বকেয়া মজুরির দাবিতে রূপগঞ্জে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভে শনিবার সকাল থেকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ প্রায় বারো কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী ও চালক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, এতে অন্তত পনের জন আহত হন।
মাইকুলি এলাকায় সকাল সাড়ে আটটার দিকে শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা মহাসড়কে নেমে অবরোধ গড়ে তোলেন। অবরোধ জোরদার করতে সড়কে আগুন জ্বালানোর ঘটনাও ঘটে।
সংঘর্ষ ও উত্তেজনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পনের জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাস ও কারখানার সম্পত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

বকেয়া মজুরি ও ভাতার দাবি
কারখানাটিতে দুই হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত। তাদের অভিযোগ, দুই হাজার পঁচিশ সালের ডিসেম্বর এবং দুই হাজার ছাব্বিশ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ভাতা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে হয়রানি ও ছাঁটাইয়ের অভিযোগও তোলেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় তারা মহাসড়ক অবরোধের পথ বেছে নেন।
আলোচনার পর স্বাভাবিক পরিস্থিতি
পুলিশ, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা শেষে ব্যবস্থাপনা বকেয়া মজুরি পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা কারখানায় ফিরে যান। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবজেল হোসেন জানান, আশ্বাসের পর শ্রমিকরা সড়ক ছাড়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















