পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের তারলাই এলাকায় জুমার নামাজ চলাকালে একটি ইমামবারগাহে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত বত্রিশ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইমাম বারগাহ খাদিজাতুল কুবরার প্রবেশমুখে হামলাকারী নিজেকে উড়িয়ে দেওয়ার আগে গুলিবর্ষণ ও করে। নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলে সংঘর্ষের মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই চারদিকে হতাহত ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ধার তৎপরতা ও জরুরি অবস্থা
বিস্ফোরণের পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ ও আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে। রাজধানীর প্রধান কয়েকটি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয় এবং আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়। চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, বহু আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হামলাকারীর পরিচয় ও তদন্ত
তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন আত্মঘাতীর পরিচয়পত্র উদ্ধার করেন। তিনি পেশোয়ারের বাসিন্দা ইয়াসির নামে এক ব্যক্তি বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গত কয়েক মাস তিনি আফগানিস্তানে অবস্থান করে অস্ত্র ও আত্মঘাতী হামলার প্রশিক্ষণ নেন। তার সম্ভাব্য সহযোগী ও নেটওয়ার্ক শনাক্তে পেশোয়ার ও নওশেরায় অভিযান চলছে। পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার কথা বলেছেন। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী আহতদের চিকিৎসা তদারকিতে হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে দেশজুড়ে শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে কিছু সাংস্কৃতিক ও উৎসবমুখর কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
মানবিক শোক ও জাতীয় উদ্বেগ
জুমার নামাজের মতো ধর্মীয় সমাবেশে হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক নেতা, বিরোধী দল ও বিভিন্ন মহল একে কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দিয়ে ধর্মীয় উপাসনালয়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















