বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তিনটি মূল বিষয়ে বিশেষ নজর রাখবে। শুক্রবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলের প্রধান ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস। তিনি জানান, নিরাপত্তা, ভোটার অংশগ্রহণ এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ হবে পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ইইউ।

আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মইন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে ইভার্স ইজাবস বলেন, “আমরা আপনাদের সুন্দর দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে এসেছি। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” তিনি জানান, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করে এই মিশন কাজ করছে, যেখানে তাদের ভূমিকা কেবল পর্যবেক্ষণ করা, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া নয়। নির্বাচন খুব কাছে বলে তিনি কোনো দলের নিয়ম লঙ্ঘন বা অন্যান্য বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
ইভার্স ইজাবস আরও জানান, নির্বাচনের পরপরই ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তারা প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেবেন এবং পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আসবে দুই মাস পর। এক মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই মিশনের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ দল (এলটিও) ইতিমধ্যে ঢাকা ও অন্যান্য এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্তৃপক্ষ, প্রার্থী, দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং বিভিন্ন এনজিওর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
৯০ জন নতুন পর্যবেক্ষক আসছেন

ইউরোপ থেকে আসা অতিরিক্ত পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে তিনি জানান, “আমাদের সহকর্মী বাম্বি এবং ক্রিশ্চিয়ান এক মাস ধরে এখানে কাজ করছেন। আগামীকাল ইউরোপ থেকে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক যোগ দেবেন। তারা নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে প্রচারণা এবং ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করবেন।” তিনি উল্লেখ করেন, এটি শুধু ইইউর মিশন নয়; সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে এবং কানাডা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশও এতে অংশ নিচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা, শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে থাকবেন।
তিনটি মূল ফোকাস তুলে ধরে ইভার্স ইজাবস বলেন, “নাগরিকরা কতটা নিরাপদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন, নারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীসহ সবার অন্তর্ভুক্তি এবং প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে কিনা, সেদিকে আমরা বিশেষ নজর রাখব।” তিনি জানান, ঢাকায় তাদের মূল দলে আইনি বিশেষজ্ঞ, নির্বাচন বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক রয়েছেন, যারা ঐতিহ্যবাহী ও সামাজিক গণমাধ্যম উভয়ই পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে তারা প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছেন না বা কাউকে পরামর্শও দিচ্ছেন না।
ইইউ পার্লামেন্ট সদস্য জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব মূলত বাংলাদেশের নাগরিকদের এবং বাইরে থেকে হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, “আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। আজকের পরিবর্তনশীল বিশ্বে গণতান্ত্রিক ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার খুঁজে পাওয়া ইইউর অগ্রাধিকারগুলোর একটি।” বাণিজ্য সম্পর্কে তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং সবুজ জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তনে বিনিয়োগ করতে চায় ইইউ। এই অংশীদারিত্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















