রাজধানীর শেয়ারবাজারে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ব্যাপক বিক্রির চাপে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—দুই বাজারের প্রধান সূচকই উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমেছে।
ডিএসইতে সূচকের বড় পতন
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৮ পয়েন্ট কমে দিন শেষ করেছে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস কমেছে ২৬ পয়েন্ট এবং ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ নেমেছে ৫২ পয়েন্ট।
দিনজুড়ে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫৩টির দর কমেছে, মাত্র ৩০টির বেড়েছে এবং ৬টির দরে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এতে বাজারজুড়ে বিক্রির চাপ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
লেনদেনেও ধস
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭৫ কোটি টাকার শেয়ার, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৯৪৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১৭২ কোটি টাকা।
ব্লক মার্কেটে ২৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে মোট ২৪ কোটি টাকার। এর মধ্যে ওরিয়ন ইনফিউশনের ব্লক লেনদেন ছিল সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
দর বৃদ্ধির শীর্ষে ও দরপতনের তলানিতে
ডিএসইতে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল শাইনপুকুর সিরামিকস পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস লিমিটেড প্রায় ৮ শতাংশ দর হারিয়ে সবচেয়ে বেশি পতনের তালিকায় নিচে অবস্থান করেছে।
চট্টগ্রাম বাজারেও একই চিত্র
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও বড় পতন দেখা গেছে। প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২৪৫ পয়েন্ট কমে গেছে।
এদিন মোট লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে ১৩৮টির দর কমেছে, ৩৫টির বেড়েছে এবং ১১টির দরে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। চট্টগ্রাম বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি টাকার শেয়ার, যা আগের দিন ছিল ১৯ কোটি টাকা।
দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, যার শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এপেক্স ট্যানারি লিমিটেড ১০ শতাংশ দর হারিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাজারে বিনিয়োগকারীদের বিক্রির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় দুই শেয়ারবাজারেই সূচক ও লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাজারের এই পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















