১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
রাজস্ব আদায়ে ১২% প্রবৃদ্ধি হলেও বড় ঘাটতি বিলাসের রান্নাঘরের অন্দরমহল: ৪৫০ পাউন্ডের সি-বাস, কুকুরের জন্য ফিলে স্টেক—এক প্রাইভেট শেফের বিস্ময়কর জীবন ডেভিড বেকহামের বিলিয়নিয়ার হওয়ার গল্প: ফুটবল তারকা থেকে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড সাম্রাজ্যের উত্থান সমুদ্রপথে ডুবে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা, আর আসিয়ান ব্যস্ত ভূরাজনীতির হিসাব-নিকাশে মিত্রের যুদ্ধ, আমেরিকার ফাঁদ: কেন প্রক্সি সংঘাতও শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের নিজের যুদ্ধ হয়ে ওঠে রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা বিমানের ওয়েবসাইটে ‘অনটাইম’, বাস্তবে ২২ ঘণ্টা বিলম্ব: সিলেট-জেদ্দা ফ্লাইটে ৮ শতাধিক যাত্রীর দুর্ভোগ বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগ, বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান আজহারির ঢাকা ক্লাবের ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেইন লাউঞ্জ ঝুঁকিতে, জরুরি প্রকৌশল মূল্যায়নের তাগিদ ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ডিএমপি

হোটেল সেবায় প্রযুক্তির বাড়তি ব্যবহার, কিন্তু হারাচ্ছে মানবিক স্পর্শ

সিঙ্গাপুরের আতিথেয়তা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও, এর সঙ্গে মানবিক সেবার ভারসাম্য রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি কাজ সহজ করলেও অতিথিদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক ও আন্তরিক যোগাযোগ কমে গেলে সেবার মূল সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

আতিথেয়তা খাতের প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আতিওমের প্রধান নির্বাহী ম্যাট স্প্রিগেল মনে করেন, আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা নয়, একই সঙ্গে উচ্চমানের মানবিক সেবাও নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, সিঙ্গাপুরের মতো আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও পর্যটনকেন্দ্রিক শহরে অতিথিরা শুধু দ্রুত সেবা নয়, আন্তরিক অভিজ্ঞতাও প্রত্যাশা করেন।

প্রযুক্তির কারণে বদলে যাচ্ছে সেবার ধরন

করোনা মহামারির সময় যোগাযোগ কমাতে কিউআর কোডভিত্তিক অর্ডার, স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট ও কন্ট্যাক্টলেস সেবার ব্যবহার বাড়ে। সেই প্রবণতা এখনও অনেক প্রতিষ্ঠান ধরে রেখেছে। ফলে অনেক জায়গায় অতিথিদের সঙ্গে কর্মীদের সরাসরি যোগাযোগ কমে গেছে।

স্প্রিগেল বলেন, অনেক রেস্তোরাঁ বা হোটেলে এখন কর্মীরা শুধু একটি কোড এগিয়ে দেন, অতিথির সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথাও বলেন না। এতে সেবার গতি বাড়লেও সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ কমে যায়। অতিথিরা ব্যক্তিগত পরামর্শ, আন্তরিকতা বা স্বাগত জানানোর অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হন।

তিনি মনে করেন, আতিথেয়তা খাতের আসল শক্তি হলো মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ। প্রযুক্তি যদি সেই জায়গা দখল করে নেয়, তাহলে গ্রাহকের আস্থা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।

Technology Isn't Replacing Human Touch in Hotels, It's Enhancing It

চাপ বাড়ছে আতিথেয়তা খাতে

সিঙ্গাপুরে শ্রমিক সংকট, বাড়তি বেতন চাহিদা এবং গ্রাহকদের উচ্চ প্রত্যাশা আতিথেয়তা শিল্পকে নতুন চাপের মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু জনবল বাড়িয়ে সমস্যা সমাধান করতে পারছে না। ফলে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্প্রিগেলের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পুরোপুরি মানুষের জায়গা নেবে না। বরং এটি প্রশাসনিক কাজ, তথ্য বিশ্লেষণ ও দৈনন্দিন প্রক্রিয়া সহজ করতে সাহায্য করবে। এতে কর্মীরা অতিথিদের সঙ্গে আরও মানসম্মত সময় দিতে পারবেন।

মানবিক দক্ষতার গুরুত্ব আরও বাড়বে

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিথিকে স্বাগত জানানো, সমস্যার সমাধানে সহমর্মিতা দেখানো, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত পরামর্শ দেওয়ার মতো কাজ এখনও মানুষের হাতেই সবচেয়ে কার্যকর। প্রযুক্তি এসব অনুভূতি ও মানবিক সংযোগ পুরোপুরি তৈরি করতে পারে না।

স্প্রিগেল বলেন, ভবিষ্যতে সামনের সারির কর্মীদের ভূমিকা শেষ হবে না, বরং বদলে যাবে। প্রযুক্তি যত বেশি প্রশাসনিক চাপ কমাবে, তত বেশি মূল্য পাবে মানুষের আবেগ, সহমর্মিতা ও সম্পর্ক তৈরির দক্ষতা।

সিঙ্গাপুরের হোটেল ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও মানবিক সেবার গুরুত্ব কমছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সফল প্রতিষ্ঠানগুলো হবে তারা, যারা প্রযুক্তি ও মানবিক অভিজ্ঞতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজস্ব আদায়ে ১২% প্রবৃদ্ধি হলেও বড় ঘাটতি

হোটেল সেবায় প্রযুক্তির বাড়তি ব্যবহার, কিন্তু হারাচ্ছে মানবিক স্পর্শ

০৪:৫১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

সিঙ্গাপুরের আতিথেয়তা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও, এর সঙ্গে মানবিক সেবার ভারসাম্য রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি কাজ সহজ করলেও অতিথিদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক ও আন্তরিক যোগাযোগ কমে গেলে সেবার মূল সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

আতিথেয়তা খাতের প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আতিওমের প্রধান নির্বাহী ম্যাট স্প্রিগেল মনে করেন, আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা নয়, একই সঙ্গে উচ্চমানের মানবিক সেবাও নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, সিঙ্গাপুরের মতো আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও পর্যটনকেন্দ্রিক শহরে অতিথিরা শুধু দ্রুত সেবা নয়, আন্তরিক অভিজ্ঞতাও প্রত্যাশা করেন।

প্রযুক্তির কারণে বদলে যাচ্ছে সেবার ধরন

করোনা মহামারির সময় যোগাযোগ কমাতে কিউআর কোডভিত্তিক অর্ডার, স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট ও কন্ট্যাক্টলেস সেবার ব্যবহার বাড়ে। সেই প্রবণতা এখনও অনেক প্রতিষ্ঠান ধরে রেখেছে। ফলে অনেক জায়গায় অতিথিদের সঙ্গে কর্মীদের সরাসরি যোগাযোগ কমে গেছে।

স্প্রিগেল বলেন, অনেক রেস্তোরাঁ বা হোটেলে এখন কর্মীরা শুধু একটি কোড এগিয়ে দেন, অতিথির সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথাও বলেন না। এতে সেবার গতি বাড়লেও সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ কমে যায়। অতিথিরা ব্যক্তিগত পরামর্শ, আন্তরিকতা বা স্বাগত জানানোর অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হন।

তিনি মনে করেন, আতিথেয়তা খাতের আসল শক্তি হলো মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ। প্রযুক্তি যদি সেই জায়গা দখল করে নেয়, তাহলে গ্রাহকের আস্থা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।

Technology Isn't Replacing Human Touch in Hotels, It's Enhancing It

চাপ বাড়ছে আতিথেয়তা খাতে

সিঙ্গাপুরে শ্রমিক সংকট, বাড়তি বেতন চাহিদা এবং গ্রাহকদের উচ্চ প্রত্যাশা আতিথেয়তা শিল্পকে নতুন চাপের মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু জনবল বাড়িয়ে সমস্যা সমাধান করতে পারছে না। ফলে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্প্রিগেলের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পুরোপুরি মানুষের জায়গা নেবে না। বরং এটি প্রশাসনিক কাজ, তথ্য বিশ্লেষণ ও দৈনন্দিন প্রক্রিয়া সহজ করতে সাহায্য করবে। এতে কর্মীরা অতিথিদের সঙ্গে আরও মানসম্মত সময় দিতে পারবেন।

মানবিক দক্ষতার গুরুত্ব আরও বাড়বে

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিথিকে স্বাগত জানানো, সমস্যার সমাধানে সহমর্মিতা দেখানো, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত পরামর্শ দেওয়ার মতো কাজ এখনও মানুষের হাতেই সবচেয়ে কার্যকর। প্রযুক্তি এসব অনুভূতি ও মানবিক সংযোগ পুরোপুরি তৈরি করতে পারে না।

স্প্রিগেল বলেন, ভবিষ্যতে সামনের সারির কর্মীদের ভূমিকা শেষ হবে না, বরং বদলে যাবে। প্রযুক্তি যত বেশি প্রশাসনিক চাপ কমাবে, তত বেশি মূল্য পাবে মানুষের আবেগ, সহমর্মিতা ও সম্পর্ক তৈরির দক্ষতা।

সিঙ্গাপুরের হোটেল ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও মানবিক সেবার গুরুত্ব কমছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সফল প্রতিষ্ঠানগুলো হবে তারা, যারা প্রযুক্তি ও মানবিক অভিজ্ঞতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারবে।