০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৪) সিইএসে শকজের ‘ওপেনফিট প্রো’: ওপেন-ইয়ার ইয়ারবাড এখন আরও প্রিমিয়াম ফিলিপাইনে সাবেক জেনারেলের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসনের উদাহরণ বলল সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান নিন্দা করল মেক্সিকো, ‘পরের টার্গেট’ হওয়া এড়াতে সতর্ক শেইনবাউম প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫১) সাত বিষয়ে ফেল করায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিল বিএনপি নেতার ছেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গলা কাটা অবস্থায় স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার রমজান বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডাল ও ভোজ্যতেল আমদানির অনুমোদন সরকারের ভেনেজুয়েলার শান্তির নোবেলের বয়ান  শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় স্থবির উত্তরাঞ্চল, রংপুর মেডিক্যালে রোগীর চাপ বাড়ছে

চীনা টারবাইন আসছে, দুশ্চিন্তায় ইউরোপের বাতাস বিদ্যুৎ শিল্প

ইউরোপে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় ভরসা বাতাসবিদ্যুৎ। কার্বন নিঃসরণ কমাতে আগামী কয়েক বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাতাসের ওপর নির্ভরতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। কিন্তু এই বিশাল পরিকল্পনার মাঝেই ইউরোপের টারবাইন নির্মাতাদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে নতুন এক বাস্তবতা। চীনের টারবাইন নির্মাতারা এখন ইউরোপের বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা শিল্পের ভেতরে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইউরোপের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও শিল্পের চাপ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী দশকের শুরুতেই বাতাসবিদ্যুৎ সক্ষমতা অনেক বাড়াতে চায়। ব্রিটেনও সমুদ্রভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় লক্ষ্য স্থির করেছে। এত বড় চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের নিজস্ব নির্মাতারা আশ্বস্ত নন। গত কয়েক বছরে কাঁচামালের দাম বেড়েছে, সুদের হার চড়া হয়েছে, আর নানা কারিগরি সমস্যায় লাভ কমেছে। কিছু দেশে নতুন প্রকল্প বাতিলও হয়েছে। ফলে শিল্পের ভিত নড়বড়ে।

চীনের ঘরোয়া বাজার থেকে বিশ্বমুখী যাত্রা
দীর্ঘদিন চীনা টারবাইন নির্মাতারা নিজেদের দেশের বিশাল বাজারেই সীমাবদ্ধ ছিল। সরকারি সহায়তা ও সুরক্ষার কারণে তারা দ্রুত বড় হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই বাজারে ভর্তুকি কমেছে, অতিরিক্ত উৎপাদনের চাপ বেড়েছে এবং মুনাফা কমেছে। এর ফলেই চীনের বড় নির্মাতারা বিদেশমুখী হচ্ছে। গত এক বছরে তারা ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টারবাইন বসানোর চুক্তি করেছে।

ইউরোপের বাজারে প্রবেশ ও রাজনৈতিক বাধা
চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথমে অপেক্ষাকৃত ছোট বাজারে কাজ শুরু করলেও এখন পশ্চিম ইউরোপের দিকেও নজর দিচ্ছে। ব্রিটেনের মতো দেশে বড় বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপনের ঘোষণা এসেছে। তবে এই অগ্রযাত্রার পথে রাজনৈতিক বাধা স্পষ্ট। জার্মানি ও ব্রিটেনে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে কিছু চুক্তি বাতিল হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, টারবাইনের যন্ত্রাংশ বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্রিডে প্রভাব ফেলা যেতে পারে।

নিরাপত্তা বিতর্ক ও পাল্টা যুক্তি
সমালোচকদের মতে, কঠোর তথ্য সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ থাকলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ইউরোপের নির্মাতারাও বহু যন্ত্রাংশের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবকিছু নিজ দেশে তৈরি করা ব্যয়বহুল। তবে সংবেদনশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

ডিকার্বনাইজেশনের পথে নতুন দ্বন্দ্ব
বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজনৈতিক অনীহা ও সুরক্ষাবাদ চীনা নির্মাতাদের ইউরোপে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার ঠেকাতে পারে। তবু বাস্তবতা হলো, দ্রুত সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের পথে ইউরোপ এখন এক কঠিন সমীকরণের মুখে। সস্তা ও দ্রুত সরবরাহ বনাম শিল্প সুরক্ষা ও নিরাপত্তা—এই দ্বন্দ্বই আগামী দিনের বাতাসবিদ্যুৎ নীতিকে প্রভাবিত করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৪)

চীনা টারবাইন আসছে, দুশ্চিন্তায় ইউরোপের বাতাস বিদ্যুৎ শিল্প

০১:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইউরোপে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় ভরসা বাতাসবিদ্যুৎ। কার্বন নিঃসরণ কমাতে আগামী কয়েক বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাতাসের ওপর নির্ভরতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। কিন্তু এই বিশাল পরিকল্পনার মাঝেই ইউরোপের টারবাইন নির্মাতাদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে নতুন এক বাস্তবতা। চীনের টারবাইন নির্মাতারা এখন ইউরোপের বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা শিল্পের ভেতরে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইউরোপের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও শিল্পের চাপ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী দশকের শুরুতেই বাতাসবিদ্যুৎ সক্ষমতা অনেক বাড়াতে চায়। ব্রিটেনও সমুদ্রভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় লক্ষ্য স্থির করেছে। এত বড় চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের নিজস্ব নির্মাতারা আশ্বস্ত নন। গত কয়েক বছরে কাঁচামালের দাম বেড়েছে, সুদের হার চড়া হয়েছে, আর নানা কারিগরি সমস্যায় লাভ কমেছে। কিছু দেশে নতুন প্রকল্প বাতিলও হয়েছে। ফলে শিল্পের ভিত নড়বড়ে।

চীনের ঘরোয়া বাজার থেকে বিশ্বমুখী যাত্রা
দীর্ঘদিন চীনা টারবাইন নির্মাতারা নিজেদের দেশের বিশাল বাজারেই সীমাবদ্ধ ছিল। সরকারি সহায়তা ও সুরক্ষার কারণে তারা দ্রুত বড় হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই বাজারে ভর্তুকি কমেছে, অতিরিক্ত উৎপাদনের চাপ বেড়েছে এবং মুনাফা কমেছে। এর ফলেই চীনের বড় নির্মাতারা বিদেশমুখী হচ্ছে। গত এক বছরে তারা ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টারবাইন বসানোর চুক্তি করেছে।

ইউরোপের বাজারে প্রবেশ ও রাজনৈতিক বাধা
চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথমে অপেক্ষাকৃত ছোট বাজারে কাজ শুরু করলেও এখন পশ্চিম ইউরোপের দিকেও নজর দিচ্ছে। ব্রিটেনের মতো দেশে বড় বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপনের ঘোষণা এসেছে। তবে এই অগ্রযাত্রার পথে রাজনৈতিক বাধা স্পষ্ট। জার্মানি ও ব্রিটেনে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে কিছু চুক্তি বাতিল হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, টারবাইনের যন্ত্রাংশ বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্রিডে প্রভাব ফেলা যেতে পারে।

নিরাপত্তা বিতর্ক ও পাল্টা যুক্তি
সমালোচকদের মতে, কঠোর তথ্য সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ থাকলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ইউরোপের নির্মাতারাও বহু যন্ত্রাংশের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবকিছু নিজ দেশে তৈরি করা ব্যয়বহুল। তবে সংবেদনশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

ডিকার্বনাইজেশনের পথে নতুন দ্বন্দ্ব
বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজনৈতিক অনীহা ও সুরক্ষাবাদ চীনা নির্মাতাদের ইউরোপে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার ঠেকাতে পারে। তবু বাস্তবতা হলো, দ্রুত সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের পথে ইউরোপ এখন এক কঠিন সমীকরণের মুখে। সস্তা ও দ্রুত সরবরাহ বনাম শিল্প সুরক্ষা ও নিরাপত্তা—এই দ্বন্দ্বই আগামী দিনের বাতাসবিদ্যুৎ নীতিকে প্রভাবিত করবে।