানুয়ারির বক্তৃতা থেকে শুরু করে গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত পর্যন্ত ধারাবাহিক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, সেখানে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ই প্রশ্ন উঠছে।

গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ধোঁয়াশা

গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ন্ত্রণে কতদূর যেতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র—এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জানুয়ারির এক সংবাদ সম্মেলনে কেবল ইঙ্গিতই দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিন পরে বলেছিলেন শক্তি প্রয়োগ করবেন না, কিন্তু ততক্ষণে সন্দেহ গভীর হয়ে গেছে। ডেনমার্ক ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোটের ছাতার নিচে। ফলে সেখানে সামরিক পদক্ষেপ মানেই এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে মিত্র দেশগুলোকে এক সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিতে হবে। এই দ্বিধাই জোটের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।

ন্যাটোর অস্তিত্ব সংকটে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে স্থিতি আর সমৃদ্ধি এনেছিল, সেটি আজ দ্বিমুখী চাপে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি, অন্যদিকে সেই যুক্তিতেই জোট ভেঙে পড়ার আশঙ্কা। অনেক বিশ্লেষকের মতে, জোট ভেঙে পড়লে তা রাশিয়া কিংবা চীনের মতো শক্তিগুলোকেই সাহস জোগাবে।

মিত্রদের পাল্টা প্রস্তুতি

এই উত্তেজনায় ব্রিটেন উত্তেজনা কমাতে প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। জার্মানি সম্ভাব্য শুল্কের জবাবে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার কথা ভাবছে। ফ্রান্স জরুরি বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও তাতে সাড়া মেলেনি। ইউরোপের কয়েকটি দেশ যৌথ সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর বাণিজ্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথাও আলোচনায় এসেছে।

ডাভোসে শক্তির রাজনীতির বিরোধিতা

ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনের মঞ্চে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরোঁ স্পষ্ট ভাষায় শক্তির আইন প্রত্যাখ্যানের কথা বলেন। তার বক্তব্যে ছিল সম্মানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান, যা সরাসরি ওয়াশিংটনের বর্তমান সুরের বিপরীতে দাঁড়ায়।

ওয়াশিংটনের আগুনে ঘি

এই সময়েই নতুন শুল্ক, মিত্রদের ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ব্যঙ্গচিত্র ছড়ানো—সব মিলিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ন্যাটোর কিছু কার্যক্রমে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনার খবর ও বেরিয়েছে। এমনকি নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়া নিয়ে ও তির্যক মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

ভয় থেকে আবার আতঙ্ক

একসময় সার্বভৌম দেশ দখলের কথা শুনে বিশ্ব কেবল ভ্রু কুঁচকাত। এখন সেই আলাপ ফের আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। কানাডার প্রতিরক্ষা মহল পর্যন্ত মানচিত্র খুলে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করছে। দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে সতর্কতাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ পথ।