চাহিদা ও জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বন্দ্ব
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতকালীন ঠান্ডা ও দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নের প্রভাব একসঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে। ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু দেশে জানুয়ারিতে হঠাৎ তাপমাত্রা ওঠানামার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা মৌসুমি গড়ের চেয়ে বেশি হয়েছে।

বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, আগের বছরের তুলনায় গ্যাস মজুত ভালো থাকলেও অবকাঠামোর ওপর চাপ বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা বাড়ায় রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনা জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোনো গ্রিড কাঠামো এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না।
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে জীবাশ্ম জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্যুৎ আমদানির সমন্বয় করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা কাজ করলেও দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন এখনো অসম্পূর্ণ।
অবকাঠামো অভিযোজনের চ্যালেঞ্জ
গ্রিড পরিচালকদের মতে, পরিকল্পনায় এখন এক মৌসুম নয়, সারা বছরের চরম পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল যন্ত্রপাতিকে একই সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা ও ঝড় সামলাতে সক্ষম হতে হবে। এতে ব্যয় বাড়ছে এবং উন্নয়ন প্রকল্প বিলম্বিত হচ্ছে।
নবায়নযোগ্য শক্তি কিছু ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। ঠান্ডার সময় বাতাস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সাহায্য করেছে। তবে বাতাস ও সূর্যালোকের অনিয়মিততা শীতকালে ব্যাকআপ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে।
সরকারগুলো সক্ষমতা বাজার ও জরুরি রিজার্ভ পুনর্বিবেচনা করছে। আলোচনায় এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে শক্তি সঞ্চয়, চাহিদা ব্যবস্থাপনা ও স্মার্ট বিতরণ ব্যবস্থা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, লক্ষ্য হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কিন্তু কার্বন নির্ভরতা বাড়ানো নয়।
নিরাপত্তা ও জলবায়ু লক্ষ্যের ভারসাম্য
গ্রিডের ওপর চাপ বাড়ায় শক্তি রূপান্তরের গতি নিয়ে বিতর্ক নতুন করে উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, নির্ভরযোগ্যতার জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি প্ল্যান্ট বন্ধে ধীরগতি দরকার। অন্যরা মনে করেন, জলবায়ু চরমতা বাড়ায় পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়াই নিরাপদ পথ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















