০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
গডজিলা এখন শুধু দানব নয়, বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য সবজির দামে আগুন, বাড়তি চাপে ডিম-পেঁয়াজের বাজারও প্রকৃত চিকিৎসা পেলে হামে আক্রান্ত ৯৯ শতাংশ শিশু সুস্থ হয়, দ্রুত চিকিৎসার তাগিদ ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা এখনও বন্ধ চাঁদাবাজির বিরোধে কুপিয়ে হত্যা, বরিশালে ‘টিনএজ গ্যাং’ আতঙ্কে মাছ ব্যবসায়ী নিহত বান্দরবানে মাটি ধসে ইটভাটার শ্রমিক নিহত ডুয়েটে নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান, টানা দ্বিতীয় দিনের অবরোধে শিক্ষার্থীরা ভারতীয় রুপির ঐতিহাসিক পতন, আমিরাতের ১ দিরহাম এখন ২৬ রুপির বেশি আরও ১২ শিশুর মৃত্যু, দুই মাসে হামে প্রাণ গেল ৪৫১ জনের সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোদী-শেখ মোহাম্মদের বৈঠক, কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের বার্তা

আইনজীবী নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে বাংলাদেশের প্রতি উদ্বেগ জানাল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ল’ সোসাইটি

বাংলাদেশের জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন ও সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বাধা, মনোনয়নপত্র বাতিল এবং হয়রানির অভিযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের ল’ সোসাইটি। সংস্থাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

১৩ মে ২০২৬ তারিখে পাঠানো ওই চিঠিতে ল’ সোসাইটি জানায়, তারা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের দুই লাখের বেশি সলিসিটরের প্রতিনিধিত্বকারী পেশাজীবী সংগঠন। সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য হলো আইনজীবীদের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা।

নির্বাচনে বাধা ও মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগ

চিঠিতে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ সময়কালে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা বার এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু আইনজীবীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয় এবং কেউ কেউ শারীরিক হয়রানিরও শিকার হন।

এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র “ফ্যাসিস্টদের সহযোগী” আখ্যা দিয়ে বাতিল করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ কিছু প্রার্থীর ওপর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তাদের আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে চিহ্নিত করেছে।

জাতিসংঘের নীতিমালার প্রসঙ্গ

ল’ সোসাইটি বলেছে, এসব ঘটনা জাতিসংঘের আইনজীবীদের ভূমিকা সংক্রান্ত মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে নীতিমালার ১৬, ১৭, ১৮ ও ২৩ নম্বর নীতির উল্লেখ করে সংস্থাটি জানায়, আইনজীবীদের পেশাগত কাজ বাধাহীনভাবে পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

May be an image of text

চিঠিতে বলা হয়, প্রার্থিতা বাতিল, মনোনয়ন জমা দিতে বাধা এবং নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ সৃষ্টি করা আইন পেশার স্বশাসন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে শারীরিক হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, আইনজীবীদের রাজনৈতিক পরিচয়ে চিহ্নিত করা বা “সহযোগী” আখ্যা দেওয়া তাদের পেশাগত স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে আইনজীবীরা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা মতাদর্শের পক্ষে দাঁড়াতে ভয় পেতে পারেন, যা সামগ্রিকভাবে বিচারব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নিয়ে সতর্কতা

চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়, আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে সংগঠিত হওয়া ও পেশাগত সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তা আইনের শাসন দুর্বল করতে পারে। এর ফলে বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনটি সুপারিশও তুলে ধরেছে ল’ সোসাইটি। এর মধ্যে রয়েছে—সব আইনজীবীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বার নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনী অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ তদন্ত এবং আইনজীবীদের ভয়ভীতি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা।

চিঠিতে ল’ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট মার্ক ইভান্স স্বাক্ষর করেন। এছাড়া বাংলাদেশ হাইকমিশন, ব্রিটিশ হাইকমিশন, জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং জাতিসংঘের বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিকেও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গডজিলা এখন শুধু দানব নয়, বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

আইনজীবী নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে বাংলাদেশের প্রতি উদ্বেগ জানাল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ল’ সোসাইটি

০৬:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

বাংলাদেশের জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন ও সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বাধা, মনোনয়নপত্র বাতিল এবং হয়রানির অভিযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের ল’ সোসাইটি। সংস্থাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

১৩ মে ২০২৬ তারিখে পাঠানো ওই চিঠিতে ল’ সোসাইটি জানায়, তারা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের দুই লাখের বেশি সলিসিটরের প্রতিনিধিত্বকারী পেশাজীবী সংগঠন। সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য হলো আইনজীবীদের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা।

নির্বাচনে বাধা ও মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগ

চিঠিতে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ সময়কালে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা বার এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু আইনজীবীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয় এবং কেউ কেউ শারীরিক হয়রানিরও শিকার হন।

এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র “ফ্যাসিস্টদের সহযোগী” আখ্যা দিয়ে বাতিল করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ কিছু প্রার্থীর ওপর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তাদের আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে চিহ্নিত করেছে।

জাতিসংঘের নীতিমালার প্রসঙ্গ

ল’ সোসাইটি বলেছে, এসব ঘটনা জাতিসংঘের আইনজীবীদের ভূমিকা সংক্রান্ত মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে নীতিমালার ১৬, ১৭, ১৮ ও ২৩ নম্বর নীতির উল্লেখ করে সংস্থাটি জানায়, আইনজীবীদের পেশাগত কাজ বাধাহীনভাবে পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

May be an image of text

চিঠিতে বলা হয়, প্রার্থিতা বাতিল, মনোনয়ন জমা দিতে বাধা এবং নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ সৃষ্টি করা আইন পেশার স্বশাসন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে শারীরিক হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, আইনজীবীদের রাজনৈতিক পরিচয়ে চিহ্নিত করা বা “সহযোগী” আখ্যা দেওয়া তাদের পেশাগত স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে আইনজীবীরা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা মতাদর্শের পক্ষে দাঁড়াতে ভয় পেতে পারেন, যা সামগ্রিকভাবে বিচারব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নিয়ে সতর্কতা

চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়, আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে সংগঠিত হওয়া ও পেশাগত সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তা আইনের শাসন দুর্বল করতে পারে। এর ফলে বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনটি সুপারিশও তুলে ধরেছে ল’ সোসাইটি। এর মধ্যে রয়েছে—সব আইনজীবীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বার নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনী অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ তদন্ত এবং আইনজীবীদের ভয়ভীতি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা।

চিঠিতে ল’ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট মার্ক ইভান্স স্বাক্ষর করেন। এছাড়া বাংলাদেশ হাইকমিশন, ব্রিটিশ হাইকমিশন, জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং জাতিসংঘের বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিকেও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।