ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড তিন সেনা সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে।” তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে এ ধরনের ঘটনা কমানো যায়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নিহত সেনাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং যারা যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আঘাত হানা হবে।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তিশালী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান থামবে না।

অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ ও হামলার বিস্তার
ট্রাম্প জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে শুরু করা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইতোমধ্যে ইরানের ভেতরে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের স্থাপনা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌবাহিনীর সম্পদ।
তিনি বলেন, আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সামরিক অভিযানে রূপ নিয়েছে এই যুদ্ধ। সামরিক অভিযান পূর্ণ শক্তিতে চলছে এবং নির্ধারিত সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
যুদ্ধের বিস্তার ও পাল্টাপাল্টি হামলা
সোমবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে। ইরান ও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননেও হামলা শুরু করে, যার মধ্যে রাজধানী বৈরুতও রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ার পর এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইরান যুদ্ধ এখন আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান একদিকে যেমন ইরানের সামরিক সক্ষমতায় আঘাত হানছে, অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা হামলায় উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















