পাকিস্তানের করাচি ও গিলগিটে ইরানপন্থী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তারই প্রেক্ষাপটে রোববার এসব বিক্ষোভ সংঘটিত হয়। বিশেষ করে করাচিতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ঘিরে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
করাচিতে সংঘর্ষ ও প্রাণহানি
করাচির মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের মতে, আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
চোখে দেখা বর্ণনায় জানা যায়, শত শত বিক্ষোভকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী হামলার প্রতিবাদে কনস্যুলেট ভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কিছু তরুণ প্রধান ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করে ভবনের ড্রাইভওয়ে পর্যন্ত পৌঁছে যান এবং জানালার কাচ ভাঙচুর করেন।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিকেল তিনটা পর্যন্ত কনস্যুলেটের বাইরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল বলে জানা যায়।
বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ
বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এক বিক্ষোভকারী বলেন, পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কিছু তারা চান না। তার অভিযোগ, দেশের সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক তরুণ বিক্ষোভকারীকে বলতে শোনা যায়, ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো শক্তিই তাদের থামাতে পারবে না। আরেকজন দাবি করেন, তারা করাচির মার্কিন কনস্যুলেটে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং তাদের নেতার হত্যার প্রতিশোধ নেবেন।
গিলগিটে সংঘর্ষে আরও সাতজন নিহত
উত্তর পাকিস্তানের গিলগিট শহরেও ইরানপন্থী বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। উদ্ধারকর্মী জাহির শাহ জানান, সংঘর্ষে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

ইসলামাবাদ ও স্কার্দুতেও উত্তেজনা
রাজধানী ইসলামাবাদেও প্রায় চার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। নির্ধারিত সমাবেশ শুরুর আগেই সেখানে টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয় এবং জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলির শব্দ শোনা যায়।
রাওয়ালপিন্ডির ৫২ বছর বয়সী এক গৃহিণী বলেন, তাদের নেতা শহীদ হয়েছেন, অথচ শোক প্রকাশের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না। তার অভিযোগ, দেশের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন এবং এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে মূল্য দিতে হবে।
উত্তরাঞ্চলের স্কার্দু শহরে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। ভবন থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে যে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। করাচি, গিলগিট, ইসলামাবাদ ও স্কার্দুতে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম চাপের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















