গাজীপুরে একই দিনে দুই দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শ্রীপুর ও সদর উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। একটি মরদেহের পরিচয় এখনো জানা যায়নি, অন্যটি মাদরাসাছাত্র মাহাবুর ইসলাম রনি বলে নিশ্চিত করেছে পরিবার।
শ্রীপুরে গাজরী বনে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ
শনিবার সকালে শ্রীপুর উপজেলার বৃন্দাবন এলাকায় বর্মী–এমসি বাজার সড়কের পাশে স্থানীয়রা একটি দগ্ধ মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ২০ বছর বয়সী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহটি পোড়া অবস্থায় ছিল এবং গলায় দড়ি বাঁধা ছিল।
শ্রীপুর থানার কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যুবককে অন্য কোথাও হত্যা করে নির্জন গাজরী বন এলাকায় এনে আগুন দিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, যাতে অপরাধের আলামত নষ্ট করা যায়। সুরতহাল শেষে মরদেহটি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্তে তদন্ত সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে।

সদরে মাদরাসাছাত্রের দগ্ধ মরদেহ
অন্যদিকে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় দুপুরে আরেকটি দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি ১৪ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্র মাহাবুর ইসলাম রনি বলে শনাক্ত করা হয়। সে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ মিয়ার ছেলে।
পরিবার জানায়, রনি ভবানীপুরে ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সে নিখোঁজ ছিল। স্বজনরা সারা রাত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর শনিবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।
মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে নতুন প্রশ্ন
একই দিনে দুই উপজেলায় দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একটি মরদেহের পরিচয় অজানা এবং অন্যটি কিশোর শিক্ষার্থীর হওয়ায় তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। হত্যার পেছনে কারা জড়িত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















