০১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাশিয়ার হুমকিতে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় লিথুয়ানিয়ার নজিরবিহীন প্রস্তুতি হরমুজে তেল পরিবহনের নতুন কৌশল, খরচ বাড়ছে বহুগুণ প্রিন্সেস ডায়ানার ভাইয়ের নতুন বই ঘিরে রাজপরিবারে ফের উত্তেজনা গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ, আর্কটিকের দায়িত্ব নেবে ন্যাটো ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষের দাবি দুই রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীর, ট্রাম্পের অবস্থান থেকে দূরে সরে বার্তা পাইপলাইন হামলার পর উপসাগরীয় পথে সৌদির তেল রপ্তানি বাড়ছে গ্রিনল্যান্ডে নতুন দুই সামরিক ঘাঁটি গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তি আজ ইসলামাবাদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, পিটিআইয়ের মিছিলে যাচ্ছে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ পিংক বাসে যাত্রী নেই, প্রতিদিন ৫০-৬০ হাজার টাকা লোকসান জাতিসংঘে তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত সফর, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নয়: হুমায়ূন কবির

চীনের আবাসন ধসের ধাক্কায় টালমাটাল শিল্পবাজার, থামল ঐতিহাসিক শিল্পমূল্যের উত্থান

চীনের শিল্পবাজারে দীর্ঘদিনের উত্থান এখন স্পষ্টভাবে থেমে গেছে। একসময় যে শিল্পকর্ম কেনাবেচা ছিল ধনীদের প্রভাব ও রুচির প্রদর্শনী, আজ তা আর আগের মতো নেই। আবাসন খাতের বড় ধস, অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে চীনের শিল্পবাজারে আস্থার বড় সংকট তৈরি হয়েছে।

শিল্প ও আবাসনের যুগল উত্থান

দুই হাজার দশকের শুরুতে চীনের আবাসন খাতে যে অভূতপূর্ব সমৃদ্ধি আসে, তার সঙ্গে সঙ্গে ফুলে ওঠে শিল্পবাজার। সম্পত্তি ব্যবসায়ীদের বিপুল সম্পদ শিল্পকর্মে ঢুকতে শুরু করে। সেই সময় শিল্পকর্ম হয়ে ওঠে বিলাস ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয় এমন এক ক্রয়ে এক চীনা ধনকুবের বিপুল অঙ্ক ব্যয় করে বিদেশি শিল্পকর্ম কেনেন, যা চীনের নতুন ধনীদের আত্মপ্রকাশের প্রতীক হয়ে ওঠে ।

আবাসন সংকট ও শিল্পমূল্যের পতন

কিন্তু এই উত্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দুই হাজার একুশ সাল থেকে আবাসন খাতের ভাঙন শুরু হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে শিল্পবাজারে। সম্পত্তির দাম কমে যাওয়ায় ধনীদের নগদ অর্থের চাপ বাড়ে। অনেক সংগ্রাহক শিল্পকর্ম বিক্রি করতে বাধ্য হন। সাম্প্রতিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, শিল্পমূল্য সূচক নেমে গেছে এক যুগেরও বেশি আগের দামে। দেশীয় শিল্পকর্মের নিলাম ও বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে, বহু কাজ প্রত্যাশিত দামের নিচে বিক্রি হচ্ছে ।

মহামারি ও রাষ্ট্রের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি

এই পতনের পেছনে শুধু আবাসন সংকট নয়, মহামারির দীর্ঘ প্রভাবও বড় কারণ। জাদুঘর ও গ্যালারি বন্ধ থাকায় শিল্প দেখা ও কেনাবেচার সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ধনীদের জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপনের প্রকাশে অনীহা দেখায়। ব্যয়বহুল পোশাক, ভোগবিলাস ও বিলাসী জীবন দেখানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ফলে প্রকাশ্যে বড় শিল্পচুক্তির ঘোষণাও কমে আসে ।

পুঁজি নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশে অর্থ পাঠানোর বাধা

শিল্পকর্ম কেনাবেচাকে ঘিরে বিদেশে অর্থ পাচারের আশঙ্কাও সরকারের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কড়াকড়ি পুঁজি নিয়ন্ত্রণের কারণে বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সংগ্রাহক কিস্তিতে মূল্য পরিশোধে বাধ্য হচ্ছেন, আবার নতুন ক্রেতাদের ক্ষেত্রে অনুমতিও মিলছে না। এতে করে উচ্চমূল্যের শিল্পকর্ম কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে ।

ধীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত

তবে সব দিকই যে নেতিবাচক, তা নয়। এখন শিল্প সংগ্রহে আগ্রহীদের একটি অংশ প্রকৃত রুচি ও শিল্পবোধ থেকে বিনিয়োগ করছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও ভোক্তা শিল্প থেকে নতুন ধনীরা শিল্পবাজারে আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি তা ঘটে, তবে আবাসন খাতের সঙ্গে শিল্পবাজারের দীর্ঘদিনের নির্ভরতার সম্পর্ক ভেঙে নতুন পথে এগোতে পারে চীনের শিল্পজগৎ ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ার হুমকিতে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় লিথুয়ানিয়ার নজিরবিহীন প্রস্তুতি

চীনের আবাসন ধসের ধাক্কায় টালমাটাল শিল্পবাজার, থামল ঐতিহাসিক শিল্পমূল্যের উত্থান

০৪:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

চীনের শিল্পবাজারে দীর্ঘদিনের উত্থান এখন স্পষ্টভাবে থেমে গেছে। একসময় যে শিল্পকর্ম কেনাবেচা ছিল ধনীদের প্রভাব ও রুচির প্রদর্শনী, আজ তা আর আগের মতো নেই। আবাসন খাতের বড় ধস, অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে চীনের শিল্পবাজারে আস্থার বড় সংকট তৈরি হয়েছে।

শিল্প ও আবাসনের যুগল উত্থান

দুই হাজার দশকের শুরুতে চীনের আবাসন খাতে যে অভূতপূর্ব সমৃদ্ধি আসে, তার সঙ্গে সঙ্গে ফুলে ওঠে শিল্পবাজার। সম্পত্তি ব্যবসায়ীদের বিপুল সম্পদ শিল্পকর্মে ঢুকতে শুরু করে। সেই সময় শিল্পকর্ম হয়ে ওঠে বিলাস ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয় এমন এক ক্রয়ে এক চীনা ধনকুবের বিপুল অঙ্ক ব্যয় করে বিদেশি শিল্পকর্ম কেনেন, যা চীনের নতুন ধনীদের আত্মপ্রকাশের প্রতীক হয়ে ওঠে ।

আবাসন সংকট ও শিল্পমূল্যের পতন

কিন্তু এই উত্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দুই হাজার একুশ সাল থেকে আবাসন খাতের ভাঙন শুরু হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে শিল্পবাজারে। সম্পত্তির দাম কমে যাওয়ায় ধনীদের নগদ অর্থের চাপ বাড়ে। অনেক সংগ্রাহক শিল্পকর্ম বিক্রি করতে বাধ্য হন। সাম্প্রতিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, শিল্পমূল্য সূচক নেমে গেছে এক যুগেরও বেশি আগের দামে। দেশীয় শিল্পকর্মের নিলাম ও বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে, বহু কাজ প্রত্যাশিত দামের নিচে বিক্রি হচ্ছে ।

মহামারি ও রাষ্ট্রের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি

এই পতনের পেছনে শুধু আবাসন সংকট নয়, মহামারির দীর্ঘ প্রভাবও বড় কারণ। জাদুঘর ও গ্যালারি বন্ধ থাকায় শিল্প দেখা ও কেনাবেচার সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ধনীদের জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপনের প্রকাশে অনীহা দেখায়। ব্যয়বহুল পোশাক, ভোগবিলাস ও বিলাসী জীবন দেখানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ফলে প্রকাশ্যে বড় শিল্পচুক্তির ঘোষণাও কমে আসে ।

পুঁজি নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশে অর্থ পাঠানোর বাধা

শিল্পকর্ম কেনাবেচাকে ঘিরে বিদেশে অর্থ পাচারের আশঙ্কাও সরকারের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কড়াকড়ি পুঁজি নিয়ন্ত্রণের কারণে বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সংগ্রাহক কিস্তিতে মূল্য পরিশোধে বাধ্য হচ্ছেন, আবার নতুন ক্রেতাদের ক্ষেত্রে অনুমতিও মিলছে না। এতে করে উচ্চমূল্যের শিল্পকর্ম কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে ।

ধীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত

তবে সব দিকই যে নেতিবাচক, তা নয়। এখন শিল্প সংগ্রহে আগ্রহীদের একটি অংশ প্রকৃত রুচি ও শিল্পবোধ থেকে বিনিয়োগ করছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও ভোক্তা শিল্প থেকে নতুন ধনীরা শিল্পবাজারে আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি তা ঘটে, তবে আবাসন খাতের সঙ্গে শিল্পবাজারের দীর্ঘদিনের নির্ভরতার সম্পর্ক ভেঙে নতুন পথে এগোতে পারে চীনের শিল্পজগৎ ।