মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অন্তত এক সপ্তাহব্যাপী যৌথ সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং সামরিক তৎপরতা ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যৌথ সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে জোর প্রস্তুতি
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত অবকাঠামো বিবেচনায় রাখা হয়েছে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান একদিনের সীমায় আটকে থাকবে না, বরং টানা কয়েকদিন ধরে চলতে পারে।
এই প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে সাম্প্রতিক সামরিক মহড়া, বাহিনী মোতায়েন ও কূটনৈতিক বার্তালাপ থেকেও। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল সীমিত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত বার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টা হতে পারে।

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার পটভূমি
ইরানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও জোরালো হয়েছে। ইসরায়েল বরাবরই ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে। ফলে দুই দেশের কৌশলগত স্বার্থ এক জায়গায় মিলেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত সংঘাতের আশঙ্কা
যদি টানা এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে হামলা চলে, তাহলে তা কেবল ইরান-ইসরায়েল সীমায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। লেবানন, সিরিয়া কিংবা উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এতে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

কূটনৈতিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক নজর
এমন উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। বড় শক্তিগুলো সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানাতে পারে, তবে মাটির পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্য আবারও একটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















