০৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬
ভারতের ভাগ্য নির্ধারণী লড়াই, ইডেন গার্ডেন্সে উইন্ডিজের বিপক্ষে আজ ‘অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনাল’ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে উঠলেন ঢাকা-কলকাতা কাঁপানো ভূমিকম্প কী বার্তা দেয়? নরসিংদীতে ধর্ষণের পর কিশোরী হত্যা, যা জানা যাচ্ছে চট্টগ্রামের গ্যাস বিস্ফোরণ: মৃত্যুসংখ্যা বেড়ে ৬, জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে আরও তিনজন শফিউল সভাপতি, ইয়াদুল সাধারণ সম্পাদক: বেলিয়ার নতুন নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা সাতক্ষীরায় মায়ের বকুনিতে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা, ভর্তি পরীক্ষার ফল ঘিরে শোকের ছায়া সোনার দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, একদিনেই ভরিতে ৭৬৪০ টাকা বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে ঢাকার গভীর উদ্বেগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলা: সুযোগের রাজনীতি নাকি অনিবার্য যুদ্ধের সূচনা?

ইরানে হামলার আগে ট্রাম্পকে সতর্কবার্তা, ঝুঁকি জেনেই ‘বড় বাজি’ খেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা শুরুর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হয়েছিল, এই পদক্ষেপ হতে পারে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তবে সফল হলে বদলে যেতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক চিত্র। উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে শুরু করে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পাল্টে দেওয়ার সুযোগ—দুই দিকই তুলে ধরা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

Exclusive: Ahead of strikes, Trump was told Iran attack is high risk, high  reward | Reuters

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর যে সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’, তা শুরু হতেই মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক অনিশ্চিত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের একাধিক সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এর পরপরই ইসরায়েল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে পাল্টা আঘাত হানার ঘোষণা দেয় তেহরান।

অভ্যন্তরীণ আলোচনায় কী ছিল

হামলার আগে ট্রাম্প একাধিক দফায় জাতীয় নিরাপত্তা দলের কাছ থেকে ব্রিফিং নেন। আলোচনায় তুলে ধরা হয়, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করতে পারে। এমনকি ইরাক ও সিরিয়ায় থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার আশঙ্কাও জানানো হয়। বিপুল সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া হলেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করা হয়েছিল।

নিজের ভাষণে ট্রাম্প বলেন, সাহসী মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তবুও এটি ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তার দাবি, তেহরানের হুমকি স্থায়ীভাবে শেষ করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

Middle East: as Brussels calls for 'restraint', Iran strikes US bases in  response to Washington's attack on its nuclear sites

বিস্তৃত লক্ষ্য ও বড় ঝুঁকি

হামলার আগে মধ্যপ্রাচ্যে বড় সামরিক জোটবদ্ধতা গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র। পরিকল্পনায় ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া, ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি রুখে দেওয়া। ইরান অবশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ইরানের হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম। পাশাপাশি ড্রোন ও সাইবার হামলার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি এক বড় বাজি—যার ফল অনিশ্চিত।

প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্বার্থ ও ঘাঁটি তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে এবং প্রতিশোধ চলবে শত্রুকে পরাজিত না করা পর্যন্ত। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের নেতৃত্বে বড় ধাক্কার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা জোরদার হয়েছে।

ইরান: বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' বলে ঘোষণা করতে যাচ্ছে  যুক্তরাজ্য - BBC News বাংলা

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাকে স্পষ্ট করে। তবে এর ফলাফল কতটা নিয়ন্ত্রিত থাকবে, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে গোটা অঞ্চলে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ভাগ্য নির্ধারণী লড়াই, ইডেন গার্ডেন্সে উইন্ডিজের বিপক্ষে আজ ‘অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনাল’

ইরানে হামলার আগে ট্রাম্পকে সতর্কবার্তা, ঝুঁকি জেনেই ‘বড় বাজি’ খেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

০১:৪৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা শুরুর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হয়েছিল, এই পদক্ষেপ হতে পারে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তবে সফল হলে বদলে যেতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক চিত্র। উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে শুরু করে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পাল্টে দেওয়ার সুযোগ—দুই দিকই তুলে ধরা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

Exclusive: Ahead of strikes, Trump was told Iran attack is high risk, high  reward | Reuters

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর যে সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’, তা শুরু হতেই মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক অনিশ্চিত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের একাধিক সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এর পরপরই ইসরায়েল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে পাল্টা আঘাত হানার ঘোষণা দেয় তেহরান।

অভ্যন্তরীণ আলোচনায় কী ছিল

হামলার আগে ট্রাম্প একাধিক দফায় জাতীয় নিরাপত্তা দলের কাছ থেকে ব্রিফিং নেন। আলোচনায় তুলে ধরা হয়, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করতে পারে। এমনকি ইরাক ও সিরিয়ায় থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার আশঙ্কাও জানানো হয়। বিপুল সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া হলেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করা হয়েছিল।

নিজের ভাষণে ট্রাম্প বলেন, সাহসী মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তবুও এটি ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তার দাবি, তেহরানের হুমকি স্থায়ীভাবে শেষ করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

Middle East: as Brussels calls for 'restraint', Iran strikes US bases in  response to Washington's attack on its nuclear sites

বিস্তৃত লক্ষ্য ও বড় ঝুঁকি

হামলার আগে মধ্যপ্রাচ্যে বড় সামরিক জোটবদ্ধতা গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র। পরিকল্পনায় ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া, ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি রুখে দেওয়া। ইরান অবশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ইরানের হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম। পাশাপাশি ড্রোন ও সাইবার হামলার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি এক বড় বাজি—যার ফল অনিশ্চিত।

প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্বার্থ ও ঘাঁটি তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে এবং প্রতিশোধ চলবে শত্রুকে পরাজিত না করা পর্যন্ত। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের নেতৃত্বে বড় ধাক্কার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা জোরদার হয়েছে।

ইরান: বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' বলে ঘোষণা করতে যাচ্ছে  যুক্তরাজ্য - BBC News বাংলা

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাকে স্পষ্ট করে। তবে এর ফলাফল কতটা নিয়ন্ত্রিত থাকবে, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে গোটা অঞ্চলে।