কুয়েতের আকাশসীমায় একের পর এক ইরানী হামলার ঘটনায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক আক্রমণগুলোতে কুয়েতমুখী ৯৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৮৩টি ড্রোন শনাক্ত করে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
ইরানি হামলার শুরু ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইরানি হামলার পর কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দ্রুত সক্রিয় হয়। কুয়েত সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, উপসাগরীয় এই রাষ্ট্রের দিকে ধেয়ে আসা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আবদুলআজিজ আল ওতাইবি জানান, কুয়েতমুখী ৯৭টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৮৩টি ড্রোন শনাক্ত করা হয় এবং নির্ধারিত সামরিক নিয়ম মেনে সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, এসব লক্ষ্যবস্তু দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় অপারেশন এলাকায় শনাক্ত ও প্রতিহত করা হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ ছিটকে বিভিন্ন স্থাপনায় পড়ে। এতে কয়েকটি এলাকায় সামান্য অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় পূর্ণ প্রস্তুতি
কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশের আকাশসীমা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, যাতে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ন থাকে।
গুজব এড়াতে সতর্কবার্তা
সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ নাগরিক ও প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন কেবল সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণ করেন। যাচাইবিহীন খবর বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কুয়েতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সর্বদা প্রস্তুত।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















