০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবা-ছেলের মৃত্যু গোপালগঞ্জে ইউএস ওপেনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আরিনা সাবালেঙ্কার

প্রকৃত চিকিৎসা পেলে হামে আক্রান্ত ৯৯ শতাংশ শিশু সুস্থ হয়, দ্রুত চিকিৎসার তাগিদ

দেশে হামের সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হামে আক্রান্ত ৯৯ শতাংশ শিশুকেই সুস্থ করা সম্ভব। কিন্তু নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রজনিত জটিলতা দেখা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার দেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন ও চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

টিকাদানে বিঘ্নে বেড়েছে সংক্রমণ

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এভারকেয়ার হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। অতীতে সফল টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে এই রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও গত দুই বছরে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, হামজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া। জনগণকে সচেতন করা এবং সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে দেশের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা একযোগে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

চারটি বিষয়ে জোর চিকিৎসকদের

হামের বিস্তার ঠেকাতে চিকিৎসকরা চারটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। এগুলো হলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা, উপজেলা থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘ফিভার কর্নার’ চালু করে হামপ্রবণ এলাকা শনাক্ত করা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত চিকিৎসা নির্দেশিকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং দেশজুড়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে অধিকাংশ রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। অপতথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

Measles treatment continues in unsanitary conditions | Prothom Alo

নিউমোনিয়ায় বাড়ছে জটিলতা

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, অপুষ্টি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে। নিউমোনিয়া শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ থাকে না, অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ডায়রিয়া, বমি, মারাত্মক পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে বলেও জানান তারা।

চিকিৎসকদের মতে, নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ এবং শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে চিকিৎসা শুরুতে দেরি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের কারণে অনেক সময় পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে যায়।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে চিকিৎসকরা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় পাঁচ থেকে আট শতাংশের নিউমোনিয়া হতে পারে। তবে জটিলতা গুরুতর আকার ধারণ করলে মৃত্যুহার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই শ্বাসকষ্ট, অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়া বা উচ্চ জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

দেরি না করার আহ্বান

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হামে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে আনতে দেরি হলে জটিলতা দ্রুত বাড়ে। হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই আক্রান্ত শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আসিফ মুজতাবা মাহমুদ, জয়েন্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর, পেডিয়াট্রিক পালমোনোলজিস্ট অধ্যাপক রুহুল আমিন, চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল আনাম কিবরিয়া এবং সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. গোলাম সরওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়াসহ অন্যরা।

হামের চিকিৎসা

হামে আক্রান্ত শিশুদের ৯৯ শতাংশই সময়মতো চিকিৎসায় সুস্থ হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা বাড়লে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি

প্রকৃত চিকিৎসা পেলে হামে আক্রান্ত ৯৯ শতাংশ শিশু সুস্থ হয়, দ্রুত চিকিৎসার তাগিদ

০৮:২৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

দেশে হামের সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হামে আক্রান্ত ৯৯ শতাংশ শিশুকেই সুস্থ করা সম্ভব। কিন্তু নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রজনিত জটিলতা দেখা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার দেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন ও চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

টিকাদানে বিঘ্নে বেড়েছে সংক্রমণ

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এভারকেয়ার হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। অতীতে সফল টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে এই রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও গত দুই বছরে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, হামজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া। জনগণকে সচেতন করা এবং সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে দেশের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা একযোগে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

চারটি বিষয়ে জোর চিকিৎসকদের

হামের বিস্তার ঠেকাতে চিকিৎসকরা চারটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। এগুলো হলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা, উপজেলা থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘ফিভার কর্নার’ চালু করে হামপ্রবণ এলাকা শনাক্ত করা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত চিকিৎসা নির্দেশিকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং দেশজুড়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে অধিকাংশ রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। অপতথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

Measles treatment continues in unsanitary conditions | Prothom Alo

নিউমোনিয়ায় বাড়ছে জটিলতা

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, অপুষ্টি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে। নিউমোনিয়া শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ থাকে না, অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ডায়রিয়া, বমি, মারাত্মক পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে বলেও জানান তারা।

চিকিৎসকদের মতে, নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ এবং শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে চিকিৎসা শুরুতে দেরি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের কারণে অনেক সময় পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে যায়।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে চিকিৎসকরা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় পাঁচ থেকে আট শতাংশের নিউমোনিয়া হতে পারে। তবে জটিলতা গুরুতর আকার ধারণ করলে মৃত্যুহার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই শ্বাসকষ্ট, অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়া বা উচ্চ জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

দেরি না করার আহ্বান

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হামে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে আনতে দেরি হলে জটিলতা দ্রুত বাড়ে। হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই আক্রান্ত শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আসিফ মুজতাবা মাহমুদ, জয়েন্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর, পেডিয়াট্রিক পালমোনোলজিস্ট অধ্যাপক রুহুল আমিন, চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল আনাম কিবরিয়া এবং সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. গোলাম সরওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়াসহ অন্যরা।

হামের চিকিৎসা

হামে আক্রান্ত শিশুদের ৯৯ শতাংশই সময়মতো চিকিৎসায় সুস্থ হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা বাড়লে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।