১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির ভারসাম্যের সূচনা? তাইওয়ানের নতুন এফ-১৬ কি চীনের জে-২০-এর মোকাবিলায় ভারসাম্য বদলাতে পারবে? আইনজীবীদের জন্য জেমিনি এআই প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ করল গুগল ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের দূতাবাসগুলোতে কূটনীতিক ফেরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র কিশোরদের আসক্তি নিয়ে মামলায় ইনস্টাগ্রাম প্রধানের স্বীকারোক্তি রাশিয়ায় মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান, মস্কোয় গোপন বৈঠক ঘিরে জল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে পাল্টা শুল্ক কানাডার, তীব্র হচ্ছে বাণিজ্যযুদ্ধ বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, উত্তর আমেরিকায় নতুন কারখানা নিয়ে হোন্ডার সতর্কবার্তা দেশীয় সংগীতের রানী ডলি পার্টন আর নেই, ৮০ বছর বয়সে শেষ হলো কিংবদন্তির পথচলা ডলি পার্টন: কিংবদন্তি গায়িকার সাত দশকের বর্ণিল জীবন

ইরানের হুঁশিয়ারি: শত্রু শক্তির সব সামরিক ঘাঁটি বৈধ লক্ষ্য, জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘকে চিঠি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনও সামরিক ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদকে তারা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে। তেহরানের ভাষ্য, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরান দৃঢ়ভাবে জবাব দিয়ে যাবে।

Origin of any attack on Iran is a 'legitimate target,' Iran FM says -  Tehran Times

আত্মরক্ষার অধিকারের যুক্তি

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে আরাঘচি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সশস্ত্র আগ্রাসন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদের অধীনে ইরান তার স্বাভাবিক ও বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, সমন্বিত ও বড় আকারের হামলার মাধ্যমে ইরানের বিভিন্ন শহরে প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের |  শিরোনাম | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

শত্রু শক্তির ঘাঁটি বৈধ লক্ষ্য

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, আগ্রাসন সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তেহরান দ্বিধাহীনভাবে পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরও বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে যে কোনও ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি বা পরিণতির পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই নিতে হবে।

চীন সফরে আসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক

চিঠিতে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ জানানো হয়। ফ্রান্স, বাহরাইন, কলম্বিয়া, চীন ও রাশিয়ার অনুরোধে নিউইয়র্কে জরুরি অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। রাশিয়ার মিশন জানিয়েছে, তারা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে তাদের অবৈধ ও উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপ বন্ধ করার দাবি জানাবে এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফেরার আহ্বান তুলবে। প্রয়োজনে মস্কো সহায়তা দিতেও প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।

মহাসচিবের উদ্বেগ

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শক্তি প্রয়োগ এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী কোনও রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গুতেরেস তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, উত্তেজনা প্রশমন এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তা না হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আন্তোনিও গুতেরেস - উইকিপিডিয়া

বেসামরিকদের চরম মূল্য

মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কও উত্তেজনা বৃদ্ধিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই চরম মূল্য দেয়। বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মতপার্থক্যের সমাধান হয় না, বরং তা মৃত্যু, ধ্বংস ও মানবিক দুর্ভোগ ডেকে আনে। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম প্রদর্শন ও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির ভারসাম্যের সূচনা?

ইরানের হুঁশিয়ারি: শত্রু শক্তির সব সামরিক ঘাঁটি বৈধ লক্ষ্য, জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘ

১২:১৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘকে চিঠি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনও সামরিক ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদকে তারা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে। তেহরানের ভাষ্য, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরান দৃঢ়ভাবে জবাব দিয়ে যাবে।

Origin of any attack on Iran is a 'legitimate target,' Iran FM says -  Tehran Times

আত্মরক্ষার অধিকারের যুক্তি

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে আরাঘচি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সশস্ত্র আগ্রাসন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদের অধীনে ইরান তার স্বাভাবিক ও বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, সমন্বিত ও বড় আকারের হামলার মাধ্যমে ইরানের বিভিন্ন শহরে প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের |  শিরোনাম | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

শত্রু শক্তির ঘাঁটি বৈধ লক্ষ্য

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, আগ্রাসন সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তেহরান দ্বিধাহীনভাবে পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরও বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে যে কোনও ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি বা পরিণতির পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই নিতে হবে।

চীন সফরে আসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক

চিঠিতে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ জানানো হয়। ফ্রান্স, বাহরাইন, কলম্বিয়া, চীন ও রাশিয়ার অনুরোধে নিউইয়র্কে জরুরি অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। রাশিয়ার মিশন জানিয়েছে, তারা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে তাদের অবৈধ ও উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপ বন্ধ করার দাবি জানাবে এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফেরার আহ্বান তুলবে। প্রয়োজনে মস্কো সহায়তা দিতেও প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।

মহাসচিবের উদ্বেগ

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শক্তি প্রয়োগ এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী কোনও রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গুতেরেস তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, উত্তেজনা প্রশমন এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তা না হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আন্তোনিও গুতেরেস - উইকিপিডিয়া

বেসামরিকদের চরম মূল্য

মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কও উত্তেজনা বৃদ্ধিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই চরম মূল্য দেয়। বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মতপার্থক্যের সমাধান হয় না, বরং তা মৃত্যু, ধ্বংস ও মানবিক দুর্ভোগ ডেকে আনে। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম প্রদর্শন ও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান।