সিঙ্গাপুরে তরুণদের মধ্যে বিশ্বঘটনা ও সমসাময়িক বিষয়ে আগ্রহ বাড়াতে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিযোগিতায় ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চারটি স্কুল। রঙিন আয়োজন, কৌশলী খেলা আর দ্রুত চিন্তাশক্তির সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের একটি কমিউনিটি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল পর্ব। সেখানে দেশের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। মোট ১৬টি দল নিজেদের জ্ঞান, কৌশল ও দলগত সমন্বয় প্রদর্শনের সুযোগ পায়। প্রতিটি দলে ছিল ছয়জন করে শিক্ষার্থী, যাদের বয়স ১৫ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে।
ফাইনালে উঠেছে সেন্ট গ্যাব্রিয়েলস সেকেন্ডারি, ভিক্টোরিয়া স্কুল, প্রেসবাইটেরিয়ান হাই এবং স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ২৬ মে। বিজয়ী দল পাবে চার হাজার ডলার পুরস্কার।
খেলার ছলে বিশ্বজ্ঞান যাচাই
সেমিফাইনালে প্রচলিত প্রশ্নোত্তরের বাইরে ছিল নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের কখনও প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে পয়েন্ট ধরে রাখতে হয়েছে, কখনও আবার কৌশল করে লক্ষ্যভেদ করতে হয়েছে। কোথাও উঁচু টাওয়ার বানাতে হয়েছে, আবার কোথাও দলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ধারণা উপস্থাপন করতে হয়েছে।
একটি পর্বে অংশগ্রহণকারীদের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ভূমিকায় কল্পনা করে বিভিন্ন সামাজিক চ্যালেঞ্জের সমাধান উপস্থাপন করতে বলা হয়। সেখানে কথার চেয়ে চিত্রভিত্তিক উপস্থাপনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই পর্ব শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতা তুলে ধরে।
দলগত সমন্বয়েই সাফল্য
ভিক্টোরিয়া স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা প্রতিদিন সংবাদ পড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখার চেষ্টা করে প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে তাদের মতে, ব্যক্তিগত মেধার চেয়ে দলগত সমন্বয়ই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।
অন্যদিকে প্রেসবাইটেরিয়ান হাইয়ের শিক্ষার্থীরা মনে করে, সহপাঠীদের সমর্থন ও উৎসাহ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। প্রতিযোগিতার কঠিন মুহূর্তেও সমর্থকদের উপস্থিতি দলকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে।
ব্যতিক্রমী কৌশলে নজর কাড়ল এক দল
শেষ পর্বে একটি দল অভিনব কৌশল ব্যবহার করে সবার নজর কাড়ে। তারা নির্ধারিত নিয়ম মেনে এমনভাবে অগ্রসর হয়, যা অন্য দলগুলোর চেয়ে আলাদা ছিল। বিচারকদের কাছ থেকে আগেই অনুমতি নেওয়ায় তাদের কৌশল বৈধ বলে গণ্য হয়। পরে উপস্থিত দর্শকরা তাদের সৃজনশীল চিন্তার প্রশংসা করেন।
তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণদের মধ্যে সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে আগ্রহ বাড়ানোই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক পরিবর্তনের মতো বিষয় নিয়েও সচেতনতামূলক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। আগামী মাস থেকে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন গ্রন্থাগারে এই প্রদর্শনী ঘুরে ঘুরে দেখানো হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















