মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক অর্থবাজারে নেমেছে অনিশ্চয়তার ছায়া। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা জবাবে তেহরানও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই সংঘাত বিশ্ববাজারে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে।
তেলের বাজারে অগ্নিঝড়
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার সবচেয়ে বড় সূচক সবসময়ই তেলের দাম। ইরান বিশ্ব তেল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং হরমুজ প্রণালির বিপরীতে অবস্থান করছে, যে পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই রুটে সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলারে উঠেছে, যা চলতি বছরে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বৃদ্ধি। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত সীমিত থাকলেও দাম ৮০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আর যদি সরবরাহ বড় আকারে বিঘ্নিত হয়, তাহলে দাম ১০০ ডলার ছুঁতে পারে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
![]()
বিশ্ববাজারে চরম ওঠানামা
এ বছর শুল্কনীতি ও প্রযুক্তিখাতে বড় বিক্রির ধাক্কায় বাজার আগে থেকেই অস্থির ছিল। নতুন করে সামরিক সংঘাত সেই অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে। শেয়ারবাজার, বন্ড ও মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের ওঠানামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন ডলারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে সংঘাত কতটা দীর্ঘ ও তীব্র হয় তার ওপর। সরবরাহ ব্যাহত হলে জ্বালানি রপ্তানিকারক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক সুবিধা পেতে পারে, ফলে ডলারের মূল্য বাড়তে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েলের মুদ্রা শেকেল ইতোমধ্যেই চাপের মুখে পড়েছে।
নিরাপদ বিনিয়োগে ঝোঁক
অস্থির সময়ে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এ বছর ইতোমধ্যে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং সংঘাত বাড়লে আরও চাহিদা তৈরি হতে পারে। রূপার বাজারেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সুইস ফ্রাঁর ওপরও চাপ বাড়তে পারে, কারণ এটি ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে ক্রিপ্টো সম্পদ বিটকয়েন প্রত্যাশিত নিরাপদ আশ্রয় দিতে পারেনি। সাম্প্রতিক দুই মাসে এর মূল্য বড় অংশ হারিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে প্রথম ধাক্কা
সৌদি আরব ও কাতারের শেয়ারবাজারে লেনদেন বিনিয়োগকারীদের প্রথম প্রতিক্রিয়া বোঝার ইঙ্গিত দেবে। তেলের দামের সঙ্গে এসব বাজারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সংঘাত অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় শেয়ারবাজারে ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত পতনের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ইতোমধ্যে সৌদি আরবের প্রধান সূচক টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে নিম্নমুখী।

বিমান ও প্রতিরক্ষা খাত
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট বাতিল করেছে। সংঘাত বিস্তৃত হলে এই খাতে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। বিপরীতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর চাহিদা বাড়তে পারে, যা তাদের শেয়ারদামে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ববাজার এখন তাকিয়ে আছে এই সংঘাত কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে তার দিকে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি, মুদ্রা ও শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দেখা দিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















