ভারতীয় রুপি আবারও রেকর্ড নিম্নমুখী অবস্থানে পৌঁছেছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির বড় ধরনের পতনের ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১ দিরহামের মূল্য এখন প্রায় ২৬.১৫ ভারতীয় রুপিতে দাঁড়িয়েছে। এতে আমিরাতে বসবাসকারী প্রবাসীদের জন্য দেশে অর্থ পাঠানো আরও লাভজনক হয়ে উঠলেও ভারতের আমদানি ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে লেনদেন চলাকালে ভারতীয় রুপি প্রথমবারের মতো ডলারের বিপরীতে ৯৬-এর নিচে নেমে যায়। দিনের শুরুতে ৯৫.৮৬ রুপিতে লেনদেন শুরু হলেও পরে তা আরও দুর্বল হয়ে ৯৬.১৪ রুপিতে পৌঁছে যায়, যা এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও রুপি রেকর্ড পতনের মুখে পড়ে ৯৫.৯৬ পর্যন্ত নেমেছিল। যদিও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে দিনের শেষ লেনদেনে ৯৫.৬৪ রুপিতে স্থির হয়।
তেলের দাম বাড়ায় চাপ
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ভারতীয় মুদ্রার ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কঠোর অবস্থানও রুপির দুর্বলতাকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগের ধারাবাহিক বহিঃপ্রবাহ এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের দুর্বল প্রবাহ ভারতের চলতি হিসাব ও বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতিকে চাপের মুখে ফেলছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শুক্রবার ফিউচার মার্কেটে ৩.২০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯.২০ ডলারে পৌঁছেছে। যেহেতু ভারত তার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে, তাই তেলের উচ্চমূল্য সরাসরি দেশটির আমদানি ব্যয় বাড়াচ্ছে। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি ও মুদ্রার ওপর চাপ আরও বাড়ছে।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগ সংকট
বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, শেয়ারবাজারে তুলনামূলক উচ্চ মূল্যায়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক শক্তিশালী বিনিয়োগ সুযোগের অভাবও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় বাজার থেকে দূরে রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের আধিপত্য এবং জ্বালানি ব্যয়ের চাপ অব্যাহত থাকলে ভারতীয় রুপির ওপর স্বল্পমেয়াদে চাপ আরও বাড়তে পারে।
ভারতীয় রুপির রেকর্ড পতনে ১ দিরহাম এখন ২৬ রুপির বেশি
রুপির বড় পতনে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা নতুন রেকর্ড নিম্নে। তেলের দাম ও বিদেশি বিনিয়োগ সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















