মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার জেরে দুবাইয়ে হঠাৎই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে আকাশ। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফা খালি করে দিতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। একই সঙ্গে দুবাইয়ের প্রধান দুটি বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
বিস্ফোরণে কাঁপল দুবাই
শনিবার বিকেল ও সন্ধ্যায় দুবাই জুড়ে একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বাসিন্দারা জানান, জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে এবং রাতের আকাশে আগুনের রেখা দেখা যায়। তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বলে দাবি করে।
দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ এলাকায় একটি ঘটনায় চারজন আহত হন। কর্তৃপক্ষ জানায়, জরুরি সেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যদিও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জড়িত কি না, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

কেন খালি করা হলো বুর্জ খলিফা
৮২৮ মিটার উঁচু বুর্জ খলিফা শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি দুবাইয়ের প্রতীক। বিস্ফোরণের পর আশঙ্কা তৈরি হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বাধাপ্রাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়তে পারে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভবনটি দ্রুত খালি করে দেওয়া হয়।
ভবনটিতে আবাসিক ফ্ল্যাট, দপ্তর ও পর্যবেক্ষণ ডেক রয়েছে। বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। সরাসরি আঘাতের খবর না মিললেও কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি।

বিমান চলাচল বন্ধ, আকাশপথে নিষেধাজ্ঞা
পরিস্থিতির জেরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। উপসাগরীয় আকাশসীমা আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতও নিজেদের আকাশপথে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।
ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমান করিডরে হঠাৎ করেই স্থবিরতা নেমে আসে।

আবুধাবিতেও হামলার প্রভাব
ইরান জানায়, তারা আবুধাবি ও দুবাইয়ের কিছু স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। আবুধাবিতে একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক এশীয় নাগরিক নিহত হন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। আবুধাবিতে একটি যৌথ ঘাঁটি রয়েছে এবং দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরেও নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ ভিড়ে।
উপসাগরজুড়ে আতঙ্ক
দোহা, রিয়াদ ও মানামার আকাশেও ক্ষেপণাস্ত্র দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। একাধিক রাজধানীতে সাইরেন বেজে ওঠে। বহু বাসিন্দাকে সতর্কতামূলকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থিতিশীলতার জন্য পরিচিত উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোতে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়। শনিবারের এই ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংঘাতের বিস্তার ও কূটনৈতিক ভারসাম্য
তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরই এই উত্তেজনা চরমে ওঠে। উপসাগরীয় দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক বজায় রেখেও তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে এসেছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ে সেই ভারসাম্য বড় ধাক্কা খেল। বিমানবন্দর বন্ধ, বহুতল ভবন কাঁপা, আকাশে ধোঁয়া—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি এখন অনিশ্চয়তার প্রান্তে দাঁড়িয়ে।
কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের গুজব এড়িয়ে শুধু সরকারি ঘোষণার ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















