মধ্য ইসরায়েলে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নারী নিহত ও অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে সাইরেন বেজে ওঠার পর একাধিক এলাকায় সরাসরি আঘাতের খবর আসে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খোঁজে তল্লাশি চালান। এর আগে সকালে ও বিকেলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো অঞ্চলে।

মধ্য ইসরায়েলে সরাসরি আঘাত ও হতাহত
রাতের হামলায় গুশ দান অঞ্চলের একাধিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। একটি ভবনে সরাসরি আঘাতে গুরুতর আহত এক নারী পরে মারা যান। অন্যত্র আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। আগুন ও উদ্ধার বিভাগ জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না তা নিশ্চিত করতে অভিযান চালানো হয়।
সকালের প্রথম দফায় প্রায় দুই শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে সামরিক সূত্রের দাবি। এর একটি অংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিহত হলেও কয়েকটি ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। উত্তরাঞ্চলের একটি আবাসিক ভবনেও সরাসরি আঘাত লাগে। তিরাত হাকারমেল এলাকায় একটি বিশতলা ভবনের উপরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো ঢুকে পড়ার ঘটনায় একজন হালকা আহত হন।

দ্বিতীয় দফায় হামলা ও ড্রোন ভূপাতিত
বিকেলে দ্বিতীয় দফায় উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের দিকে প্রায় ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। একটি শহরে আবাসিক ভবনে আঘাতের খবর এলেও বড় ধরনের হতাহতের তথ্য মেলেনি। বিভিন্ন স্থানে ছুটে যাওয়ার সময় ও ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বহু মানুষ হালকা আহত হন। অনেকে আতঙ্কজনিত সমস্যায় চিকিৎসা নেন।
একই সময়ে একাধিক সন্দেহজনক ড্রোন ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে সেগুলো ভূপাতিত করা হয় বলে জানায় সেনাবাহিনী। দিনের শুরু থেকে দশটির বেশি ইরানি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করা হয়েছে।

হিজবুল্লাহ যোগ দেবে কি না, সতর্ক সেনাবাহিনী
সামরিক বাহিনী জানায়, সম্ভাব্য নতুন ফ্রন্ট খোলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। হিজবুল্লাহ হামলায় যুক্ত হতে পারে কি না, তা নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, ইসরায়েলমুখী ডজনখানেক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই প্রতিহত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে পাল্টা আঘাত
ইরানের এই হামলা আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর। অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও মজুত ধ্বংস করা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকানোই তাদের উদ্দেশ্য। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও জানান, আয়াতুল্লাহর শাসন দুর্বল করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

জাতীয় ঐক্য জোরদারের আহ্বান
রাজনৈতিক নেতারা পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, তবে ধৈর্য ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















