০৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬
ভারতের ভাগ্য নির্ধারণী লড়াই, ইডেন গার্ডেন্সে উইন্ডিজের বিপক্ষে আজ ‘অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনাল’ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে উঠলেন ঢাকা-কলকাতা কাঁপানো ভূমিকম্প কী বার্তা দেয়? নরসিংদীতে ধর্ষণের পর কিশোরী হত্যা, যা জানা যাচ্ছে চট্টগ্রামের গ্যাস বিস্ফোরণ: মৃত্যুসংখ্যা বেড়ে ৬, জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে আরও তিনজন শফিউল সভাপতি, ইয়াদুল সাধারণ সম্পাদক: বেলিয়ার নতুন নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা সাতক্ষীরায় মায়ের বকুনিতে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা, ভর্তি পরীক্ষার ফল ঘিরে শোকের ছায়া সোনার দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, একদিনেই ভরিতে ৭৬৪০ টাকা বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে ঢাকার গভীর উদ্বেগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলা: সুযোগের রাজনীতি নাকি অনিবার্য যুদ্ধের সূচনা?

ইরানে হামলার আগে খামেনির মৃত্যু হলে কট্টর আইআরজিসি নেতৃত্ব আসতে পারে, সিআইএর গোপন মূল্যায়ন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার আগেই একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা মূল্যায়ন করেছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। সেই মূল্যায়নে বলা হয়, অভিযানে যদি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন, তবে দেশটির ক্ষমতা কট্টরপন্থী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের হাতে চলে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

Image

 

তেহরানে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হামলার পর তেহরানে খামেনির কমপ্লেক্সে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে আসে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায় কালো ধোঁয়া ও বড় ধরনের ক্ষতি। হামলার আগের দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে সম্ভাব্য ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করে সিআইএ।

Image

ক্ষমতার পালাবদলের সম্ভাব্য চিত্র

গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষণে একাধিক সম্ভাব্য দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে একটি ছিল, খামেনি নিহত হলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কট্টর নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসতে পারে। এই বাহিনী মূলত ইরানে শিয়া ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা রক্ষার জন্য গঠিত এবং দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় তাদের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।

তবে সূত্রগুলো বলছে, কোনো একটি দৃশ্যপটকেই নিশ্চিত বলে উল্লেখ করেনি সিআইএ। বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ সত্যিই শাসন পরিবর্তন ঘটাতে পারবে কি না, সেটিই ছিল বিশ্লেষণের মূল প্রশ্ন।

Image

ট্রাম্পের অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ আলোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি তেহরানকে সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা বলে উল্লেখ করে ইরানি জনগণকে সরকার দখলের আহ্বান জানান। তার দাবি, সামরিক হামলা বিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি করবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প: এক নজরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী - BBC News  বাংলা

হামলার আগে ওয়াশিংটনের ভেতরে দীর্ঘ আলোচনা চলে। ডিসেম্বরে ইরানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একই সময়ে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার চেষ্টা চলছিল, যাতে সামরিক পদক্ষেপ এড়ানো যায়। কিন্তু জেনেভায় আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসের শীর্ষ আইনপ্রণেতাদের জানান, সামরিক অভিযান এগোতে পারে, যদিও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলের সুযোগ ছিল। শেষ পর্যন্ত হামলার দিকেই অগ্রসর হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

Image

আঞ্চলিক অস্থিরতার শঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, যদি কট্টর আইআরজিসি নেতৃত্ব সরাসরি ক্ষমতায় আসে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এতে পরমাণু আলোচনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ভাগ্য নির্ধারণী লড়াই, ইডেন গার্ডেন্সে উইন্ডিজের বিপক্ষে আজ ‘অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনাল’

ইরানে হামলার আগে খামেনির মৃত্যু হলে কট্টর আইআরজিসি নেতৃত্ব আসতে পারে, সিআইএর গোপন মূল্যায়ন

০১:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার আগেই একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা মূল্যায়ন করেছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। সেই মূল্যায়নে বলা হয়, অভিযানে যদি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন, তবে দেশটির ক্ষমতা কট্টরপন্থী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের হাতে চলে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

Image

 

তেহরানে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হামলার পর তেহরানে খামেনির কমপ্লেক্সে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে আসে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায় কালো ধোঁয়া ও বড় ধরনের ক্ষতি। হামলার আগের দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে সম্ভাব্য ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করে সিআইএ।

Image

ক্ষমতার পালাবদলের সম্ভাব্য চিত্র

গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষণে একাধিক সম্ভাব্য দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে একটি ছিল, খামেনি নিহত হলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কট্টর নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসতে পারে। এই বাহিনী মূলত ইরানে শিয়া ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা রক্ষার জন্য গঠিত এবং দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় তাদের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।

তবে সূত্রগুলো বলছে, কোনো একটি দৃশ্যপটকেই নিশ্চিত বলে উল্লেখ করেনি সিআইএ। বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ সত্যিই শাসন পরিবর্তন ঘটাতে পারবে কি না, সেটিই ছিল বিশ্লেষণের মূল প্রশ্ন।

Image

ট্রাম্পের অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ আলোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি তেহরানকে সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা বলে উল্লেখ করে ইরানি জনগণকে সরকার দখলের আহ্বান জানান। তার দাবি, সামরিক হামলা বিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি করবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প: এক নজরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী - BBC News  বাংলা

হামলার আগে ওয়াশিংটনের ভেতরে দীর্ঘ আলোচনা চলে। ডিসেম্বরে ইরানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একই সময়ে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার চেষ্টা চলছিল, যাতে সামরিক পদক্ষেপ এড়ানো যায়। কিন্তু জেনেভায় আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসের শীর্ষ আইনপ্রণেতাদের জানান, সামরিক অভিযান এগোতে পারে, যদিও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলের সুযোগ ছিল। শেষ পর্যন্ত হামলার দিকেই অগ্রসর হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

Image

আঞ্চলিক অস্থিরতার শঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, যদি কট্টর আইআরজিসি নেতৃত্ব সরাসরি ক্ষমতায় আসে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এতে পরমাণু আলোচনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।