ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ঘিরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একাধিক আঞ্চলিক নেতার সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানের এই হামলা উপসাগর ও পুরো অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি আঘাত।
আঞ্চলিক সংহতির বার্তা
শনিবার ভোরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর প্রতিশোধের ঘোষণা দেয় তেহরান। এরপর উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এই পরিস্থিতিতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল খলিফা, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল আহমাদ আল জাবের আল সাবাহ এবং জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
তিনি প্রত্যেক দেশের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। যুবরাজ জানান, ইরানের নৃশংস হামলার জবাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে সৌদি আরব তার সব ধরনের সামর্থ্য কাজে লাগাতে প্রস্তুত। তাঁর মতে, এই হামলা শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর আঘাত।

মিশর ও ফ্রান্সের সঙ্গে আলাপ
পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির মধ্যে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিও সৌদি যুবরাজকে ফোন করেন। আলোচনায় চলমান উত্তেজনার প্রভাব নিয়ে কথা হয়। মিশর সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানায় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গেও যুবরাজের আলোচনা হয়। সেখানে তিনি ইরানের রকেট হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় ও প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তানের সমর্থন
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব যে নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে, পাকিস্তান তার পূর্ণ সমর্থন করে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সৌদি আরব স্পষ্ট করে দিয়েছে, আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















