চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ছিল আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে দুই নেতা প্রকাশ্যে ইতিবাচক বার্তা দিলেও, দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্ট হয়েছে অগ্রাধিকার ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য।
সম্পর্কে নতুন অবস্থান
চীনা পক্ষের বিবৃতিতে শি জিনপিং বলেছেন, দুই দেশ “গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা” ভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে। তাঁর মতে, আগামী কয়েক বছর এই সম্পর্কের ভিত্তি হবে সহযোগিতা, সীমিত প্রতিযোগিতা এবং মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে এই “নতুন অবস্থান” নিয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না। বরং সেখানে জোর দেওয়া হয়েছে বাস্তব অর্থনৈতিক অগ্রগতির ওপর। মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে, বৈঠকে চীনে মার্কিন ব্যবসার বাজার প্রবেশ, চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্য আমদানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইরান ও জ্বালানি নিরাপত্তা
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, উভয় নেতা একমত হয়েছেন যে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা জরুরি, যাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও তেল কেনার আগ্রহও দেখিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে চীনের বিবৃতিতে শুধু বলা হয়েছে, দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কোরীয় উপদ্বীপ নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। তবে সেখানে কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি।
তাইওয়ান প্রসঙ্গে নীরবতা
বৈঠকের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল তাইওয়ান ইস্যু। চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য বড় অস্ত্র সহায়তা ঘোষণা করায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
চীনা পক্ষের বিবৃতিতে শি জিনপিং বলেছেন, সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে তাইওয়ান প্রসঙ্গ পুরোপুরি অনুপস্থিত ছিল।

প্রকাশ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ
বৈঠকের শুরুতেই শি জিনপিং বলেন, “চীন ও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত।” তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে পার্থক্যের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থ বেশি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পও শি জিনপিংকে “মহান নেতা” বলে প্রশংসা করেন। তিনি জানান, অতীতে দুই দেশের মধ্যে সমস্যা তৈরি হলেও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হয়েছে।
বেইজিং সফরে কূটনৈতিক উষ্ণতা

বৈঠকের পাশাপাশি ট্রাম্পকে ঘিরে বেইজিংয়ে ছিল বিশেষ আয়োজন। গ্রেট হল অব দ্য পিপলের সামনে শত শত শিক্ষার্থী পতাকা ও ফুল হাতে স্বাগত জানায়। পরে দুই নেতা একসঙ্গে টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শন করেন।
এদিকে ট্রাম্পের সফর উপলক্ষে চীন শত শত মার্কিন গরুর মাংস রপ্তানিকারকের লাইসেন্স পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতীকী বার্তা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রকাশ্যে উষ্ণতা দেখালেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা এখনো বহাল রয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ান, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য আগামী দিনেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















